Sunday, September 27, 2026
spot_img
Home Blog Page 127

পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ কী?

ডা. সরদার এ নাঈম

পিত্তথলির পাথর খুব পরিচিত একটি সমস্যা। সাধারণ মানুষ একে গলব্লাডারের পাথর বলেও জানে। সমস্যাটি কেন হয় সেটি বলা মুশকিল। আমরা দেখি আমাদের জনসংখ্যার ১৫/ ২০ শতাংশের এই পাথর রয়েছে। এদের সবার আবার অভিযোগ বা লক্ষণ হয় না। অনেকের সমস্যাটি জানতেই পারে না। এর মধ্যে হয়তো ২৪ শতাংশের লক্ষণ হয়।

পিত্তথলির কাজ কী? খাদ্যনালী থেকে রস যখন পিত্তনালীতে আসে, সেই পথেই একটি পিত্তরস থাকে। থলির মধ্যে সাধারণত পিত্তরস এসে জমা হয় এবং ঘন হয়। ঘন হয় কেন? যখন আমরা চর্বি জাতীয় খাবার খাই, পাকস্থলী থেকে তৈলজাতীয় খাবার যখন আসে, তখন একে পরিপাকের জন্য পিত্তরসের দরকার হয়। সেই পিত্তরস দিয়ে পরিপাক হওয়ার কারণে যখন মেজর মিল নিই, তখন ঘনঘন পিত্তরস হয়। পিত্তরসকে ঘন করার দায়িত্বটাই হলো পিত্তথলির। একে ঘন করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ করে ছোট ছোট দানা তৈরি হয়ে, ধীরে ধীরে পাথরে রূপান্তরিত হয়। মাঝে মাঝে বড় বড় পাথর দেখা যায়। আবার কারো কারো মাছের ডিমের মতো হাজার হাজার পাথর হয়।

লক্ষণ
আগেই বলেছিলাম যে লক্ষণ সবার হবে না। তবে যার লক্ষণ হবে, তার বিভিন্ন রকম হতে পারে। পিত্তথলির পাথরের কী কী সমস্যা হতে পারে? প্রথমেই বলবো, পিত্তথলির পাথরের কারণে এতে সংক্রমণ হয়ে, প্রচণ্ড রকম ব্যথা হয়ে, একিউট কলিসিসটাইটিস ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কখনো কখনো দেখি জণ্ডিস নিয়ে রোগীরা আমাদের কাছে আসে। জণ্ডিস অনেক কারণে হতে পারে। লিভারের সংক্রমণের কারণে ভাইরাস জণ্ডিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার পিত্তথলি থেকে যে পাথর বেরিয়ে এসে পিত্তনালীকে আটকে দেয়, তখন একে বলি সার্জিক্যাল জণ্ডিস বা অবসট্রাকটিভ জণ্ডিস। এটি এই পিত্তথলির পাথরের কারণে হয়।

আরেকটি বিষয় রয়েছে। আমরা কিন্তু জানি না পিত্তথলির ক্যানসার কখন হয়। তবে আমাদের কাছে ক্যানসার নিয়ে যারাই আসে, তাদের বেশিরভাগেরই দেখেছি পাথর পাওয়া যায়। তাহলে আমরা ধারণা করে বলতে পারি, হয়তো বা পিত্তথলির পাথর অনেকদিন এখানে থাকার কারণে এই ক্যানসার হয়। যদিও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে পারি না, তবে ধারণা করতে পারি।

অনুলিখন : শাশ্বতী মাথিন

আফরোজা পারভীন হয়ে ওঠার গল্প

দেশের বিউটি ইন্ডাস্ট্রির এক পরিচিত নাম আফরোজা পারভীন। তিনি রেড বিউটি স্টুডিও অ্যান্ড স্যালুনের স্বত্বাধিকারী। বিউটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সৌন্দর্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন ডিবিসি নিউজ ও কালারস এফএমে।

