Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 97

‘নারীর প্রতি নারীরও সহমর্মী হওয়া প্রয়োজন’

শাশ্বতী মাথিন

‘আস্সালামু আলাইকুম। মোহসেনা শাওন আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি এনটিভির দুপুরের খবরে।’- টেলিভিশনের পর্দা খুলে সংবাদ দেখতে গেলে এভাবেই যেই মানুষটির সুন্দর মুখশ্রী প্রায়ই সামনে ভেসে উঠে তিনি মোহসেনা শাওন। দর্শকদের কাছে তিনি হাজির হন দেশ-বিদেশের নানা খরবের ঝুলি নিয়ে। কখনো সেই খবরে থাকে আনন্দ, কখনো শোক। নিজের আবেগকে সংযত করে দর্শকদের জানিয়ে যান সেই সংবাদ।

মোহসেনা শাওন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যুক্ত রয়েছেন সংবাদ উপস্থাপনার সঙ্গে। শুরুতে মাইটিভি, এরপর এটিএন নিউজে কাজ করেন। বর্তমানে এনটিভির সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্সটিটিউটে সংবাদ উপস্থাপনার কোর্স করাচ্ছেন।

টেলিভিশনের পর্দায় যেই মানুষটির হাস্যোজ্জ্বল মুখাবয়ব দেখলে আমরা আনন্দিত হই, তার জীবন কিন্তু এতোটা সহজ ছিল না। গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য শুনতে হয়েছে অনেক কটু কথা। নোংরা ইঙ্গিতও পেতে হয়েছে। কখনো কখনো কাজ করতে গিয়ে ভীষণভাবে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিষণ্ণতায় ভুগেছেন, কেঁদেছেন। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে হয়ে উঠেছেন মোহসেনা শাওন; বাংলাদেশের স্বনামধন্য সংবাদ উপস্থাপক। সাতকাহন২৪.কম-এর নারী দিবসের বিশেষ আয়োজনে রইল মোহসেনা শাওনের চড়াই-উৎড়াইয়ের গল্প।

মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত
মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত

ছোটবেলাটা খুব আনন্দময় ছিল

আমার ছোটবেলা খুব আনন্দময় ছিল। চট্টগ্রাম শহরে বড় হয়েছি। বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার চাকরিসূত্রে পোস্টিং ছিল চট্টগ্রামে। এ কারণে আমার জন্ম ও বড় হওয়া চট্টগ্রামে। আমার স্কুল জীবন এখনকার বাচ্চাদের মতো এতো কঠিন ছিল না। এখনকার বাচ্চারা যেমন বাইরে খেলতে যেতে পারে না, সারাক্ষণ গেজেট নিয়ে পড়ে থাকে, আমাদের সময়টা তেমন ছিল না। স্কুলের পর আমরা যে সময় পেতাম বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারতাম। মাঠে যেতে পারতাম, খেলতে পারতাম, গাছে উঠতে পারতাম- এগুলো এখন আসলেই নেই। আমি বলব, অনেক মধুর একটা শৈশব কাটিয়েছি। সুন্দর একটি শহরে বড় হয়েছি, পাহাড়-সমুদ্রের মাঝে, সেটার একটা আনন্দও আসলে ছিল।

আমার স্কুলে একটি সংগঠন ছিল, ‘হলদে পাখি’ নামে। এর সদস্য ছিলাম। অনুষ্ঠান অরগানাইজ করতাম, অংশগ্রহণ করতাম। স্কুলে ও কলেজে থাকার সময় চট্টগ্রামের পত্রিকা পূর্বকোণ, দৈনিক আজাদী-তে লেখা দিতাম। গার্লস গাইড করেছি, স্কাউট করেছি, মঞ্চনাটক করেছি, আবৃত্তি করেছি। সংস্কৃতিক দিকের প্রতি একটি ভীষণ দুর্বলতা ছিল।

আমার লেখাপড়া পুরোটাই চট্টগ্রামে। এসএসসি, এইচএসসি শেষ করার পর জিওগ্রাফি অ্যান্ড ইনভারোনমেন্টাল সাইন্স থেকে গ্রেজুয়েশন করি। সেটিও চট্টগ্রাম থেকেই।

আমার পেশার শুরুতে কয়েকটি জায়গায় করেছি। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিতে পাবলিক রিলেশনের কাজ করি। তবে সেটা কখনো দীর্ঘমেয়াদি ছিল না। সংবাদ উপস্থপনার জায়গাটিতে আমি দীর্ঘ ১৫ বছর রয়েছি এবং এখন এটিই আমার একমাত্র পেশা।

মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত
মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত

মায়ের মৃত্যুর পর বিষণ্ণতায় পড়ি

জীবনের শুরু থেকেই যে সংবাদ উপস্থাপনা করতে চাইতাম, বিষয়টি তেমন নয়। পড়াশোনা শেষ করার আগে আগেই আমার বিয়ে হয়, সন্তানের জন্ম হয়। লেখাপড়া শেষ করার পর ভাবছিলাম কী করবো? এর মধ্যে আমার মা খুব অসুস্থ হয়ে যান। তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর অসুস্থ থাকার পরে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট ভাই-বোনদের ঢাকায় নিয়ে আসি। মায়ের মৃত্যুর পর মারাত্মক বিষণ্ণতায় চলে যাই। এরপর একজন মনোবিশেষজ্ঞ আমাকে চাকরি করার পরামর্শ দেন।

এরপর একটি বড় মাল্টিনেশনাল কোম্পানিতে যোগ দিই। তবে সেখানে ভালো লাগছিল না। আর মনে হতো বাচ্চাটাকে বাসায় রেখে এসছি। বাচ্চাকে কে দেখবে? মন বসছিলো না কাজে। এরপর মনে হলো সংবাদ উপস্থাপনার কাজটিতো আমি করতে পারি। সংবাদ দেখতাম নিয়মিত। আমার আম্মা খবর দেখতেন। এই জায়গাটি আমারও ভালো লাগতো। আর তখনো পর্যন্ত এই কাজটি ফুল টাইম ছিল না। তাই, এটি করলে আমি পরিবারকেও সময় দিতে পারবো, কাজও করতে পারবো- এটা ভেবেছিলাম।

মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত
মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত

