Tuesday, September 22, 2026
spot_img
Home Blog Page 141

আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য

নাসির উদ্দিন টগর
আত্মহত্যা হলো নিজের জীবন নিজে সমাপ্ত করার প্রক্রিয়া। ‘কমিট’ শব্দটির যথাযথতা সম্পর্কে এবং আত্মহত্যা বর্ণনা করার বিষয়ে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে নিজেকে মেরে ফেলাই হলো আত্মহত্যা।
আত্মহত্যা ইংরেজি suicide (সুইসাইড), লাতিন suicidear (সুইসাইডেয়ার) থেকে এসেছে। এর অর্থ নিজেকে হত্যা করা। যখন কেউ ‘আত্মহত্যা’ করেন, জনগণ এ প্রক্রিয়াকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করেন।
প্রাচীন এথেন্সে কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া আত্মহত্যা করত, তাহলে তাকে সাধারণ কবরস্থানে কবর দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হতো না। আত্মহত্যা খ্রিষ্টান ইউরোপীয় অঞ্চলে একটি পাপ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। ৪৫২ সালে আরলসের কাউন্সিলে আত্মহত্যাকে শয়তানের কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের লুই চতুর্দশের ১৬৭০ সালে তৈরি করা ফৌজদারি অধ্যাদেশ অত্যন্ত অমানবিক ছিল। আত্মহত্যা করা ব্যক্তির মৃতদেহ রাস্তায় টেনে আনা হতো। মাথা নিচু করে তারপর আবর্জনা দিয়ে আবৃত করা হতো। ব্যক্তির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জব্দ করা হতো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। পৃথিবীতে মৃত্যুর যত কারণ রয়েছে, আত্মহত্যা এর মধ্যে ত্রয়োদশতম। কিশোর-কিশোরী ও যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো আত্মহত্যা।
রেনেসাঁসের সময় থেকে আত্মহত্যার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে শুরু করে। ডেভিড হিউম প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কেন আমি একটি করুণ অস্তিত্বকে দীর্ঘায়িত করব, কিছু অসার সুবিধা, যা জনসাধারণ হয়তো আমার কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারে?’
আত্মহত্যার সঙ্গে মানসিক ভারসাম্যহীনতার যোগসূত্র রয়েছে। যারা বা যাদের সাইকিয়াট্রিক ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের পূর্ণ আত্মহত্যা করার ঝুঁকি ৮ দশমিক ৬ ভাগ। বাইপোলার ডিজঅর্ডার থাকলে আত্মহত্যার ২০ গুণ বেশি ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া সিজোফ্রেনিয়া ১৪ পার্সেন্ট। ট্রোমাউত্তর স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, ডিপ্রেশন, দ্বিপক্ষীয় ব্যাধি, স্থূলতাজনিত রোগ ইত্যাদি আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
আমাদের সামাজিক বন্ধন অটুট নয় এই আধুনিক গ্লোবাল ভিলেজের পৃথিবীতে। গ্লোবালাইজেশন যত আমাদের একজনের সঙ্গে অন্যজনের, এক জায়গায় বসে অন্য জায়গায় যেভাবে কানেক্টেড করেছে, তা বাস্তবে ঠিকই করছে; কিন্তু এখানে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। আমরা যত ডিজিটালাইজশনে প্রবেশ করছি, আমাদের সামাজিক বন্ধনগুলো তত ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোনো জায়গায় এখন কয়েকজন কথা বললে নিজেদের সঙ্গে যতটা না কথা বলি, তার চেয়ে বেশি খেয়াল করি হাতে থাকা স্মার্ট ডিভাইসটিকে। আমরা আমাদের শহর থেকে খেলার মাঠ উঠিয়ে ফেলছি। গ্রামকে স্মল টাউন, কোথাও কোথাও মিনি সিটি বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। বলছি না যে, এসব অপ্রয়োজনীয়। এসব অবশ্যই প্রয়োজন, তবে দিন শেষে যেন মানুষ মানুষেরই থাকে, কোনো স্মার্ট ডিভাইসের না হয়ে ওঠে। এত এত মানুষ আত্মহত্যা করছে এর অন্যতম কারণ হলো, অনলাইনে সময় দিয়ে অনিদ্রার অভ্যাস গড়ে তোলা আর অনিদ্রা হলে ডিপ্রেশনসহ প্রেশারের সমস্যা হয়, আমরা সবাই তা জানি। আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল অবলম্বন করতে হবে এসব বিষয়।
কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক সমস্যা ও স্বাস্থ্য নিয়ে বোঝাপড়ার জায়গা করতে হবে। পরিবার সকলে সকলের সঙ্গে সময় বণ্টন শেয়ারিং-কেয়ারিংয়ের জায়গা তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি বলতে তাই মানুষ আমরা। আমরা রোবট নই। আমরা গুহা জীবন থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে সমাজ তৈরি করেছি। নিজেরা নিজেদের রক্ষা করেই টিকে রয়েছি পৃথিবীতে। আমাদের পুনরায় রক্ষা করতে হবে নিজেদের। চর্চা করতে হবে মন-মননের শান্তি কোথায়-কীভাবে অর্জন করতে বা করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র :
১. ভেভিড হিউমের প্রবন্ধ ও লেখনী।
২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।
৩. এমআইটি ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথবিষয়ক জার্নাল ও ওয়েবসাইট।