এত যার গুণ, তার পথচলাটা সহজ ছিল না। লড়তে হয়েছে অনেক, লড়ছেন এখনো। কেঁদেছেন, ভেঙে পড়েছেন, বিষণ্ণতায় ভুগেছেন। আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। হার মানেননি। কেবল একার জন্য নয়, যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন অগণিত নারীর জন্য। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে তৈরি করেছেন বিউটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘উজ্জ্বলা’। শত শত নারী এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা। নারী দিবসের বিশেষ আয়োজনে নিজের জীবনের গল্প জানিয়েছেন আফরোজা পারভীন। সাক্ষাৎকারে ছিলেন শাশ্বতী মাথিন।

গল্পের চরিত্রের মতো ছিলাম
ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ছিলাম। উচ্ছ্বল, চঞ্চল। গাছে উঠে যাচ্ছি, সাঁতার কাটছি অথবা কাদায় ঝাঁপাঝাঁপি করছি। একেবারে যেন সিনেমা-গল্পের কোনো চরিত্র। বাড্ডা গার্লস হাই স্কুলে পড়তাম। সেই সময়টায় যেন পাখি হয়ে উড়ে বেড়াতাম। ছোটবেলা থেকেই বোল্ড ছিলাম। ইভটিজারদের মেরেছি। কোনো অন্যায় কিছু কখনোই সহ্য করতাম না।

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে এলাম। কলেজ ছিল কোঅর্ডিনেট। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যত মজা করা যায়, করেছি। সাহস ছিল খুব। আবেগীও ছিলাম। কলেজে উঠে প্রেম করতে শুরু করি। প্রেমের তীব্রতা এত ছিল যে বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে ১৮ বছর বয়সে হুট করে বিয়ে করে ফেলি। এরপর দুজন দুজনার মতো চার বছর লেখাপড়া চালিয়ে যাই। আমার মনে হতো, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা প্রয়োজন। এখনো তাই মনে হয়। আসলে বাঁদরামি করতাম, তবে পড়াশোনাকেও ভীষণ উপভোগ করেছি। শিক্ষকদের পছন্দের ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার একটা গুণ ছিল।

স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে
লেখাপড়া শেষ করার পর পারিবারিকভাবে আমাদের আবার বিয়ে হয়। এত বছর যেই মানুষটার সঙ্গে থেকেছি, খুনসুটি করেছি, প্রেমে ভেসে গেছি; তার সঙ্গে সংসার করতে এসে যেন ভিন্ন এক রূপ দেখতে পেলাম। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর অনেক দায়িত্ব এসে পড়ে। প্রথম দিকে হিমশিম লাগত। বছর ঘোরার পর আমিই যেন ওই বাড়ির অভিভাবক হয়ে যাই। আমার জন্য প্রতিদিনই বাড়িতে মানুষের সমাগম লেগে থাকত। বিয়ের ১০/১২ বছর হয়ে যাচ্ছিল। সন্তান হচ্ছিল না। ছোটবেলায় বিয়ে হয়েছে বলে আমরা একটু দেরি করছিলাম বিষয়টিতে। সবাই আমাকে বন্ধ্যা বলা শুরু করল। নারী হিসেবে ভীষণ আত্মসম্মানে লাগত তখন।