সংবাদ উপস্থাপক হতে হলে অবশ্যই ‘নিউজ ম্যান’ হতে হবে

যখন সিদ্ধান্ত নিলাম সংবাদ উপস্থাপক হবো, তখন বেশি করে খবর শোনা শুরু করলাম। সংবাদ জানার চেষ্টা করতাম। প্রতিদিন সংবাদ পড়তাম। রেডিওর খবর শুনতাম, টিভির খবর দেখতাম। বাচ্চাকে হয়তো কোচিংয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সেখানে বসে খবর পড়তাম। পত্রিকা ব্যাগে করে নিয়ে যেতাম। নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। নিউজ পড়ে মোবাইলে রেকর্ড করে বাসার সবাইকে শোনাতাম। অনেকে প্রশংসা করছিল, ‘তোমার ভয়েজ ভালো, উচ্চারণ ভালো- এই কাজটি করতে পারো।’ এরপর সিভি রেডি করলাম। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে সব জায়গায় সিভি দিলাম।

১৫ বছর ধরে সংবাদ উপস্থাপনার কাজ করছি। আমি যাদের শেখাই তাদের বলি, সংবাদ উপস্থাপক হতে হলে প্রথমে নিউজ ম্যান হতে হবে। সমস্ত সংবাদ জানতে হবে। সংবাদের ভেতরে থাকতে হবে। আপডেট থাকতে হবে। স্মার্ট হতে হবে। শুধু মাত্র সেটা পোশাকে নয়, কথা-বার্তা, চলন-বলন-সবকিছুতেই। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে দীর্ঘক্ষণ টেলিভিশনে কেন দেখবে? একজন উপস্থাপকে অবশ্যই দর্শককে আটকে রাখার মতো ক্ষমতা থাকতে হবে।

নতুন যারা এই পেশায় আসছে, তাদের একটি কথা বলতে চাই, এখন অনেকেই রয়েছে খুব তাড়াহুড়ো করে উপরে উঠতে চায়। আমি মনে করি, দ্রুত পথ পার হলে সেটা কখনো ভালো কিছু বয়ে আনে না। অস্থির হওয়া যাবে না। মনোবলকে শক্ত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য একদিন পূরণ হবেই। আসলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

কালো, মোটা এসব নিয়ে কর্মক্ষেত্রে বাজে কথা শুনেছি

কালো, মোটা এসব নিয়ে অনেক বাজে কথা শুনতে হয়েছে। তবে সেগুলো মেধা দিয়ে ওভারকাম করেছি। অনেকের চেয়ে ভালো করছি, তখন এসব বিষয় এড়ানো গেছে। এই পেশায় কাজ করতে গেলে অনেকেরই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। দেখা যায়, অনেকে বাজে মন্তব্য করে। মিডিয়ার মেয়ে মানে ভালো না। এদের হয়তো সহজে পাওয়া যায়, এমন মনে করে। এসব বিষয় শক্তভাবে ওভারকাম করতে হয়েছে।

মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত
মোহসেনা শাওন। ছবি : সংগৃহীত

নারীকে এগোতে হলে মন-মানসিকতায় শিক্ষিত হতে হবে

একজন নারী সামনে এগোতে চাইলে প্রথমে তাকে শিক্ষিত হতে হবে। লেখাপড়ার শিক্ষায় কেবল শিক্ষিত নয়, মননে, সংস্কৃতিতে, মেধায় শিক্ষিত হতে হবে। তার চিন্তা-চেতনাকে অনেক উৎকর্ষে নেওয়া চাই। প্রগতিশীল হতে হবে। আমি যতই শিক্ষিত হই, কিন্তু সংকীর্ণমনা হলে কখনোই শিক্ষিত হতে পারবো না। নারীর জন্য শিক্ষিত হওয়াটা খুব জরুরি। তিনি যদি বাইরে কোনো কাজও না করেন, ঘরেও যদি শিক্ষিত হন, তাও সেটি সংসারের মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

আমি মনে করি, ২০ থেকে ২৫ বছর আগের তুলনায়ও নারীরা অনেক এগিয়েছে। তবে অনেক এগোনোর পরও কোথায় যেন পিছিয়ে রয়েছে। এইচএসসি, এসএসসিতে মেয়েদের ভালো করার হার বেশি। মেয়েরা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাচ্ছে বেশি। সব জায়গায় মেয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরও কোথাও গিয়ে যেনো এগোতে পারে না। সংসার সামলাতে হবে ভেবে নারীকে পিছিয়ে রাখা হয়। নারী তার ক্যারিয়ারের অনেক উচ্চ শিখরে যেতে পারে না কেবল সংসারের চিন্তা করে। আসলে নারী-পুরুষ উভয়কেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে।

পাশাপাশি নারীর জন্য কাজের জায়গা নিরাপদ হওয়া দরকার। মেধা থাকার পরও কেবল নারী বলে অনেকেই বাধার সম্মুখিন হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকার হয়। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। পুরুষ যেমন নির্বিঘ্নে কাজে যায়, একজন নারীর ক্ষেত্রেও সেই সুযোগটা থাকা জরুরি। এইসব বৈষম্য ঠিক করতে হবে। অনেক শিক্ষিত হওয়ার পরও নারীরা এখনো নিরাপদ নয়।

আবার নারীরাও অনেক সময় নারীবান্ধব নয়। নারীর প্রতি নারীরও সহমর্মী হওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে। তাহলে হয়তো সমস্যাগুলো অতিক্রম করা যাবে।

‘নারী কেন সবকিছুতেই আপস করবে?’

