Tuesday, September 22, 2026
spot_img
Home Blog Page 142

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে আপেল

অনন্যা চৈতী
দেহের রক্ত পরিশোধিত করতে আপেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভিটামিন, খনিজ ও আঁশসমৃদ্ধ এই ফলটি খুব সহজেই হজম হয়।

এ ছাড়া ফলটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আপেলের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পেকটিন কোলন, ব্রেস্ট, ফুসফুস ও লিভার ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী। আপেলের মতো আরো কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে উপকারী। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূরকারী কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বাঁধাকপি
বাঁধাকপিতে রয়েছে রিবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ও কে। এ ছাড়াও মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি। বাঁধাকপিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ভিটামিনই রয়েছে।

অ্যান্টিক্যানসার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ বাঁধাকপি আমাদের পরিপাক তন্ত্রকে পরিশোধিত করে লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাঁধাকপি খায় তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

বিট
বিটের খাদ্যগুণ অশেষ। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে উপকারী। শুধু তাই নয়, বিট রক্তশূন্যতার সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত বিট খেলে মল পরিষ্কার হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবজিটি রোগ-জীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করতে অত্যন্ত উপকারী।

সঙ্গীকে কখনোই বলবেন না ৩ কথা

ফিচার ডেস্ক

প্রেম, ভালোবাসা, ঝগড়া দাম্পত্য জীবনের প্রাত্যহিক অংশ। তবে সারাক্ষণ একে অপরের ভুলত্রুটি ধরতে থাকলে কিন্তু সম্পর্ক ফিকে হয়ে আসে। ছোট ছোট বিতর্কও তখন বড় ঝগড়ায় রূপ নেয়।

তবে মনোমালিন্য যত বড় রূপ ধারণই করুক না কেন, কিছু কথা কিন্তু সঙ্গীকে কখনোই বলা সঠিক নয়। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই দিয়েছে এমনই এক তালিকা, যা রাগের মাথায়ও সঙ্গীকে না বলাই ভালো।

১. থামো, আমাকে বলতে দাও
ঝগড়া দুই পক্ষ থেকেই হয়। ভুলত্রুটি কখনো কারো বেশি, কখনো কম। তবে সব সময় একজনেরই ভুল হতে পারে না। হতে পারে আপনাদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, এরপরও তাকে কথা বলার সুযোগ দিন এবং কী বলতে চায় শুনুন।

২. সব তোমার দোষ
দোষ কখনো কারো একার হতে পারে না। দাম্পত্য কলহ তৈরিতে অল্পবিস্তর সবারই দোষ থাকে। তাই একজনকে সব সময় দোষারোপ না করে বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করাই শ্রেয়।

৩. তুমি বদলে গেছ
তুমি বদলে গেছ, আগের মতো নেই—ঝগড়ার সময় এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা দুজন নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাই এমন কোনো বা শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো, যেগুলো আপনাদের ভেতর শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা নষ্ট করে।

৩ বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করে সবাই

ফিচার ডেস্ক

প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্র; তাদের ব্যক্তিসত্তাও আলাদা। প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই কিছু গোপন বিষয় রয়েছে, যেগুলো সে হয়তো কখনোই কাউকে জানাতে চায় না। সেগুলো তার একেবারেই নিজস্ব বিষয়। তবে জানেন কি, কিছু প্রচলিত বিষয় অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই রয়েছে, যেগুলো প্রকাশে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তারা ? এমন কিছু গোপন বিষয়ের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

১. প্রথম চুম্বন
কিশোর বয়সে প্রেমে পড়েন অনেকেই। তবে সেই প্রেম টিকতে দেখা যায় কমই। সেই সময়ের প্রেমে চুম্বন হলে সে কথা বলতে অস্বস্তি হওয়াই স্বাভাবিক।

২. পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
জীবন গতিময়। অতীত নিয়ে খুব কম মানুষই পড়ে থাকে। সম্পর্ক আগায়। বিয়ের পর এসব সম্পর্ক নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে অনেকেই পছন্দ করেন না।

৩. পারিবারিক দ্বন্দ্ব
প্রতিটি পরিবারের দ্বন্দ্ব-সমস্যা ভিন্ন রকম। বুদ্ধিমান মানুষ নতুন স্ত্রী বা স্বামীর কাছে এসব সমস্যা গোপনই রাখতে চান।