এরপর আমি একটু জোর করে সন্তান নিই। দৈহিক কিছু জটিলতা ছিল। সেসবের সমাধান করার পর কনসিভ করি। সেটা ছিল একটি মিরাকাল চাইল্ড। সবাই খুব খুশি। আমার স্বামীও খুশি। তবে গর্ভধারণের আট মাস পর বুঝতে পারি, অন্য একটা সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছি। আমার স্বামী খুব সহজভাবে সন্তান ধারণের বিষয়টি নিতে পারেনি, সেটা দেখতে পাই। কারণ, সে তখন একটা পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়, আমারই অফিসের এক কর্মচারীর সঙ্গে। স্বামীকে ফেরেশতার মতো ভাবতাম। কারণ, ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি একসঙ্গে। একটা মানুষের সঙ্গে ১০/১২ বছর সংসার করছি। তার সঙ্গেই তো আমার বেড়ে ওঠা। কিন্তু তার ভেতরে কী চলছিল, বুঝিনি। বিষয়টা পুরোপুরি বুঝতে পারি সন্তান হওয়ার ১২ দিনের মাথায়। চার দিনের মাথায় বিষয়টি ধারণা করি। সন্তান হওয়ার পর আমাকে হাসপাতাল থেকে নিতে আসার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে কেউ ছিল না। ইউনাইটেডের সামনে দুটো গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়িতে কোনো লোক নেই। আমি একা। আমার ছোট ভাই আসে। ছোট ভাই, সন্তান নিয়ে বাসায় যাই। বেহায়ার মতো। এখন মনে হয়, বেহায়ার মতো গিয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, আমি তো আমার বাড়িতে যাচ্ছি। মায়া, ভালোবাসার জায়গাটা খুব শক্ত ছিল। ৩০ মিনিট স্বামীকে না দেখলেই মনে হয় পাগল হয়ে যেতাম। ওকে না দেখতে পেলে অসুস্থ লাগত। ১২/১৪ বছরেও সেটা কমেনি। আগের মতো ছিল। কিন্তু সেই মানুষটা বদলে গেছে। এরপর ছয় মাস কোনো রকম সংসার টেকে। সে আবার একটা পরকীয়ায় জড়ায়। তখন বুঝলাম, আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়। শক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে ক্ষয় করে ফেলছি। সেই সময় সে আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়। এত কিছুর পরও কেবল সন্তানের দিকে তাকিয়ে ডিভোর্সটা দিতে চাইনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকল না। আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেল।

প্রতিষ্ঠানের মালিক মেয়ে, সমাজ এখনো সেটা নিতে পারে না

আমার প্রথম ব্যবসা রেড বিউটি স্যালুন। রেড নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আরেকটা বড় ধাক্কা খাই সমাজের কাছে। পার্লার-ভাড়া দেব না। মালিক মেয়ে ভাড়া দেওয়া যাবে না। ব্যাপারটা এ রকম যে একটা মেয়ে বুঝি এর যোগ্য নয়। সে ঠিকমতো বাড়ি ভাড়া দিতে পারবে না। ওই ধাক্কাটাও আমাকে বেশ নাড়া দেয়। এমনও হয়েছে, দুটো বাড়িতে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। দুটোই ফেরত নিতে হয়েছে। তৃতীয় যেই বাড়িটি ছিল, সেখানে তো এমন হয়েছে যে ইন্টেরিয়র হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাড়িওয়ালা এসে বলে, ‘কাজ থামিয়ে দাও। আমি বাড়ি দিব না।’ তখন তাকে বলি, ‘আমি ব্যবসা শুরু করব। আপনি নিজে এখানে বসে থেকে দেখবেন। আপনার যদি কোনো অভিযোগ থাকে, আমি একদম কোনাে কথা না বলে ব্যবসা ছেড়ে নেমে যাব। এখন বললেই আমি বন্ধ করতে পারি না।’ পরে উনি আমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতেন।

ডিভোর্স হওয়ার পর ভীষণ কাঁদতাম। মনে হতো, আর উঠে দাঁড়াতে পারব না। হয়তো আত্মহত্যা করে ফেলব। ধীরে ধীরে সন্তানের মুখের দিকে তাকালাম। মনে হলো, বাচ্চাটার জন্য আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। একটা পুরুষের কাছে আমি হেরে যেতে পারি না। হেরে যাওয়ার জন্য জন্মাইনি। এরপর আবার উঠে দাঁড়ালাম। কাজ করা শুরু করলাম। ভীষণভাবে কাজে ডুবে যাই।

বাচ্চাটা তার বাবাকে খুব মিস করত। বাবাকে ফোন করে বলত, ‘তুমি কিছুক্ষণের জন্য আমার কাছে আসো। এসে খেলা করে যাও। দরকার হলে মা তখন বাসায় থাকবে না।’ এমনভাবে বাবাকে কাছে চাইত যে তখন মনে হলো, ছেলের একটা বাবা চাই। পরিবারের সবাই আমাকে বোঝাতে শুরু করল। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে হলো আমার। স্বামীর নাম উলফাত চৌধুরী রাতুল। তাদের পরিবার ও সে আমি ও আমার সন্তানকে খুব সুন্দরভাবে গ্রহণ করে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন ভালো আছি।