শাশ্বতী মাথিন
বর্তমানে বাংলাদেশের সফল নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব ওয়ারেছা খানম প্রীতি। তিনি ফেসবুকভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম হার-ই- ট্রেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ৭১ ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রটারি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

কেবল নিজের উদ্যোগ নয়, অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাদের পন্যের প্রসার ও প্রতিষ্ঠানের সফলতায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তবে শুরুটা এতো সহজ ছিলো না। অনেক প্রতিবন্ধকতা পার করতে হয়েছে, শিকার হতে হয়েছে মানুষের তীর্যক মন্তব্যের। তবুও থামেননি। এগিয়ে যাচ্ছেন নারীর কল্যাণে। নারী দিবসের বিশেষ আয়োজনে তুলে ধরা হলো ওয়ারেছা খানম প্রীতির সঙ্গে কথোপকথনের কিছু মুহূর্ত।

সাতকাহন২৪.কম : আপনার ছোটবেলাটা কেমন ছিলো?
ওয়ারেছা খানম : ছোটবেলা কেটেছে নাটোরে। গ্রামের বাড়িও সেখানেই। আব্বুু চাকরি করতের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। তবে আমরা থাকতাম, গ্রামে; নাটোর সদর থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। আব্বু প্রতিদিন গ্রাম থেকে সেখানে যাতায়াত করতেন। গ্রামের বাড়ির একটি মজা ছিলো। আমি বুদ্ধি হওয়ার আগ পর্যন্ত আব্বু সেখানে একা ছিলেন। আমার দাদা রেলওয়েল বিভাগে চাকরি করতেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূত্রে তাঁর থাকা পরতো। আমার ফুফু, কাকারা- দাদার সঙ্গে থাকতেন। আমার বাবারা অনেক ভাইবোন। আট ভাই, ছয়বোন। প্রথম আব্বুই থাকতেন গ্রামে। আমার বুদ্ধি হওয়ার ঠিক আগেই দাদা অবসরে চলে যান। দাদা সম্পূর্ণ পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। এটা খুব আনন্দের একটি বিষয় ছিলো। আমরা যখন, দুপুরে, রাতে খেতে বসতাম- দেখা যেতো, একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন বসে গিয়েছি। আসলে আমি বেড়েই উঠেছি একান্নবর্তী পরিবারে। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি এত বড় একটি পরিবার। সেই পরিবারের সৌন্দর্য, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, একাত্মতা- এসবের মধ্যেই আমার ছেলেবেলাটা কেটেছে। এরপর বাবা যখন বদলি হয়ে যায়, তখন বিভিন্ন জায়গায় কাটে ছোটবেলা।

আমার প্রাইমারি কেটেছে গ্রামের স্কুলে। তবে পরে নাটোরের সিংরায় এসএসসি, এইচএসসি শেষ হয়। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছি।

ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত
ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত

সাতকাহন২৪.কম : আপনি তো সাংবাদিকতা করেছেন, লেখালিখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন….

ওয়ারেছা খানম : আসলে আমার পেশা জীবনের বেশিরভাগটাই পত্রিকায় কেটেছে। আমি পত্রিকায় চাকরি করতাম, কন্ট্রিবিউটিং করতাম। বাংলাদেশ২৪, বার্তা ২৪, ইমপ্রেস টেলিফিল্মের আনন্দআলো-তে কাজ করেছি। এর মাঝে অন্যান্য পত্রিকাতেও লেখালিখি করেছি। আমার ভালো লাগার জায়গা ছিলো লেখালিখি। ভালো লাগাটাকে প্রাধান্য দিয়েছি। তবে একটা সময় চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করলাম। এর বিভিন্ন উথ্থান-পতন রয়েছে। এটা করতে করতে করোনা চলে এলো। সব থেমে গেলো। এখন পুরোনো সব পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে কাজে নেমেছি।

আমি আসলে কাজের ক্ষেত্রে ভালোলাগাকে বেশি প্রাধান্য দিতাম। তবে এখন যেই কাজটি করি, সেটিই খুব গুরুত্ব দিয়ে করি। একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার জন্য যেই পরিমাণ দক্ষতা প্রয়োজন, সেই জায়গাটি তৈরি হয়েছে।

ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত
ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত

সাতকাহন২৪.কম : হার-ই- ট্রেড করবার ইচ্ছাটা কেন হয়েছিল? বা কী ভাবনা থেকে এটি করা?
ওয়ারেছা খানম : ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট শুরু হয় হার-ই-ট্রেড। ক্রেতা ও উদ্যোক্তা মিলে বর্তমানে এখানে ৪৮ হাজার সদস্য রয়েছে। হার-ই-ট্রেডের মোট পাঁচটি অফলাইন এক্সিবিশন হয়েছে। এপ্রিলের সাত ও আট তারিখ ৬ষ্ঠ এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হবে। করোনাকালীন নারী উদ্যোক্তাদের পন্যের প্রচার ও প্রসারে এই প্লাটফর্ম তৈরি করা।

হার-ই ট্রেড যখন প্রকাশ্যে আসল, অর্থাৎ যেভাবে আমি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলাম, সেটা যখন মানুষের চোখে পড়লো, তখন একটি বিষয় ঘটলো- আমার কাছের কিছু মানুষ যাদের আমি ভাবতাম, তারা নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত, তারাই আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো, কেন আমি গ্রুপটা তৈরি করলাম! আমার গ্রুপ তাদের গ্রুপের কার্যক্রমকে হ্যাম্পার করবে বলে তারা আশঙ্কা করেছে। তাদের এমন মনোভাব আমাকে আহত ও অপ্রস্তুত করেছে। আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে নারীদের নিয়ে এই কার্যক্রম চলমান থাকুক। যেই করুক না কেন একজন নারীরও যদি উপকার হয়, উপকারই তো হচ্ছে।

ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত
ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত

সাতকাহন২৪.কম : বর্তমানে আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান কেমন? কী মনে হয় আপনার?
ওয়ারেছা খানম : নারীর পিছিয়ে পড়ার কারণে আসলে অনেক। সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক সবাই দায়ী। আমাদের সমাজ সবসময় কমপ্রোমাইজ বা আপসের জায়গাটায় নারীকে বসিয়ে দেয়। নারী কেন সবকিছুতেই আপস করবে? আপসের জায়গা শুধু আমার নয়। কমপ্রোমাইজের জায়গায় পুরুষও থাকতে পারে, পরিবারও থাকতে পারে, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব থাকতে পারে। এই কথাগুলো জোড়ালোভাবে বলতে হবে। তবে যখন উর্ব্ধতন অবস্থানে থেকে নারী এসব জায়গায় হাত দেওয়ার সুযোগ পাবে, সবাই তখন সেই সুবিধা ভোগ করবে। নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নের জন্য কয়েকজন নারীকে অন্তত এই পর্যায়ে পৌঁছতে হবে।

ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত
ওয়ারেসা খানম প্রীতি । ছবি : সংগৃহীত