লেখক : শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা কলেজ

যত্নশীল সহকর্মী কীভাবে হবেন?

অনন্যা চৈতী

ঘরের চেয়ে কর্মক্ষেত্রেই বেশি সময় কাটাতে হয় কর্মজীবীদের। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার চাকরিতে অফিসের সহকর্মীরাই তখন আপনজন হয়ে ওঠে। খুব ভালো বন্ধুত্বের পাশাপাশি মান- অভিমান, কূটকৌশল, রাগ, ঝগড়া—সবই চলে এখানে।

তবে যাদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয়, দিনশেষে তাদের প্রতি একটা মায়াও জন্মে। তাই তো কোনো সহকর্মী অসুস্থ হলে সবার আগে এগিয়ে আসে সহকর্মীরাই। সহকর্মীদের সম্পর্ক হোক সুস্থ, সুন্দর। আর এ জন্য প্রয়োজন যত্নশীলতা। সহকর্মীর প্রতি যত্নশীল হয়ে ওঠার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে মিডিয়া ডটকম।

# মাঝেমধ্যে পুরো অফিস ঘুরে অন্য সহকর্মীদের খোঁজখবর নিন। তাদের মধ্যে কেউ সমস্যায় থাকলে তাকে সহযোগিতা করুন যতটা সম্ভব। এতে পরবর্তী সময়ে আপনি অসুস্থ থাকলে কিংবা কাজের চাপ বেশি থাকলে, অন্য সহকর্মীরাও আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

# সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির অন্যতম একটি পথ হলো, মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা। নিজের বিষয়ে কথা বলার চেয়ে শুনুন বেশি। কারণ, অধিকাংশই সেই মানুষটির সঙ্গে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে। কম কথা বলার আরেকটি বড় সুবিধা হলো, সঙ্গের ব্যক্তিটির আস্থাও অর্জন করা যায়।

# সহকর্মী ভালো কিছু করলে অবশ্যই তার প্রশংসা করুন। ছোট্ট একটি প্রশংসা এনে দিতে পারে পুরো দলের সফলতা। এতে কাজের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দলের মনোবল বেড়ে যাবে।

# সহকর্মীর প্রতি অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। বরং তাকে বুঝিয়ে বলুন, তার ভুলটি কোথায়। এতে নিজেদের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্কও গড়ে উঠবে।

# মাঝেমধ্যে সহকর্মীদের জন্য বাসা থেকে দুপুরের খাবার তৈরি করে নিয়ে যেতে পারেন। কিংবা যদি দেখেন সহকর্মী কাজের ব্যস্ততার জন্য লাঞ্চ করতে যেতে পারছে না, তার জন্য না হয় আপনি খাবার নিয়ে আসুন। এতে তার কাছে আপনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও বিবেচিত হবেন।

সমস্যা সমাধানে কৌশলী ৭ ধাপ

ফারজানা ফাতেমা রুমী

কথায় আছে, ‘সকল তালা খোলার জন্যই নির্দিষ্ট একটি চাবি থাকে।’ ঠিক তেমন সকল সমস্যার মাঝেই সমাধান লুকিয়ে থাকে। তবে আমরা কি সব সময় সেই সমাধানটি খুঁজে পাই?