পিরিয়ডের সময় অবশ্যই খান ৩ খাবার

ফিচার ডেস্ক

পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের সময় পেটব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তবোধ করা সাধারণ সমস্যা। তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো পিরিয়ডের সময়ও আপনাকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে। এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন।

আদা
এক কাপ আদা-চা পিরিয়ড-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে উপকারী। আদায় রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি পেশির ব্যথা কমায়। এ ছাড়া আদা বমি বমি ভাব কমাতেও সাহায্য করে। তবে দৈনিক চার গ্রামের বেশি আদা না খাওয়াই ভালো। এতে বুক জ্বালাপোড়া ও পেটব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।

বাদাম
বেশির ভাগ বাদামই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এ ছাড়া বাদাম প্রোটিনেরও ভালো উৎস। এতে আরো রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। পিরিয়ডের সময় খাদ্যতালিকায় অবশ্যই এই খাবার রাখুন। তবে বাদাম খেতে অরুচি হলে বাদামের মাখন বা বাদাম-দুধ রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।

কালো চকলেট
চকলেট খুব মজার ও উপকারী স্ন্যাক। এর ভেতর রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম। ২০১০ সালের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, চকলেটের মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে কাজ করে। তাই এ খাবারও যোগ করতে পারেন তালিকায়।

সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে? লক্ষণগুলো জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক

সম্পর্ক টিকে থাকে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ওপর। তবে টানা একসঙ্গে কাটানোর পর সম্পর্ক কখনো কখনো যেন একঘেয়ে হয়ে ওঠে। শুরু হয় একটুতে রেগে যাওয়া, চেঁচামেচি, মনোমালিন্য। দ্রুত এর সমাধানের উদ্যোগ না নিলে সম্পর্ক গড়ায় ভাঙনের পথে। সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ার কিছু লক্ষণের বিষয়ে জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই। লক্ষণগুলো জেনে নিন।

সঙ্গীর প্রতি যত্নহীনতা
সম্পর্ক শুরুর দিকে বেশির ভাগই সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল থাকে। তবে ধীরে ধীরে অনেকের ক্ষেত্রে যত্ন নেওয়ার বিষয়টিতে ঘাটতি হতে দেখা যায়। কাজের চাপে এমন হলে চেষ্টা করুন নিজেদের কোয়ালিটি টাইম বের করার। তবে যদি মনে হয় সঙ্গীর কাছে আপনার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে, তাহলে আলোচনা করুন, সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজুন। প্রয়োজনে ম্যারিজ কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

ভালোবাসা কমে যাওয়া
একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে যেমন এর যত্ন নিতে হয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে প্রতিদিন এর যত্ন জরুরি। শুরুর দিকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতির তীব্রতা যেন কমতে থাকে। এমনটি হলে কিন্তু অশনিসংকেত। সম্পর্ক সচল রাখতে সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ সবসময়ই জরুরি।

ভুল বোঝাবুঝি বাড়া
সম্পর্কে ফাটল ধরার একটি অন্যতম কারণ ভুল বোঝাবুঝি। বোঝাপড়া ভালো হলে মনোমালিন্য হওয়ার পরও সম্পর্ক মজবুত রাখতে সমস্যা হয় না।
এ সমস্যা সমাধানের জন্য এক অপরের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলুন। অপরকে আঘাত না করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে ভুল বোঝাবুঝি দূর হতে সাহায্য হয়।

মানসিক সংযোগের ঘাটতি
সম্পর্ক সুস্থ-সুন্দর রাখতে মানসিক সংযোগের বিকল্প নেই। আর মানসিক সংযোগ কমতে থাকলে সম্পর্ক প্রাণহীন, ম্লান হয়ে পড়ে; টান কমতে থাকে একে অপরের প্রতি। এসব লক্ষণ দেখলে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করুন। বেশি তিক্ততায় যাওয়ার আগে সমাধানের পথ পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই।

মনের উঠান : ক্যামেরা

ওয়াহিদুল হুদা ডালটন

খুব ছোটবেলা থেকেই চৌকোনাকৃতি আলোকচিত্র ধারণ বাক্স বা ক্যামেরার প্রতি ছিল আমার দুর্নিবার আকর্ষণ। এর পেছনের মূল কারণ ছিলেন ফিকশন ইসলাম, আমার ছোট মামা, যিনি আমার জীবনের বিচিত্র শখ আর গতিপ্রকৃতির বেশিরভাগেরই প্রভাবক। আমার বই পড়া, ফটোগ্রাফি, গান, লেখালেখি, ঘোরাঘুরি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বানানোসহ আরও বিবিধ বিচিত্র শখের জন্ম অনেকটা এই ভদ্রলোকের কারণেই।