সাতকাহন২৪.কম : নারী দিবসে, নারীর অগ্রগতীর জন্য আপনার পরামর্শ?
ওয়ারেছা খানম : নারী যেন নিজেকে মানুষ মনে করে। নারী যখন নিজেকে মানুষ মনে করবে তখন সে অধিকার সচেতন হবে। অধিকার সচেতন হলে সেই নারী শক্তিশালী হবে। আমাদের একটির সঙ্গে আরেকটি সংযুক্ত। নারীর যেন সবকিছুর প্রতি দায়। তাকে সবকিছুতেই দক্ষ হতে হবে। এটি করতে গিয়ে নারীরা নিজেকে হারিয়ে ফেলে সমাজের ভেতর, পরিবারের ভেতর। এখান থেকে সে বের হতে পারে না। তাকে নিয়মের মধ্যে, ছকের ভেতর ফেলে দেয় সমাজ। এই কাজগুলো নারীর, আর এই কাজগুলো পুরুষের। সুতরাং নারীকে ওই কাজের ভেতরই থাকতে হবে। নারী যখন নিজেকে মানুষ মনে করবে, তখন বুঝতে পারবে সবকিছুর দায় তার নয়। প্রত্যেকে নিপুণভাবে সবকিছু করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মে না। লক্ষীমন্ত নারী, সতী নারী- এইসব শব্দচয়ন করে নারীকে আটকে রাখা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আসলে বের হয়ে আসতে হবে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। সে শুধু একজন নারী নয়, সে একজন মানুষ।

শুরু হচ্ছে রঁদেভু৯৬৯৮ ফাউন্ডেশন আয়োজিত উদ্যোক্তা মেলা

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

রঁদেভু৯৬৯৮ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আনন্দ পসরা’ শিরোনামে একটি উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ, শুক্রবার থেকে ১১ মার্চ, রবিবার পর্যন্ত মহাখালীর রাওয়া হল (ভিআইপি রোড, মহাখালী ডিওএইচএস, ঢাকা-১২০৬)- এ মেলার আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান (ডেপুটি সেক্রেটারি, ইন্টারপ্রেনারশিপ ইকো সিস্টেম প্রোগরাম স্পেশালিস্ট, ইউএনডিপি বাংলাদেশ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করছেন মোহসিনা ইয়াসমিন (গ্রেড-১, সেক্রেটারি, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি)। অনুষ্ঠানে আরো অতিথি হিসেবে থাকছেন আফসানা বিন্দু (অভিনেত্রী ও ডিজাইনার), শাকুর আমিন (ডিজাইনার, আলমিরা), মো. আব্দুস সালাম সরদার (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, এসএমই ফাউন্ডেশন)।

রঁদেভু৯৬৯৮ ফাউন্ডেশন- একটি অলাভজনক অনলাইন প্লাটফর্ম, যেটি তৈরি হয়েছে ‘এসএসসি ৯৬ ও এইচএইসসি ৯৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এই ফেসবুক গ্রুপে বর্তমানে ২২ হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছে। রঁদেভু৯৬৯৮ ফাউন্ডেশন- শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারী উন্নয়ন ইত্যাদি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। ফাউন্ডেশনে রয়েছে বিভিন্ন ওইং। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট, চিল্ডরেন ও ওমেন ওইং অন্যতম। ওমেন ওইং প্লাটফর্মটি প্রতি বছর ‘প্রজাপতির আড্ডা’ নামে নারীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এখান থেকে বিভিন্ন সেক্টরের সফল নারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

এসব সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ফাউন্ডেশনের ওমেন উইং থেকে এবার বড় পরিসরে উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সংগঠন ও সংগঠনের বাইরে থেকে প্রায় ৩০ জনের মতো উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছে। গ্রুপের নতুন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বর্তমানের সফল উদ্যোক্তাদের সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করা এবং ব্যবসায়িক অনুপ্রেরণার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

শিশুর ঘুমে অসুবিধা? এই বিষয়গুলো মেনে চলুন

ডা. নাজনিন উম্মে জাকিয়া

শিশুর ঘুম নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, এমন মা-বাবা কমই পাওয়া যাবে। সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অপরিহার্য। এটি ঠিকঠাকমতো না হলে স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক হলে শিশুকে একটি ভালো ঘুম উপহার দিতে পারবেন।

অনেক শিশু দিনে বেশি ঘুমায় আর রাত প্রায় নির্ঘুম কাটায়। এসব শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের বিড়ম্বনা একটু বেশিই। কারণ, তাদের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়েরও প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। মূলত, নবজাতকেরই এই সমস্যাটি বেশি হয়। কারণ, শিশু দীর্ঘদিন মাতৃগর্ভে থাকার কারণে পৃথিবীর আলোতে এসে দিন-রাত বুঝতে পারে না। তা ছাড়া শিশুর মগজের যে অংশ দিন ও রাত বুঝতে পারে তা পরিণত হতেও সময় লাগে। আর এ কারণেই মূলত নির্ঘুম রাত কাটায় নবজাতক। এভাবে চলে শিশুর বেশ কয়েকটা মাস। সব শিশুই প্রয়োজনমতো ঘুমিয়ে নেয়। তাই সে যতক্ষণ ঘুমাতে চায়, ঘুমাতে দিন।

শরীর খারাপ থাকলে, বিশেষ করে শিশুর পেটে ব্যথা হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। পেটের ব্যথা বা ইনফেনটাইল কলিকের শিকার শিশুরা পেটে ব্যথার কারণে সারা রাত কান্নাকাটি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সিমেথিকন ড্রপ বেশি উপযোগী। তবে কখনই গ্রাইপ ওয়াটার নয়।

যাদের শিশু রাতে ঘুমায় না আর সারাদিন ঘুমিয়ে কাটায় তাদের বিড়ম্বনা সবচেয়ে বেশি। কিছু পদ্ধতি মেনে চললে শিশু দিন ও রাতের পার্থক্য দ্রুত বুঝতে পেরে দিনে জেগে থেকে রাতে ঘুমাতে শুরু করে।