সমাধানের পথ খোঁজার আগে আসুন জানি, সমস্যা কী- এ বিষয়ে।  একটি সমস্যা হলো এমন পরিস্থিতি যা আমাদের কোনো কিছু অর্জন করা থেকে বাধা দেয়। সমস্যা হলে অবশ্যই এটি সমাধানের উপায় বা ‘সমাধান’ খুঁজে বের করতে হয়। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। জীবনের সাধারণ সমস্যা বা সংকট হলো- সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা, বিবাহ বিচ্ছেদ, আঘাত, অসুস্থতা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, সন্তান লালন-পালনে সমস্যা, শোক, মৃত্যু, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা, শারীরিক অক্ষমতা, দু:খ, ক্ষতি ও আত্মসম্মান সম্পর্কিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করা বা এমনকি অজানা ভবিষ্যতের সঙ্গে সমন্বয় করে চলা। সাধারণত মানুষ যখন সমস্যার সম্মুখীন হয়, তাদের ভেতর তিনটি কাজ করার প্রবণতা থাকে। যথা:
১। ভয় পায় বা অস্বস্তি বোধ করে এবং আশায় থাকে যে এটি নিজে নিজে দ্রুত দূর হয়ে যাবে।
২। মনে করে যে তাদের একটি সমাধান বের করতে হবে এবং এটি সঠিক হতে হবে।
৩। দোষারোপ করার জন্য কাউকে খুঁজে বের করে।
আর আরেকটি বিষয় হলো, সমস্যা সমাধান করতে সাধারণত যে কাজটি করা হয় তা হলো, খুব দ্রুত সমাধান চাওয়া। বারবার বলি, ‘এখন আমি কী করব।’ আমরা হয়তো ভুলে যাই যে ‘সমাধান’ হলো একটি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। তবে আমরা তা প্রথমেই পেতে চাই। তাই ঠিক এখনই আমি কী করব এর উত্তরে বলা যেতে পারে, ‘আমি প্রথমেই নিজেকে শান্ত রাখব।’

যেকোনো জটিল সমস্যা অথবা এমন পরিস্থিতি যা আমরা আগে কখনও মোকাবেলা করিনি তা সমাধানের জন্যও মানব মস্তিষ্কের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি এমন একটি দক্ষতা যা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করে। ‘স্ট্রাইটাম’, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ মূলের ‘বেসল গ্যাংলিয়ার’ অংশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজ করে। মস্তিষ্কের সামনের কাছাকাছি ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ অন্যান্য সমস্যাগুলোর সঙ্গে জটিল সমস্যা সমাধান করে। যখন সচেতনভাবে আমাদের সমস্যা সম্পর্কে চিন্তা না করি তখনও কাজ করে। ‘ফ্রন্টাল লোব’ শারীরিক চলাচল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের সমন্বয় করার কাজ করে; উচ্চতর জ্ঞানীয় দক্ষতা, যেমন সমস্যা সমাধান, চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনা, ব্যক্তিত্ব ও আবেগীয় দিকগুলোর কাজ করে।

জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে কিছু কৌশল:

১। রাতের ঘুম
ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থার চেয়ে, রাপিড আই মুভমেন্ট (REM) ঘুম সরাসরি মস্তিষ্কে সৃজনশীল প্রক্রিয়াকরণ বাড়ায়। সহযোগী নেটওয়ার্কগুলিকে উত্সাহিত করে। মস্তিষ্কে নতুন ও দরকারি সংযোগ তৈরি করে, যা জেগে উঠলে ঘটে। তাই শান্তিপূর্ণ রাতের ঘুম আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।

২। জীবনকে নিখুঁতভাবে গ্রহণ করা
প্রায়ই আমরা জীবন থেকে দূরে সরে যাই। আমাদের অবশ্যই বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে আলোকিত করতে হবে।

অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের আরও আস্থাশীল, শক্তিশালী করে। জীবনবোধের স্বাধীনতা হলো খারাপের সাথে ভালো, কষ্টের সঙ্গে বিস্ময়, বেদনার সঙ্গে প্রেম এবং মৃত্যুর সঙ্গে জীবন! যখন এসব বিষয়গুলোকে মেনে নিতে পারা যায়, তখন আমাদের কাছে জীবন উপভোগ্য। যখন বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করা হয়, তখন নিজেকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিয়ে ঢেলে সাঁজানো যায়।

৩। সময় নেয়া
কচ্ছপ ও খরগোশের গল্পটি আমাদের সবারই জানা। কচ্ছপ ধীর এবং অবিচলিতভাবে দৌড় প্রতিযোগিতাটি জিতেছিল। তাড়াহুড়ো করে, আমরা আসলে সফলতা থেকে আরও দূরে সরে যাই। সহজ ও সংক্ষেপ উপায় খুঁজতে গিয়ে আরও ভুল করি। পুরানো প্রবাদে আছে, ‘যত ধীরে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে যান, তত তাড়াতাড়ি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যান”। এ ধরনের পদ্ধতি স্থায়ী পরিবর্তনের দিকে পরিচালিত হওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

৪। কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করা
আশীর্বাদের চেয়ে সমস্যার সংখ্যাই তুলনামূলক কম। আমাদের জীবনের অফুরন্ত আশীর্বাদগুলোর জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কৃতজ্ঞ হই? বারবার সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলি। মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন জীবন বদলে দিতে পারে। ভালো কাজ খুঁজে বের করা এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তা গ্রহণ করা মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য এক যাদুকরি উপায়।

৫। সকল অনুভূতির (এমনকি বেদনাদায়কও) সঙ্গে থাকা

প্রায়শই আমরা আমাদের অনুভূতিগুলোকে ভীতিকর, ভারী ও বিভ্রান্তিকর মনে করি। তবে জীবনে সন্তুষ্টি, অর্থ-সম্পদ ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের অনুভূতিগুলো দরকার। অনুভূতি থেকে মুক্তি পাওয়া কেবল ব্যাকফায়ারই নয়, এটি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি থেকেও সরিয়ে দেয়। অনুভূতি হলো আমাদের ব্যক্তিত্বের ইঞ্জিনের গ্যাস, প্রেরণার উত্স। এগুলো হলো শক্তি, প্রাণশক্তি, জীবনের রস। এগুলো ছাড়া আমাদের জীবনে কোনও ব্যক্তিত্ব, মাত্রা বা রঙ থাকবে না। কোনও আনন্দ, সৃজনশীলতা, বা মজা থাকবে না। আপনি, আমি আলাদা করে আমরা কেউই আমাদের অনুভূতি ছাড়া কিছুই নই।

৬। জীবনযাত্রার অংশ হিসাবে সাফল্য ও ব্যর্থতা গ্রহণ করা
সহানুভূতিশীল মনোভাব, জীবনের গতিশীল প্রক্রিয়া- চেষ্টা করা, সফল হওয়া, ব্যর্থ হওয়া এবং পুনরায় চেষ্টা করা নিজের মধ্যে স্থায়ী আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায়।

৭। সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা
সম্পর্কগুলো এমনি এমনি যাদুর মতো হুট করে হয়ে যায় না। মনোযোগ, যত্ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে এবং টিকে থাকে। বিবাহ, পরিবার বা বন্ধুত্ব হলো গতিশীল, জীবন্ত অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন একটু একটু করে উপার্জন করতে হয়, যার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার প্রয়োজন। দূরত্ব অতিক্রম এবং সম্পর্ককে সম্মান করা একটি দৈনিক প্রক্রিয়া। আমরা কখনও একে অপরকে আঘাত করব এবং একে অপরের দ্বারা আহত হবো এই বাস্তবতাটি গ্রহণ করতে হবে। এই ব্যথা এড়ানো যায় না। আমরা কেবল মেরামত করতে পারি, সংশোধন করতে পারি, নিজেকে নিবেদিত করতে পারি। নিজেদের ভুলগুলির দায় গ্রহণ করি, দুঃখিত হই। নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করি। ক্ষমা করতে শিখি; অন্যের ক্ষমা গ্রহণ করি। আমরা নীচে পড়ি, নীচে পড়ে আবার উঠি। আর এটাই হলো সম্পর্কের বন্ধন।

সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি ধাপ মেনে চলা যেতে পারে।

১। সমস্যা চিহ্নিতকরণ
প্রধান সমস্যা কোনটি তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কিত বিষয়গুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। অনেক সময় দেখা যায় আশেপাশের সমস্যা নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকি। বুঝতে পারি না যে মূল সমস্যাটি সমাধান হলে অনেকটাই স্বস্তি।

২। অনর্থক আলোচনা এড়িয়ে চলা
একেক জনের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গী ও চিন্তাধারা একেক রকম। তাই সহানুভূতিশীল ও ইতিবাচক ব্যক্তির সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। একই সঙ্গে সবার মতামত গ্রহণ করলে আরো নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।

৩। বিকল্প সমাধান বিশ্লেষণ
সম্ভাব্য বিকল্প সমাধানগুলো তালিকাভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি উপায়কে আলাদা করে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করাই শ্রেয়। উপায়গুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, স্থান অথবা প্রয়োজনে অর্থায়নের উৎস চিহ্নিত করতে হবে।

৪। সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে ভাবা

সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে ভাবতে হবে। সেরা উপায়টি কী হতে পারে এবং কেন তা সেরা তা নিয়ে ভাবতে হবে। অবশ্যই যেখানে অসুবিধা কম সেই উপায়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৫। লিখিত ডকুমেন্টেশন
সব সময় স্মৃতির ওপর ভরসা না করাই শ্রেয়। উপায়গুলোর বিবরণ ও প্রভাব লিখিত আকারে থাকলে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। এটি ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনায়ও কাজে লাগতে পারে।

৬। ব্যর্থ হলে পুণরায় ভাবতে হবে
সবসময় পরিকল্পনা মাফিক সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ফিরে যেতে হবে। জরুরি অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। বিকল্প উপায় নির্বাচন করতে সমস্যা হলে, পুণরায় সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবতে হবে।

৭। নির্দিষ্ট সময়সীমা
সমস্যা নিয়ে অনন্তকাল বসে থাকলে চলবে না। সমাধান পরিকল্পনার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী হতে পারে সেটি একদিন, একমাস, দশবছর কিংবা তারচেয়ে বেশি।

লেখক : সাইকোলজিস্ট

পুর ভরা কাঁকরোল

কাকলী কলি

কাঁকরোল—বিচি ভর্তি, গায়ে কাঁটা কাঁটা এ সবজি খেতে অনীহা অনেকেরই। তাই বলে কি পুষ্টিগুণে ভরপুর এ খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ যাবে? নিশ্চয়ই নয়। তাই আমাদের আজকের রেসিপি পুর ভরা কাঁকরোল। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু, বানাতেও সহজ।

উপকরণ
কাঁকরোল ৩টি (দুভাগ করা)
পোস্ত বাটা ১ চা চামচ
সরষে বাটা ২ চা চামচ
চিংড়ি মাছ ৪/৫টি
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
হলুদের গুঁড়া ১/২ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
ময়দা ২ টেবিল চামচ
কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদমতো
তেল পরিমাণমতো
কাঁচামরিচ কুচি ৩/৪ টা

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে কাঁকরোলগুলো লবণ দিয়ে হালকা সেদ্ধ করে নিতে হবে। এখন চামচ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাঁকরোলের ভেতরের বিচির অংশটুকু বের করে নিতে হবে। এবার কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, চিংড়ি মাছ, সরষে বাটা, পোস্ত বাটাসহ সব মসলা আর কাঁকরোল থেকে যে দানাগুলো বের করে রাখা হয়েছিল, সব দিয়ে দু-তিন মিনিট ভাজুন। এরপর কাঁকরোলগুলোর মধ্যে পুরটা ভরে দিতে হবে। এরপর ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে বেটার তৈরি করে নিতে হবে। এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে কাঁকরোলগুলো বেটারে ডুবিয়ে তেলে বাদামি করে ভেজে নিন। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে পুর ভরা কাঁকরোল ভাজা।

শিশু কি মিথ্যা বলছে?