আমার ওপর ছোট মামার প্রভাব যে ব্যপক, তা আমি নিজেও স্বীকার করি। যাক, সেসব গল্প অন্য কোনোদিন হবে। যা বলছিলাম। আমার ছোট মামা পড়তেন রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান রুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি দৈনিক বার্তায় ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। আমাদের বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করতেন তিনি। তখন থেকেই তাঁর বাইসাইকেলে চড়ে নানা জায়গায় ঘুরতাম। তাঁর কাজ দেখতাম আর মনে মনে ভাবতাম, আমিও একদিন ছবি তুলে বেড়াব ছোট মামার মতোন।

এভাবেই আমার ভেতরে জন্ম নেয় এক ফটোগ্রাফারের, যাকে সবাই হালে খুব স্টাইল করে ছবিয়াল বলেন (আমার কাছে তার চেয়ে আলোকচিত্রী বা ফটোগ্রাফার শব্দগুলোই বেশি পছন্দের, ওসব গাড়িয়াল মার্কা টার্ম ভালো লাগে না কেন যেন)। প্রথম ক্যামেরা হাতে আসে খুব সম্ভবত ছয় বা সাত বছর বয়সে। একটা নষ্ট ক্যামেরা ছোট মামা দিয়েছিলেন খেলতে। মজার বিষয়, কোনো শাটার ছিল না ক্যামেরাটার মাথার ওপর। তার বদলে লেন্সের পেটের কাছে ছিল একটা লিভার। ওটা টেনে ধরে ছেড়ে দিলেই ছবি তোলা হতো। মানে ওই লিভারটাই ছিল শাটার। বুঝতেই পারছেন, শাটার স্পিড থাকত একদম নিজের নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং কত সময় ধরে আলো ফিল্মে ফেলতে হবে, তা একদম নিজেকে বুঝে নিতে হতো (যেটা বর্তমান ক্যামেরায় ম্যানুয়াল মোডে থাকে)।

ওটার জন্য যে ফিল্ম ব্যবহার করা হতো, সেগুলো যদ্দূর মনে পড়ে অনেকটা কার্বন পেপারের মতোন। সেই বয়সে সেই নষ্ট ক্যামেরা নিয়েই কী উল্লাস আমার! ওটা নাড়াচাড়া করতে করতেই শিখে যাই ক্যামেরা খোলা, রিল লাগানো থেকে শুরু করে শাটার, এপারচার ইত্যাদি কীভাবে কাজ করে। যন্ত্রপাতির প্রতি ঝোঁক ছোট থেকেই। কোন যন্ত্র কী করে কাজ করে, তা খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝতে চাইতাম। বাসার টুলবক্স ছিল আমার হেফাজতে। খেলতে খেলতে পুরো ক্যামেরা ভেঙে এর কারসাজি আবিষ্কার করি তখন। ধীরে ধীরে ছোট মামা বুঝতে পারেন, এই যন্ত্রটার প্রতি আমার আগ্রহ আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে। তিনি অবশ্য এতে খুশি। নিজের শিষ্য কে না চায়? এবার তিনি তাঁর ব্যবহার করা ক্যামেরা ধরতে দিতে লাগলেন আমাকে। শেখাতে লাগলেন টুকটাক ফটোগ্রাফির কায়দাকানুন। ক্লিক ক্লিক ক্লিক… শুরু হলো আমার সত্যিকারের ছবি তোলা। তখন মনে হয় ৯ বা ১০ বছর বয়স আমার। তবে তা কদাচিৎ সুযোগ হতো কারণ, ফিল্ম ক্যামেরায় একেকটা ফিল্ম ছিল মহামূল্যবান বস্তু। এ তো আর হালের ডিজিটাল ক্যামেরা বা স্মার্টফোন নয় যে মনমতো ছবি তোলো, মেমোরি কার্ড বোঝাই করো আর দরকার হলে মুছে ফেলো। এখন তো বাচ্চা জন্মে খেলনার আগে ফোন হাতে ধরে (মোবাইল ফোনের উজ্জ্বল রঙিন পর্দায় চোখ ধাঁধিয়ে যার শুরু হয় পৃথিবী চেনার প্রথম পাঠ, সে কি সাদামাটা কাগজে আকৃষ্ট হয়?)।