# ঘরে উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখুন দিনের বেলায়। পরস্পরের সঙ্গে উঁচুস্বরে কথা বলুন, বাচ্চার সঙ্গেও কথোপকথন চালান।
# মিউজিক ও টিভিও চালাতে পারেন।
# দিনের বেলায় অতিথি এলে শিশুকে ঘুম থেকে তুলতে সংকোচ করবেন না। তবে দিনের বেলায় শিশুকে একবারে নিঘুর্ম রাখতে হবে তা নয়। শিশু দুই থেকে চার বার এক-দেড় ঘণ্টার ঘুম দিতে পারে। তবে সন্ধ্যা ৬টার পর যেন না ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খেলা, কথা বলা ও মিউজিক এ
সময়ও চালিয়ে যেতে হবে।
# শিশু যেন দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে পায়ে আলতো টোকা দিন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুছে দিলে শিশু ফ্রেশ থাকবে। এতে
ঘুমাবেও কম। সন্ধ্যা থেকে শিশুকে জাগিয়ে রাখলেও রাত আটটা থেকে নয়টার পর থেকেই ঘুমের আয়োজন শুরু করে দিন। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দিন। ঘুমের
আগে শিশুকে সর্বশেষ রাত ১০টার দিকে খাওয়াতে চেষ্টা করুন। এরপর শিশু না ঘুমালেও তাকে বিছানায় নিয়ে যান। এ সময় ছড়া বা গান শোনাতে পারেন। তবে টিভির ধারে কাছেও নিবেন না। কোলে নিয়ে বা দোলনায় দোল
দিয়ে শিশুকে তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়ানো যায়।
#মাতৃগর্ভে থাকার সময় মায়ের হাঁটাচলা ও নড়াচড়ার কারণে গর্ভের শিশু দোল অনুভব করে। জন্মের পরেও এই দোল
খাওয়াটা শিশুরা পছন্দ করে। প্রথম কয়েকদিন রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা হলেও একটু ধৈর্য ধরে এসব পদ্ধতি মানলে এক থেকে দুই মাসেই শিশু রাতে ঘুমাবে। তবে
সতর্ক থাকতে হবে ছয় মাস পর্যন্ত । কারণ, শিশুর ঘুমের প্রকার ও সময় নির্দিষ্ট হতে ছয় মাস লেগে যায়। ঘুমের এসব পদ্ধতি অবলম্বনের সময় খুব কঠোর হওয়া যাবে না। জবরদস্তিও করা উচিত নয়।

লেখক : সহকারি অধ্যাপক শিশু বিভাগ,এনআইসিভিডি

নারীকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন আফরোজা পারভীন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আফরোজা পারভীন বাংলাদেশের বিউটি ইন্ডাসট্রিতে অত্যন্ত পরিচিত এক মুখ। বিউটি ও গ্রুমিং বিশেষজ্ঞ এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রায় ২০ বছর ধরে এই ইন্ডাসট্রিতে সফলভাবে কাজ করছেন তিনি।

আফরোজা পারভীন সৌন্দর্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন ডিবিসি নিউজ ও কালারস এফএম-এ। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে রূপ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়মিত তাঁর পরামর্শ প্রচার ও প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের চুয়াডাঙা জেলার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে আফরোজার পারভীন তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৪ সালে আইডিএলসি সম্মাননা পান। এ ছাড়া অনুপ্রেরণামূলক পরিবর্তনের জন্য এমজিএইচ গ্রুপ এবং কর্মক্ষেত্রে সফল নারী হিসেবে বেসিস- এর কাছ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

তিনি তৈরি করেছেন দেশের বড় ও সফল গ্রুমিং এন্টারপ্রাইজ ‘রেড বিউটি স্টুডিও ও স্যালন’। এটি তাঁর সফল উদ্যোগগুলোর ভেতরে একটি। প্রতিষ্ঠানটি বড় হওয়ার পেছনে রয়েছে আফরোজা পারভীনের একনিষ্ঠতা ও অধ্যাবসায়। তিনি জানান, আমার প্রথম ব্যবসা রেড বিউটি স্যালুন। ২০০৮ সালে শুরু করি এটি। প্রতিষ্ঠানের মালিক মেয়ে হবে, বিষয়টিকে সমাজ আসলে সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। রেড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। নারী মালিক- এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বাড়িওয়ালারা ভাড়া দিতে চাইতো না। আমাকে শুরুর দিকে তিনটি বাড়ি পাল্টাতে হয়। অফিস ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালাকে বুঝাতে হয়েছে। বর্তমানে ‘রেড’ বাংলাদেশে একটি অন্যতম বিউটি স্যালন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।’

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এ ছাড়া আফরোজা পারভীন বিউটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘উজ্জ্বলা’র সহ প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা। নতুন প্রজন্মের নারী ও পুরুষ যেন বিশ্বমানের ‘বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং’ শিখে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে, সেই চিন্তা থেকে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। আফরোজা পারভীন বলেন, ‘উজ্জ্বলা আসলে একটি সামাজিক উদ্যোগ। এটি বিউটি ও গ্রুমিং সেক্টরে নারী ও পুরুষকে সমানতালে প্রশিক্ষণ দেয় এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করে। উজ্জ্বলার বিভিন্ন কোর্স করার মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারছে এবং দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তরুণ শক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।’

একজন ব্যক্তি দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হতে পারলে দেশ ও বিদেশে তার ব্যাপক চাহিদা থাকে। আমাদের দেশে এই সেক্টরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ কম। ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে খরচ অনেক বেশি। অনেকের পক্ষেই সেই সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে উজ্জ্বলা থেকে আমরা স্বল্প খরচে মেকআপের বেসিক থেকে অ্যাডভান্স কোর্সগুলো করিয়ে থাকি। কিস্তিতে টাকা দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি উজ্জ্বলায় রয়েছে হোস্টেল। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এসে শিক্ষার্থীরা এখানে কোর্স করতে পারে। এ ছাড়া আমরা পুরুষদেরও বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দিই। অন্যান্য অনেক জায়গায় সেই সুবিধাগুলো নেই। একজন শিক্ষার্থীকে কেবল শিখিয়ে দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয় না। তাকে ফলোআপ করা হয়। উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা করি আমরা- জানান তিনি।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পেশাদার অর্জনের বাইরেও আফরোজা বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে যাচ্ছেন। তিনি বিউটি সার্ভিস ওউনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- এ যুক্ত ছিলেন। তিনি বিডাব্লিউসিসিআই- এর পরিচালক এবং নতুন প্রজন্ম উন্নয়ন উদ্যোক্তা-এর পরিচালক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি রঁদেভু ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার। পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কেবল একার জন্য নয়, আফরোজা পারভীন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন অগণিত নারীর জন্য। তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি হাজার হাজার নারীকে বিউটি প্রশিক্ষণ দিয়ে করে তুলছেন স্বাবলম্বী।তিনি বলেন, ‘আমি নারীর পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়াতে চাই। আমি একজন মা, আমার মতো এ রকম আরও মা-মেয়ে রয়েছেন, যারা সমাজে ভীষণ লড়াই করছেন। একজন মেয়ের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়াটা খুব জরুরি। এখানে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারলে মানসিক স্বাধীনতাও আসবে।’