অনন্যা চৈতী

মুখে চকোলেটের দাগ নিয়ে শিশুরা যখন মায়ের কাছে এসে ভয়ে বলে, ‘চকলেট খাইনি।’ তখন ওদের আরও আদুরে লাগে। তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মিথ্যেই যখন বড় সমস্যায় পরিণত হয়, তখন সত্যিই চিন্তার বিষয়! মিথ্যা বলার অভ্যাস একজন মানুষের ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; জীবনে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুকে সত্যবাদী করে গড়ে উঠানোর অভ্যাস করানো উচিৎ ছোটবেলা থেকেই। শিশুকে সত্যবাদী করে গড়ে তোলার কিছু উপায় জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা।

১. শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। প্রায় সব শিশুই তার মা-বাবার আচরণকে গভীরভাবে অনুসরণ করে থাকে। তাই সবার আগে মা-বাবাকে সবসময় সত্য কথা বলার অভ্যাস করতে হবে।

২. গল্পের ছলে শিশুকে বোঝানো যেতে পারে, মিথ্যা বলা ঠিক নয়। রূপকথা, উপকথার এমন গল্প তাকে শোনানো যেতে পারে, যেখান থেকে সে ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য শিখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, মিথ্যা বলার কারণে শাস্তি পাওয়া গল্পের চাইতে সৎ কাজের পুরষ্কার পাওয়া গল্প শিশুকে ভালো কাজ শেখাতে অনেক বেশি কার্যকর।

৩. শিশু মিথ্যা বললে অভিভাবকরা অনেক সময় শাস্তি দেন। মূলত এই শাস্তি কোনো কাজেই আসে না। প্রথমদিকে ভয় পেলেও পরে শিশুটি আবার সেই কাজটিই করতে থাকে। সে যদি কোনো অন্যায় লুকাতে বানিয়ে গল্প বলে, তবে প্রথমেই আশ্বাস দিন তাকে কোনো শাস্তি দেয়া হবে না। সে সত্যটা স্বীকার করলে তার প্রশংসা করুন। এবং তাকে বুঝিয়ে বলুন মিথ্যা বলা থেকে সত্য স্বীকার করে নেয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

৪. মা-বাবার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো, সন্তানের মন থেকে ভয় দূর করা। তাকে সবসময় বোঝাতে হবে আপনি তাকে সবথেকে বেশি ভালোবাসেন; যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি তার পাশে আছেন। শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে সত্য বলার জন্য তাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না। বরং তার সত্য বলাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অনেকসময় বাবা-মা শিশু কী করবে, কী করবে না সেটা ঠিক করে দেন। তাদের মতামত বারবার শিশুর ওপর চাপিয়ে দেন। কোন পোশাকটি পরবে, টেলিভিশনে কোন প্রোগ্রাম দেখবে- সবই ঠিক করেন তারা। এই কাজটি না করে, শিশুকে পছন্দ করার সুযোগ দিন। এতে সে তার মত প্রকাশের সুযোগ পাবে। লুকিয়ে কিছু করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করবে না।

এরপরও শিশুর মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তার কাছে জানতে চান কী কারণে সে মিথ্যা বলছে। কথা বলে তার মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।

তেলাপোকা তাড়ানোর ২ কার্যকর উপায়

ফিচার ডেস্ক
তেলাপোকার উপদ্রব খুবই অস্বস্তিকর। ঘরে তেলাপোকা থাকলে অ্যাজমা, অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন অসুখও বাড়ে। তবে কয়েকটি উপায়ে খুব সহজে ঘর থেকে দূর করতে পারেন তেলাপোকা। তেলাপোকা তাড়ানোর উপায় জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট লিভসে্পস।

১. তেজপাতার গন্ধ তেলাপোকার কাছে বিষের মতো। তেলাপোকা না মারলেও দূর করতে কাজ করবে তেজপাতা। কয়েকটি তেজপাতা গুঁড়া করুন। এরপর ঘরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিন।

২. তেলাপোকা তাড়ানোর অনেক পদ্ধতি থাকলেও কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি হলো সাবান ও পানি মিশ্রণ। এ ক্ষেত্রে যেকোনো গায়ে মাখার সাবানের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ঘরের আনাচে-কানাচে স্প্রে করে দিন। এতে তেলাপোকার সমস্যা সমাধান হবে।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.