নারীর পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়াতে চাই
রেডের ক্লায়েন্ট ভালো। কোভিডের কারণে আমরা একটু পিছিয়ে গেলেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে এটি ভালোভাবেই চলছে। আর উজ্জ্বলার শুরুটা হয় নারীর পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে নিয়ে। আমি একজন মা, আমার মতো এ রকম আরও মা-মেয়ে রয়েছেন, যারা সমাজে ভীষণ লড়াই করছেন। তাদের পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়াতে চাই।

কীভাবে একজন নারী বিউটি আর্টিস্ট হবে, কীভাবে সে পারসোনাল ও প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে ভারসাম্য আনবে এবং ব্যবসাটাকে সফলভাবে ধরে রাখবে- সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি উজ্জ্বলায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্তির আধার
মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা আর কী লড়াই করছি। এর চেয়ে বেশি লড়াই-সংগ্রাম করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি সম্পূর্ণ পরিবারকে হারিয়েছেন। এরপরও টিকে আছেন এবং শক্তভাবে, যোগ্যতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছেন। তাকে দেখলে তো আর কিছুই লাগে না। তিনিই শক্তি।

নারীদের থামলে চলবে না

যতই শিক্ষিত-যোগ্য হোক না কেন, একজন নারীকে কেবল নারী হওয়ার কারণে বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু থামলে চলবে না। এগোতে হবে। সৎভাবে, পরিশ্রমী হয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে।

কোমর ব্যথায় অসহ্য জীবন? দূর করতে পরামর্শ

ডা. মো. ফরিদ রায়হান

চেয়ারে বসেছেন, উঠতে পারছেন না। অসহ্য কোমর ব্যথা। অথবা একটু নুয়ে কোনো কাজ করতে গেছেন। মাঝপথেই থেমে গেলেন। কাজটাই আর হলো না। কোমর ব্যথায় যারা ভোগেন, হরহামেশাই এসব সমস্যায় পড়েন। আসলে কোমরের ব্যথায় ভোগেন না, এমন মানুষ কমই রয়েছে। বেশিরভাগকেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।

কারণ
# পেশি ও হাড়ে ব্যথা
# ফাইব্রোমায়ালজিয়া
# অস্টিও-আর্থ্রাইটিস
# স্পনডাইলোডিসকাইটিস
# স্পনডাইলোসিস
# এনকাইলজিংস্পন্ডাইলাইটিস

যেসব সমস্যা হয়
# কোমর থেকে ব্যথা ডান/বাম উভয় পা, হাঁটু, পায়ের গোঁড়ালি বা আঙুল পর্যন্ত নামতে পারে।
# রোগী হাঁচি-কাশি দিলে ব্যথা বেড়ে যায়।
# সামনে ঝুঁকলে বা শুয়ে পা উঁচু করলে ব্যথা বাড়ে।
# আক্রান্ত পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ বা জ্বালাপোড়া ভাব হয়।
# হাঁটা বা চলাফেরা করলে ব্যথা বাড়ে।
# আক্রান্ত পা ভারী, দুর্বল বা অবশবোধ হয়।
# ব্যথার সঙ্গে মূত্র বা মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রাথমিকভাবে করণীয়
কোমর ব্যথার যথাযথ চিকিৎসা রয়েছে। কিছু উপায় মেনে চললে ৯০ ভাগ পর্যন্ত ব্যথা কমে যেতে পারে। এ জন্য কিছুদিন-
# পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া।
# শক্ত বিছানায়, নরম বালিশে ঘুমানো।
# নিচু হয়ে ভারী কিছু না তোলা বা ভারী কাজ না করা।
# চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যায়াম শিখে সে অনুযায়ী পালন করা।
# বিছানা থেকে ওঠার সময় কাত হয়ে ওঠা।
# ওজন কমানো।

কোমর ব্যথায় অনেকেই ভোগেন। ছবি : সংগৃহীত
কোমর ব্যথায় অনেকেই ভোগেন। ছবি : সংগৃহীত