আফরোজা পারভীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টের ওপর অনার্স করেন। এ ছাড়া তিনি এমএসি ইন্সটিটিউট (বেঙালুর, ভারত) থেকে মেকআপের ওপর ডিপ্লোমা করেন। তিনি একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনারও।

পদক পেলেন আবৃতি ও বাচিকশিল্পী নাজিয়া আফরিন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

নারী শিক্ষার পথিকৃৎ ‘নওয়াব ফয়জুন্নসা চৌধুরানী ও ভাষাসৈনিক শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পদক ২০২৩’ পেলেন তরুণ কবি, আবৃতি ও বাচিকশিল্পী নাজিয়া আফরিন।

গত শুক্রবার (৩ মার্চ), বিকেল ৪ টায়, রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন উষসী পরিষদের গৌরবময় ৪২বছর পূর্তি উপলক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক গুণীজনদের হাতে এই সংবর্ধনা প্রদান করেন।

এ সময় নয় গুণীজনের হাতে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে পদক মানপত্র গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন নাজিয়া আফরিন।

নাজিয়া আফরিন বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার প্রতিটি লেখা ও কণ্ঠস্বর যেন মানবতার জয়গান ও অধিকারের জন্য কল্লোলিত হয়।
আমি কতটুকু যোগ্য এই পুরস্কারের জন্য জানি না। তবে তরুণ সমাজকে এভাবে অনুপ্রেরণা দিলে তারা অদম্য স্পৃহায় দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে পারবে।’

নাজিয়া আফরিন ব্যক্তিগত জীবনে একজন সমাজ উন্নয়নকর্মী। তিনি শিশু, কিশোরী ও মায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে কাজ করে আসছেন। জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতেও তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা ছাপা হয় প্রতিনিয়ত। তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘অনুভবের অনুভূতি’ অমর একুশে বইমেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। তিনি ইতোপূর্বে বিশ শব্দের গল্প সংকলন নামক বইও প্রকাশ করেন। অচিরেই তাঁর লেখা উপন্যাস ‘নীলচে বেদনায় চাঁদের হাসি’ প্রকাশের অপেক্ষায়।

স্তন ক্যানসার : কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

স্তন ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারীর জন্য এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ। পৃথিবীতে নারীর যেসব ক্যানসার হয়, এর মধ্যে স্তন ক্যানসার এক নম্বর। ক্যানসার জনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে এটি।

এক সময় ভাবা হতো শুধু নারীরাই বুঝি এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এখন দেখা যাচ্ছে শুধু নারী নয়, পুরুষও আক্রান্ত হতে পারে এতে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগের হার অনেক কম।

স্তন ক্যানসারের কারণ

আর সব ক্যানসারের মতোই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল হলো এটি । ঠিক কী কারণে স্তন কোষে এই অস্বাভাবিক বিভাজন হয়, তা জানা যায়নি। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ত্রুটিযুক্ত জিন এই ক্যানসারে ভূমিকা রাখে। তবে এর বেশ কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরের কথা জানা যায়।

যেমন-
-একই পরিবারের দুই বা ততোধিক নিকটাত্মীয়ের স্তনের ক্যানসার।
-একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অন্যান্য ক্যানসার- বিশেষ করে মলাশয় ও ভ্রুণকোষের ক্যানসার, সেইসঙ্গে স্তন ক্যানসার।
– বন্ধাত্ব বা বেশি বয়সে সন্তান হওয়া।
-খুব অল্প বয়সেই ঋতুস্রাব হওয়া কিংবা বেশি বয়সে মেনোপজ হওয়া।
-গর্ভনিরোধক পিল খাওয়া।
– হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)।
– শিশুকে বুকের দুধ পান না করানো।
– অ্যালকোহল।
-ধূমপান।
– স্থূলতা।
-অধিক চর্বিজাতীয় খাবার ও শারীরিক কর্মহীনতা।

তবে মনে রাখতে হবে স্তন ক্যানসার সংক্রামক রোগ নয় এবং একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে এই রোগ ছড়ায় না।

লক্ষণ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় স্তনে এক ধরনের চাকা, যা মূলত বেদনাহীন। এ ছাড়াও আরো যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো-
– স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন।
– স্তনের ত্বকে কুঁচকে যাওয়া।
– স্তনের বোঁটা ভেতর দিকে ঢুকে যাওয়া
– স্তনের বোঁটা থেকে রক্তসহ তরল পদার্থের ক্ষরণ।
-স্তনের বোঁটায় বা তার চারপাশে চুলকানির মতো হওয়া।
– বগলের লসিকাগ্রন্থিগুলো ফুলে যাওয়া।

পরীক্ষা
স্তন ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য নিচের পরীক্ষাগুলাে করা হয়।
১. ম্যামোগ্রাম
২. আলট্রাসনোগ্রাম
৩. এফএনএসি ( ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন সাইটোলজি )
৪. নিডল (কোর) বায়োপসি
৫. এক্সিসন বায়োপসি
৬. রক্ত পরীক্ষা।

এ ছাড়া ক্যানসার শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েছে কি না সেটা দেখার জন্যও কিছু পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগুলো হলো-
১. পেটের আলট্রাসনোগ্রাম
২. হাড়ের স্ক্যান
৩. সিটি স্ক্যান
৪. এমআরআই
৫. পিইটি স্ক্যান।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের উপায়

পরিবর্তনযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং সেগুলো এড়িয়ে চলাই হলো স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান ধাপ। যেমন : পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অধিক চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পরিশ্রমহীন জীবন পদ্ধতি পরিবর্তন করা ও নিয়মিত ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত ওজন ঝেড়ে ফেলা, শিশুকে নিয়মিত স্তন্যদান, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা ইত্যাদি।

প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে এর নিরাময় সম্ভব। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষংগ হলো প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ শনাক্ত করা।
চল্লিশোর্ধ মহিলাদের বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। এতে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়ে।