এই প্রজন্মের কাছে ক্যামেরা, ছবি এসব যত সহজ, তখন সেটা ছিল না। সাদাকালো ফিল্ম রোলের দাম ছিল ২৫-২৮ টাকা আর ফুজি রঙিন ফিল্ম ছিল ১১০-১৩০ টাকা। আইএসও বা আলোক স্পর্শকাতরতার ওপরে নির্ধারিত হতো ফিল্মের দাম। একেকটা রিলে থাকত ৩৩/৩৫টা ফিল্ম। এর পর আছে নেগেটিভ ফিল্ম ডেভেলপ করা, ছবি প্রিন্ট করা। সে বেশ খরচের ব্যপার, সুতরাং সেই সময় মধ্যবিত্ত ঘরের একজন ছাত্রের কাছে প্রতিটি ফিল্ম ছিল অনেক দামি। আসলে ফটোগ্রাফি বিষয়টাই ছিল মধ্যবিত্তের ঘরে খুব সীমাবদ্ধ শখ।

সেই সময় শুরু হয় আমার ছবি তোলার শিক্ষা গ্রহণ। মামা আমাকে ফ্রেম বোঝাতেন, আইএসও, শাটার স্পিড, এপারচার রিলেশন বোঝাতেন। আমি সেসব শিখে টুকটাক প্রয়োগ করে অপেক্ষা করতাম কবে রিল ফুরাবে, মামা ডেভেলপ সেরে প্রিন্ট করিয়ে আনবেন আর আমি দেখব কেমন ছবি তুললাম। সে ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। মধুর অপেক্ষা।

এভাবে দিন যায়। বছর গড়ায়। আমার মনে বাসা বাঁধা স্বপ্ন পূরণের জন্য এবার আমি শুরু করি অল্প অল্প করে পয়সা জমাতে। মা ব্যাংকার ছিলেন। ছোটবেলাতেই তাই আমার আর আমার বড় দুই বোনের নামে আলাদা আলাদা সঞ্চয়ী হিসাব খুলে দেন অগ্রণী ব্যাংকে। সেখানে আমরা টাকা জমাতাম। আর ছিল আমার মাটির ব্যাংক। যখন যা পেতাম, চেষ্টা করতাম জমাতে। ছোট মামাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, কোন ক্যামেরার দাম কত আর মনে মনে হিসাব করতাম আর কত টাকা জমাতে হবে। স্কুলের হাতখরচ, ঈদের পরবি (ঈদি বলে যাকে) এসব থেকে নিজের অন্যান্য শখ যেমন মার্বেল, ঘুড়ি-লাটাই, লাটিম বা ছিপ-বড়শি কেনার পাশাপাশি চলত বড় প্রকল্পের জন্য সঞ্চয়। ততদিনে অষ্টম শ্রেণিতে উঠে গেছি। ছোট মামা কী একটা কাজে ঢাকায় যাবেন। এদিকে আমার যথেষ্ট টাকা জমানো হয়ে গেছে। আম্মাকে বললাম যে আমি ক্যামেরা কিনব। না বললেই নয়, আমার গান, ছবি তোলা, বই পড়া বা লেখালেখি এসবে মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল প্রচুর। তিনি হাতে ধরে আবৃত্তি শেখাতেন। আর পুকুরময় দাপিয়ে বেড়ানো, ঘুড়ি-লাটাই, লাটিম বা ছিপ-বড়শির আশকারা দিতেন আব্বা।

মা ছোট মামাকে ডেকে আমার জমানো ১৩০০ টাকা (কী হাসি পাচ্ছে পরিমাণ শুনে? সেটা তখন বিশাল অঙ্ক কিন্তু!) মামার হাতে দিলেন। মামা ঢাকায় গেলেন। কবে ফিরবেন, জানি না। সেলফোন তো দূরে থাক, টিঅ্যান্ডটির ফোনও তখন বিরল জিনিস। কাজেই যোগাযোগ করে জানার উপায় নেই কী হচ্ছে। অপেক্ষায় আছি তো আছিই।