করণীয়
# সর্বপ্রথম একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
# চিকিৎসক রোগী দেখে এবং প্রয়োজনে কোমরের এক্স-রে, এমআরআই পরীক্ষা করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
# অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই কিছু ওষুধ সেবন করলে এবং নিয়ম মেনে চললে ব্যথা সেরে যায়।
# অল্প কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। যেমন :
১. তিন মাস ওষুধ সেবনের পর অসহনীয় ব্যথা থাকলে।
২. ব্যথা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করলে।
৩. মূত্র ও মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে।
৪. পা ভারী, অবশ বা দুর্বল হয়ে গেলে।

লেখক : নিউরো ও স্পাইনাল সার্জন
কনসালট্যান্ট, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

দাঁত ব্রাশের সঠিক সময় জেনে নিন

ডা. সানজিদা হোসেন পাপিয়া
দাঁত সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হলো দৈনন্দিন যত্ন বা পরিচ্ছন্নতা। এটি করা গেলে দাঁত ও মুখের অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দৈনন্দিন যত্নের মধ্যে সবার আগে রয়েছে দাঁত ব্রাশ করার সময় নির্ধারণ করা। এটি সঠিক সময়ে করতে হবে। সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকে দাঁত ব্রাশ করে, সকালবেলা নাশতার পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে। আর রাতের খাবারের পর, ঘুমাতে যাওয়ার আগে- এই দুটো সময় দাঁত ব্রাশ করার সময়টা মেনে চলা গেলে, অনেক সমস্যা থেকে দাঁত ও মুখের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ ছাড়া মুখের ও দাঁতের যত্নে আরও একটি বিষয় রয়েছে। সেটি হলো ডেন্টাল ফ্লসিং। দুই দাঁতের মাঝামাঝি জায়গায় খাবার আটকানোর যে ঝমেলা, সেটি রোধে অনেকে টুথপিক ব্যবহার করেন। অনেকে আবার ধারালো সেপটিপিন বা পিন জাতীয় জিনিস ব্যবহার করে। এগুলো খুব ক্ষতিকর। এসব ব্যবহার না করে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। বাজারে বেশ ভালো মানের ফ্লস পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

অনুলিখন : শাশ্বতী মাথিন

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, কীভাবে বুঝবেন?

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল
বাংলাদেশের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে। এদের অধিকাংশ বাহকেরা জানতেও পারে না যে তারা বাহক। দুজন বাহকে বিয়ে হয়ে গেলে সর্বনাশ। আশঙ্কা থাকে এদের পঁচিশ শতাংশ বাচ্চা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে, পঞ্চাশ শতাংশ হবে বহনকারী। তবে একজন বাহক আর একজন বাহক নন এমন ব্যক্তির মধ্যে বিয়ে হলে কোনো ভয় নেই।

বাংলাদেশে প্রতি বছর দেড় হাজার বাচ্চা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করছে। নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামি পঞ্চাশ বছরে থ্যালাসেমিয়ার রোগী দ্বিগুণ হবে।

থ্যালাসেমিয়া কী?
থ্যালাসেমিয়া রক্তের এক বিশেষ ধরনের অসুখ। এটা ক্যানসার নয়, ছোঁয়াচেও নয়। থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ। মানুষের শরীরে কোষের ভেতর যে জিন থাকে, সেই জিন এই রোগের বার্তা বহন করে।

আসুন থ্যালাসেমিয়াকে জানি

আমাদের রক্ত কেন লাল? কারণ, আমাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা থাকে। এখানে হিমোগ্লোবিন নামে বিশেষ ধরনের রঞ্জক পদার্থও থাকে। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ কী? হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা।

থ্যালাসেমিয়া বলে এক ধরনের বংশগত রোগ রয়েছে। এটি শরীরে বিশেষ ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লেবিন তৈরি করে। স্বাভাবিক লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিনের কারণে অথবা বলা যায় হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কমে যায় এবং লোহিত কণিকাগুলো সহজেই ভেঙে যায়। এ অবস্থায় অস্থিমজ্জার পক্ষে একই হারে লোহিত কণিকা তৈরি সম্ভব হয়ে ওঠে না। এতে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। সেখান থেকে দেখা দেয় নানা রকম উপসর্গ। এই হলো থ্যালাসেমিয়া।

থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ

থ্যালাসেমিয়া অনেক রকমের রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিনেরও রকমফের ঘটে। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায়, থ্যালাসেমিয়া প্রধাণত দুই প্রকার। যথা ১. আলফা থ্যালাসেমিয়া। ২. বিটা থ্যালাসেমিয়া।

বিশ্বে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলফা থ্যালাসেমিয়া তীব্র হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এর উপসর্গও বোঝা যায় না, রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। বিটা থ্যালাসেমিয়া আবার দুই রকমের হতে পারে। একটি বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর। এদের থ্যালসেমিয়া ট্রেইট বা ক্যারিয়ার বলে। অপরটি মেজর।

থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট আর থ্যালাসেমিয়া এক নয়। কারণ, এরা মূলত রোগটির বাহক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এদের শরীরে থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অনেকে হয়তো অজান্তেই সারাজীবন এই রোগ বহন করে চলে। অল্প কিছু ক্ষেত্রে মৃদু রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। বাবা ও মা উভয়ে থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট হলে ভূমিষ্ঠ শিশুর শতকরা ২৫ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।

উপসর্গ
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গগুলো মূলত রক্তস্বল্পতার কারণে সৃষ্ট উপসর্গ। অর্থাৎ ক্লান্তি, অবসাদগ্রস্ততা, শ্বাসকষ্ট, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া এসব। রক্ত অধিক হারে ভেঙে যায় বলে জন্ডিস হয়ে ত্বক হলদে হয়ে যায়। প্রস্রাবও হলুদ হতে পারে। প্লীহা বড় হয়ে যায়। যকৃতও বড় হয়ে যেতে পারে। অস্থি পাতলা হয়ে যেতে থাকে। চেহারার বিশেষ পরিবর্তন হয়। নাকের হাড় দেবে যায়। মুখের গড়ন হয় চীনাদের মতো। একে বলে ‘মংগোলয়েড ফেইস’। আস্তে আস্তে দেখা দেয় বিশেষ কিছু জটিলতা।

রোগীকে ঘনঘন রক্ত দিতে হয় বলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এই আয়রন জমা হয় হৃৎপিণ্ডে, যকৃতে, অগ্ন্যাশয়ে। এই পর্যায়টি মারাত্মক। দেখা যায়, অতিরিক্ত আয়রন জমে যাওয়ার কারণে অঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। এ রকম পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগী মারা যেতে পারে। বারবার রক্ত পরিসঞ্চালনের কারণে রোগীরা সহজেই রক্তবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

মানসিক চাপ দেহের ক্ষতি করছে, কীভাবে বুঝবেন?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, না পাওয়ার বেদনা ইত্যাদি মানসিক চাপ তৈরির জন্য যথেষ্ট। মনোবিশেষজ্ঞরা বলেন, কখনো কখনো চাপ থাকা ভালো। এতে কাজের গতি বাড়ে। তবে চাপ যদি খুব বেশি হয়, তাহলে এর প্রভাব পড়ে দেহে। শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি ডেকে আনে মানসিক চাপ।

মানসিক চাপের কারণে হওয়া দৈহিক বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছে মায়োক্লিনিক।

১. ঘন ঘন সংক্রমণ হওয়া
২. মাথাব্যথা
৩. দম বন্ধ অনুভূত হওয়া
৪. অস্থিরতা
৫. রুচিহীনতা
৬. পেশিতে টান অনুভব করা বা খিঁচুনি
৭. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ধ্যান করা, পর্যাপ্ত ঘুম, কাউন্সেলিং ইত্যাদি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই সমস্যা বেশি মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াই করছেন? ৫ বিষয় মেনে চলুন