২০ থেকে ৪০ বছরের নারীদের তিন বছরে একবার অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে স্তন পরীক্ষা করা উচিত।

২০ বছর বয়স থেকে মেয়েদের নিয়মিত নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করতে হবে। একে বলে সেল্ফ এক্সামিনেশন। এর সঠিক পদ্ধতিটি কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে।

চিকিৎসা
বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি স্তন ক্যনসারে ব্যবহৃত হয়। সার্জারি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেট থেরাপি, রেডিওথেরাপি। রোগের ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। কখনো একক, কখনো সম্মিলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একবার ভালো হয়ে গেলে রোগ আবার ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলোআপ করতে হয়।

সূচনায় ধরা পড়লে স্তন ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই সচেতনতাই হতে পারে এই প্রাণঘাতী রোগের একমাত্র রক্ষা কবচ।

লেখক : রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

টিনটেড ময়েশ্চারাইজার তৈরির ঘরোয়া উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

মেকআপের পন্য মানেই যেন ফাউন্ডেশন, কনসিলার বা কমপ্যাক্ট। তবে এর বাইরে আরো পন্য রয়েছে যেগুলো মেকআপের ধাপকে সমৃদ্ধ করতে বেশ ভালো কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে টিনটেড ময়েশ্চারাইজারের কথা।

এই ময়েশ্চারাইজার ত্বককে আর্দ্র রেখে এমন একটি আভা তৈরি করে, যা বাড়তি সৌন্দর্য দেয়। বাজারে বহু টিনটেড ময়েশ্চারাইজার রয়েছে। তবে ঘরে বসেও এ ধরনের একটি পন্য অনায়াসে তৈরি করতে পারেন আপনি।

নিউ ইয়র্কের এস. ডাব্লিউ ব্যাসিকস-এর কর্ণধার ও ন্যাচারাল বিউটি এক্সপার্ট অ্যাডিনা গ্রিগোর এবং নিউহয়র্ক শহরভিত্তিক চর্মবিশেষজ্ঞ ড. মারসিকা গারসিকের পরামর্শ নিয়ে সৌন্দর্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বাইরাইডডটকমে জানানো হয়েছে
কয়েক ধরনের ত্বক অনুযায়ী টিনটেড ময়েশ্চারাইজার তৈরির ঘরোয়া উপায়। আসুন জানি সেগুলো-

কালো টোনের জন্য : লবঙ্গসমৃদ্ধ টিনটেড ময়েশ্চারাইজার

লবঙ্গের মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ও প্রদাহ প্রতিরোধী উপাদান। এই ময়েশ্চারাইজারটি ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য উপকারী। বিউটি এক্সপার্ট অ্যাডিনা গ্রিগোর জানান- এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে উপকারী।

উপাদান
# একটি ছোট জার
# একটি চামচ
# আপনার পছন্দের কোনো ময়েশ্চারাইজার
# দুইটি লবঙ্গ গুঁড়া

যেভাবে তৈরি করবেন
১. জারের মধ্যে আপনার পছন্দের ময়েশ্চারাইজার এক টেবিল চামচ নিন।
২. এর মধ্য লবঙ্গ গুঁড়া মেশান।
৩. ভালোভাবে মেশাতে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রং না পাওয়া যায়।
৪. এরপর একে ত্বকে মাখুন। তবে প্রদাহ বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে মাখা থেকে বিরত থাকুন।
৫. সমস্যা না হলে সারা মাসই মেকআপের আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

মধ্যম স্কিন টোনের জন্য : কোকা পাউডার টিনটেড ময়েশ্চারাইজার

কোকা পাউডার মিডিয়াম টোনের ত্বকের জন্য ভালো। এই পাউডারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটিও ফ্রি রেডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে। এটি ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে উপকারী- জানান বিউটি এক্সপার্ট অ্যাডিনা গ্রিগোর।

উপাদান

# একটি ছোট জার
# একটি চামচ
# আপনার পছন্দের কোনো ময়েশ্চারাইজার
# পরিমাণমতো কোকা পাউডার

যেভাবে তৈরি করবেন
১. এক টেবিল চামচ পছন্দের ময়েশ্চারাইজার জারের মধ্যে নিন।
২. এবার এতে কোকা পাউডার মেশান।
৩. ভালোভাবে মেশান যেন দানা দানা না থাকে।
৪. এবার ত্বকের যেকোনো একটি অংশে মেখে নিশ্চিত হোন, এটা আপনার গায়ের রঙের সঙ্গে মানাচ্ছে কি না এবং কোনো পার্শ্বপতিক্রিয়া হচ্ছে কি না।
৫.পার্শ্বপতিক্রিয়া না হলে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

হালকা স্কিন টোনের জন্য : জায়ফলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও টোন বাড়াতে জায়ফল ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এটি ত্বকের মৃতকোষ দূর করতেও উপকারী। চর্মবিশেষজ্ঞ ড. মারসিকা গারসিক বলেন, ‘এ ছাড়া এটি ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহ কমায়। ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য এটি উপকারী।’

উপাদান
# একটি ছোট জার
# একটি চামচ
# আপনার পছন্দের কোনো ময়েশ্চারাইজার
# একটি জায় ফল গুঁড়া

যেভাবে তৈরি করবেন
১. এক টেবিল চামচ পছন্দের ময়েশ্চারাইজার ছোট জারে নিন।
২. জায়ফল গুঁড়া ময়েশ্চারাইজারের মধ্যে মেশান।
৩. ভালোভাবে মেশান যেন দানা না থাকে।
৪. এবার আগের মতোই একে ত্বকের একটি অংশে মেখে দেখুন কেমন লাগছে এবং কোনো প্রদাহ হচ্ছে কি না।
৫. অসুবিধা না হলে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।

সহজে ওজন কমান ৭ উপায়ে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ওজন কমানো নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই অনেকের। অনেকে আবার দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতায় পড়ে বেশি খাওয়া শুরু করে দেয়। আর এতে রেহাই তো মেলেই না, উল্টাে ওজন বাড়ে। তবে একটু সতর্ক হয়ে কিছু বিষয় মেনে চললে কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ধীরে ধীরে এটি কমানো সম্ভব। ওজন কমানোর কিছু সহজ উপায় জানিয়েছে ওয়েবসাইট এনএইচএস ডট ইউকে।