তারপর একদিন সকালের ঘটনা। ঘুম ভেঙে দেখি আমার পাশে বিছানায় কয়েকটা বক্স। চিনতে একমুহূর্ত দেরি হয়নি। একটা বক্সে ক্যাননের একটা ফিক্সড লেন্স ম্যানুয়াল ক্যামেরা, একটাতে ফ্ল্যাশ আর একটা সাদাকালো ফিল্ম রোল। মনে হলো দীর্ঘ স্বপ্ন দেখা রাতের ভোর হলো তা পূরণের মাধ্যমে। লাফিয়ে বিছানায় উঠে বসলাম। প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে দৌড়ে ঘরের বাইরে এসে দেখি আম্মা, আব্বা আর ছোট মামা ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করছেন। মামা ভোরের ট্রেনে এসেছেন। আমাকে দেখে মামা হাসি হাসি মুখে অথচ ধমক দিয়ে বললেন, ‘নে তোর ক্যামেরা, খুশি তো?’ ছোট মামা সবার সঙ্গেই একটু ধমকের সুরে কথা বলেন। সবাই তাই মামাকে বেশ ভয় পায়। আমিও পেতাম, কিন্তু ঠিকই বুঝতাম ধমক হলো এই মানুষটার ভালোবাসার প্রকাশ। আমার সেই সময়ের মনের অবস্থা বলে বোঝানো কঠিন। শুধু এটুকুই বলতে পারি, লিখতে বসে এখনো আবেগে চোখ ভিজে গেছে আমার। চোখ মুছতে মুছতেই লিখছি। ছোট মামার দিকে বাড়িয়ে দিলাম ক্যামেরাসহ সব। মামা আস্তে আস্তে ক্যামেরাটা প্যাকেট থেকে বের করলেন। তাতে ব্যাটারি দিলেন। ফিল্ম লাগালেন। আমি দুনিয়ার সব আগ্রহ, ভালো লাগা এক জায়গায় জড়ো করে সেই কাজ দেখতে থাকলাম। মনে হলো অনন্তকাল ধরে মামা কাজটি করছেন। ক্যামেরায় ফিল্ম ভরে মামা বাড়িয়ে ধরলেন আমার দিকে। আমার তখন হাত কাঁপছে। সেই ছোটবেলা থেকে যেই যন্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত, আজ মনে হচ্ছে সেটা নতুন করে চিনছি। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে ক্যামেরাটা হাতে নিলাম।

মনে হলো স্বপ্ন আমার হাতের মুঠোয়। একদম নিজের টাকায় কেনা স্বপ্ন। কারো ভাগ নেই তাতে। না না ভাগ আছে। সেই দারুণ সময়ের সাক্ষী হিসেবে আব্বা, আম্মা আর মামাও ভাগিদার হলেন সেই স্বপ্নের। সবার মুখে হাসি। ছোট মামাকে বললাম, আমি না, আপনিই প্রথম ছবি তুলে দেন। এরপর আমার নিজের প্রথম ক্যামেরার প্রথম মডেল হলাম আমি নিজেই। বারান্দা থেকে নেমে উঠোনে গিয়ে দাঁড়ালাম একটা গোলাপ গাছের পাশে। ছোট মামা তুললেন আমার ছবি। আমার মনে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। জীবনের প্রথম ক্যামেরার মালিক হওয়ার ইতিহাস। আজ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট অর্থ দিয়েছেন।

মন চাইলেই অনেক কিছু কিনে ফেলতে পারি, কিনিও। কিন্তু সেই প্রথম নিজের পয়সায় ক্যামেরা কেনার অনাবিল আনন্দের কাছে সেইসব নস্যি। সে মুহূর্তের ছবিটা যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আজ শেয়ার করলাম।

 

কবিতা : শেষ কবিতা

আকাশ আহমেদ
আমি চলে যাবো কোনো এক বিষণ্ণ সন্ধ্যায়,
রেখে যাবো আমার কিছু টুকরো।
আমি কোনো এক পূর্ণিমা তিথিতে চলে যাবো,
নিয়ে যাবো তোমার দেয়া অব্যক্ত ভালোবাসা।
আমি কাউকে না জানিয়েই চলে যাবো,
যখন একটু লক্ষ করলেই দেখবে শহুরে গাছগুলো ঘিরে
হাজার পাখি উড়ছে রাতের আশ্রয়ের জন্য,
স্ত্রী অপেক্ষা করছে স্বামী ফিরল বলে,
প্রেমিকাকে নিরাপদে ঘরে পৌঁছে দিয়ে
নিজের ঘরে ফিরতে উদ্ধত প্রেমিক,
মা তার সন্তানকে রাতের খাবার কী দেবেন চিন্তায় অস্থির,
অফিস থেকে বেরোনো ক্লান্ত শরীরদের ঘরে ফেরার তাড়া,
আমি ঠিক এমনি একটা ব্যস্ত, কিন্তু বিষণ্ণ বিকেলেই চলে যাবো।
আর তোমায় দেয়া কবিতার ডায়েরিতে যোগ হবে
শেষ কবিতা।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.