সাতকাহন২৪.কম

সকালবেলা ঘুমটা ভাঙলো। চোখ মেলতেই মনে হলো, কেন আরেকটা দিন শুরু হলো? রাজ্যের সব নেতিবাচক চিন্তা, হতাশা মাথায় ভর করতে লাগলো। এক ভীষণ অনিশ্চয়তা মাথায় যেন গিজ গিজ করছে। বিষণ্ণতায় যারা ভোগে, তারা এই অবস্থার সঙ্গে পরিচিত। গবেষণায় বলা হয়, বিষণ্ণতায় ভোগা ব্যক্তিদের ১৫ শতাংশ আত্মহত্যা করে ফেলে।

এই ভয়ংকর রোগটি থেকে রেহাই পেতে কাউন্সেলিং জরুরি। প্রয়োজন হলে ওষুধ খেতে হবে। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু বিষয় মেনে চললে বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াই সহজ হয়। বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াইয়ে কিছু উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।

১. রুটিন মেনে চলুন
বিষণ্ণতায় থাকলে কিছুই করতে ইচ্ছে করে না। পছন্দের কাজগুলোও অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে উঠে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় রুটিন মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি। খাওয়া, ঘুম, কাজ সবকিছুরই একটি রুটিন তৈরি করে ফেলুন। আর সম্পূর্ণ সম্ভব না হলেও, ৭০ ভাগ মেনে চলার চেষ্টা করুন।

২. লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আমি অথর্ব।’- বিষণ্ণতার সময় এসব নেতিবাচক চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বেশ পাকাপোক্তভাবে। এগুলোকে সরিয়ে দৈনন্দিন কাজের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। কাজটি শেষ করতে পারলে নিজেকে বাহবা দিন।

৩. ব্যায়াম
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম বিষণ্ণতা কমাতে বেশ উপকারী। তাহলে কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন? খুব বেশি নয়। দিনে অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটুন। তাই যথেষ্ট।

৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ভেতর ও বাইরে থেকে সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সবজি, ফল, মাছ ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমান
বিষণ্ণতার সময় অনেকেরই ঘুমে অসুবিধা হয়। তবে সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চেষ্টা করুন দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমাতে।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য : কারণ ও করণীয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

শিশুর পায়খানা করতে কি কষ্ট হয়? পায়খানা কি শক্ত হচ্ছে? কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুর একটি প্রচলিত সমস্যা। সাধারণত শক্ত ও শুকনো পায়খানা হওয়াকে কােষ্ঠকাঠিন্য বলে। অনেকেই এ রোগে ভোগে। তবে বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই সমস্যাটি সাময়িক।

লক্ষণ
১. সপ্তাহে তিনবারের কম পায়খানা হওয়া।
২. শক্ত ও শুষ্ক পায়খানা, যা করতে শিশুর কষ্ট হয়।
৩. পায়খানা করার সময় ব্যথা হওয়া।
৪. পেটব্যথা।
৫. শিশুর পায়জামা বা প্যান্টে পায়খানার দাগ লাগা।
৬. রক্তমাখা শক্ত পায়খানা।

কারণ
পায়খানা ধরে রাখা; অনেক সময় শিশুরা খেলায় ব্যস্ত থাকলে পায়খানা আটকে রাখে বা করতে ভুলে যায়। এ ছাড়া অপরিচিত পরিবেশে পায়খানা করতে অস্বস্তি হওয়ায় পায়খানা ধরে রাখ।

  • টয়লেট ট্রেনিংয়ে ত্রুটি
    অনেক মা-বাবা জোর করে বাচ্চাকে টয়লেট ট্রেনিং করান। এতে শিশু জেদের কারণে পায়খানা করতে চায় না।
  • খাদ্যাভ্যাসে ত্রুটি
    যথেষ্ট পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার, ফল, তরল পদার্থ না খেলে এ সমস্যা হতে পারে।
  • দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন
    শিশুর দৈনন্দিন রুটিনে বাধা পড়লে এ সমস্যা হতে পারে। যেমন : হঠাৎ স্কুল শুরু হওয়া, দীর্ঘ ভ্রমণ, হঠাৎ গরমে অস্বস্তি ইত্যাদি।
  • পারিবারিক ইতিহাস
    পরিবারের পিতা-মাতা বা নানা-নানি বা দাদা-দাদির এই সমস্যা থাকলে শিশুর হতে পারে।
  • বিরল কারণ
    হজমে সমস্যা, স্নায়ুরোগ, শারীরিক ত্রুটি ইত্যাদি বিরল কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • জটিলতা
    দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। যেমন : এনাল ফিসার, পাইলস, মলদ্বারের ভেতরের নরম মাংস বাইরে বেরিয়ে আসা (রেক্টাল প্রোলাপস) ইত্যাদি।