সকালের নাস্তা বাদ নয়
অনেকেরই ধারণা সকালের নাস্তা বাদ দিলে ওজন কমে। ধারণাটি একদমই ভুল। ওজন কমাতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সকালের নাস্তা খেতে হবে। কেননা, এ সময় খাবার বাদ দিয়ে পরের বেলায় বেশি ক্ষুধা লেগে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যাবে। এতে ওজন তো কমবেই না, উল্টো বাড়বে।

সবজি ও ফল বেশি খান
আমরা সাধারণত থালা ভরে ভাত নেই। তরকারি বা সবজি থাকে খুব অল্প। কিন্তু নিয়মটা হলো, সবজি বা প্রোটিন বেশি খেতে হবে, আর ভাত খেতে হবে কম । দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফলও রাখতে হবে। ফল ও সবজিতে কার্বহাইড্রেট কম থাকে। এটি ওজন কমাতে কাজ করে।

কায়িক পরিশ্রম করুন
হাঁটুন, দৌড়ান, নাচুন, ঘরের কাজ করুন- মোদ্দাকথা কায়িক পরিশ্রম করুন। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমাতে যে খুব উপকারী সে তো আর অজানা নয়।

পরিকল্পনা করুন
যখন যা মনে হলে, হুট করে খেয়ে নিলেন; খাবারের কোনো সময় জ্ঞান নেই- এমন করলে কিন্তু চলবে না। খাবার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় এবং কোন বেলায় কোন খাবারটি খাবেন সেটি নির্ধারণ করুন। সকালে হয়তো একটি ছোট রুটি, সবজি বা ডিম খেলেন। মধ্য সকালে খেলেন এক কাপ গ্রিন টি, সঙ্গে রইলো দুটো টোস্ট বিস্কিট। আবার দুপুরে হয়তো খেলেন এক কাপ ভাত, এক কাপ সবজি, দুই টুকরো মাছ বা মাংস ও সালাদ। এভাবে আপনার খাবারের রুটিন তৈরি করে নিন। অল্প অল্প করে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পর খাবার খান।

জাঙ্ক ফুড নয়
জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড খাদ্যতালিকা থেকে একদমই বাদ দিতে হবে। সঙ্গে বাদ দিতে হবে কোল্ডড্রিংস বা মিষ্টি জাতীয় খাবার। এগুলো ওজন বাড়ায়।

আঁশ জাতীয় খাবার খান
আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। এতে অন্য খাবার বেশি খাওয়া হয় না। সবজি, ফল, লাল আটা, বিচি জাতীয় খাবারে আঁশ থাকে। এ ধরনের খাবার ওজন কমাতে কার্যকর।

শিশুর জন্য প্রতিদিন কতটুকু পানি জরুরি?

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

শিশুর কতটুকু পানি প্রয়োজন তা আসলে নির্ভর করে তার অবস্থা, ওজন ও বয়সের ওপর। জ্বর বা অসুখের সময় পানির বেশি প্রয়োজন পড়ে। বেশি গরম পড়লে, খেলাধুলা করলে বেশি পানি দিতে হবে। ডায়রিয়াতেও প্রয়োজন বেশি পানি। অপরদিকে শরীরে পানি জমলে বা ইডিমা হলে পানি পান কমিয়ে দিতে হয়।

শিশুর প্রতিদিনের পানির চাহিদা

# বয়স সাত থেকে ১২ মাসের ভেতর হলে দৈনিক আধা থেকে পৌনে এক লিটার পানি পান করতে হবে।
# এক থেকে তিন বছরের শিশুর জন্য প্রতিদিন এক থেকে সোয়া এক লিটার পানি প্রয়োজন।
# চার থেকে আট বছরের শিশুর লাগবে দেড় থেকে দুই লিটার পানি।
# নয় থেকে ১৬ বছর বয়সে দুই থেকে আড়াই লিটার হলেই চলবে।

তবে এই পরিমাণটা হলো সারাদিন তরল বা তরল জাতীয় খাবারের মোট জলীয় অংশের। অর্থাৎ এটা যে শুধু পানিই হতে হবে এমন নয়। অন্যান্য তরল খাবার হলেও চলবে।

তাই আপনার পাঁচ বয়সের শিশুকে একেবারে দেড় লিটার পানি খাওয়াতে হবে, তা কিন্তু নয়। শিশু যে প্রতিদিন গরুর দুধ খায় সেই দুধেও শতকরা ৮৭ ভাগই জলীয় অংশ। দইয়ে ৮৯ শতাংশ, আনারসে ৮৮ শতাংশ, কলায় ৭০ শতাংশ, আমে ৮১ শতাংশ, পটলে ৯৩ শতাংশ পানি থাকে। সুতরাং পানি খাওয়ানো হচ্ছে না, এটা ভেবে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

তবে পানির অভাব পূরণের জন্য কোল্ড ড্রিঙ্কস বা বাইরের পেকেটজাত জুস খাওয়ানো যাবে না। কোনো শিশুর পানি গ্রহণ কম হচ্ছে কি না তা প্রাথমিকভাবে বুঝবেন তার প্রস্রাব দেখে। শিশু প্রতিদিন যে পরিমাণ প্রস্রাব করতো পানি শূন্যতা হলে তার চেয়ে কম করবে। পানি শূন্যতার অন্যান্য লক্ষণ হলো বাচ্চা খুব অস্থির থাকবে, চোখ ভিতর দিকে ঢুকে যাবে, জিহ্বা শুকিয়ে যাবে, নাড়ি বা পালস দুর্বল কিন্তু দ্রুত হবে।

ছয় মাসের পর থেকেই কিন্তু শিশুকে বাড়তি পানি খাওয়াতে হবে। এক বছর বয়সে শিশুরা সাধারণ নিজে নিজে পানি খেতে পারে। খিচুড়ি খাওয়ানোর পর এ সময় প্লাস্টিক বা ম্যালমাইনের গ্লাসে পানি দিয়ে দিন। তাকে রঙিন আকর্ষণীয় মেলামাইনের বা স্টিলের মগ বা গ্লাসে পানি ঢেলে ধীরে ধীরে পানি খেতে শেখান। দেখবেন, পরে নিজে থেকেই পানি পান করবে।

মনে রাখতে হবে ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে স্যালাইন ও পানি খেতে হবে। শিশুর যেকোনো অসুস্থতাতেও বেশি পরিমাণে পানি খাওয়াতে ভুলবেন না যেন।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.