প্রতিরোধ
১. উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ানো। যেমন : ফল, সবজি, মটরশুঁটি, রুটি ইত্যাদি।
২. শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করতে সাহায্য করা।
৩. খেলাধুলা করতে উৎসাহ দেওয়া।
৪. দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগ করতে উৎসাহিত করা।
৫. পায়খানা করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
৬. শিশু কাপড় নষ্ট করে ফেললে শাস্তি না দেওয়া।
৭. শিশু কোনো ওষুধ খেলে এর কারণে হচ্ছে কিনা, খেয়াল রাখা।

সূত্র: ওয়েবএমডি

ঘাড়ের ত্বকের যত্নে ৩ পরামর্শ

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

ত্বকের যত্নের বিষয়ে প্রথমেই মনে আসে মুখের কথা। ঘাড় যেন ভীষণ অবহেলিত অংশ। মুখে হয়তো ময়েশ্চারাইজার, অ্যান্টি অ্যাজিং ক্রিম, ফেইস প্যাক সবসময় লাগাচ্ছেন, আর ঘাড়ে একটু ক্রিম লাগাতেও অনিহা।

তবে বয়সের ছাপ কিন্তু প্রথমে ঘাড়েই বেশি পড়তে শুরু করে। তাই এর যত্ন জরুরি। ঘাড়ের ত্বকের যত্নে কিছু বিষয় জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সানস্ক্রিন
মুখের পাশাপাশি ঘাড়েও মাখুন সানস্ক্রিন। সানস্ক্রিন রোদের অতি বেগুনি রস্মি থেকে আপনার ত্বককে সুরক্ষা দেবে। ঘাড়ের কালচে ভাব কমাবে।

মৃত কোষ দূর করুন
শুষ্কতা, পোড়াভাব, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি কারণে ঘাড়ের ত্বক সৌন্দর্য হারায়। তাই নিয়মিত মৃত কোষ দূর করা বা এক্সফোলিয়েট করা জরুরি। বাজারে বিভিন্ন স্ক্রাব পাওয়া যায়। ঘাড়ের মৃত কোষ দূরে এসব ব্যবহার করতে পারেন।

রুটিন মেনে চলুন
মুখের পাশাপাশি ঘাড় পরিষ্কার করুন। খুব ঝামেলা মনে হলে যেই ক্রিমটি মুখে ব্যবহার করছেন সেটিই ঘাড়ে লাগান। কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণ ভালো থাকে?

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

সকালবেলার নাস্তায় ডিম না খেলে অনেকের চলেই না। আবার অফিসে হোক বা টিফিনে- রোজ একটা ডিম খাওয়া চাই- ই চাই। এই খাবারটির প্রতি আগ্রহ কিন্তু অনেকের। তবে জানেন কি সিদ্ধ করে রাখা একটি ডিম কতক্ষণ ভালো থাকে? এর উত্তর জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ লাইন। আসুন জানি।

সিদ্ধ করে রাখা একটি ডিম ফ্রিজে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অর্থাৎ সাত দিন ভালো থাকে। তবে এটি হতে হবে খোসাসহ। খোসাছাড়া ডিম বেশিদিন ভালো থাকে না। খাবারটি সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা হতে হবে অন্তত চার দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম।

তবে ফ্রিজ ছাড়া সিদ্ধ ডিম তিন ঘণ্টার বেশি ভালো থাকে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাই সিদ্ধ ডিম খেতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খেয়ে নেওয়াই উপকার।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.