সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অক্টোবর হলো স্তন ক্যানসার সচেতনা মাস। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার ৭শ ৬৪ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। মারা যায়, ৬ হাজার ৮শ ৪৪ জন। বাংলাদেশের মেয়েরা যেসব ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এটি। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো জানা জরুরি।
স্তন ক্যানসার কী? এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার ফোরামের চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. হাবিবুলল্লাহ তালকুদার রাসকিন বলেন, ‘আমাদের শরীর আসলে কোটি কোটি কোষের সমষ্টি। এই কোষ শুরু হয়েছে একটি মাত্র আদি কোষ থেকে। স্বাভাবিকভাবে কোষ বাড়ার একটি নিয়ম রয়েছে। তবে কোনো কারণ ছাড়া অস্বাভাবিক কোষের বাড়লে তাকে টিউমার বলা হয়। টিউমার প্রধাণত দুই রকম। বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগনেন্ট টিউমার। ম্যালিগনেন্ট টিউমার দেহের যেখানেই হোক, তাকে বলে ক্যানসার। স্তনে বিনাইন টিউমার হতে পারে। ছড়াবে না। কিছু করবে না। অস্ক্রোপচার করে ফেলে দিলে হয়ে যাবে। আবার ম্যালিগনেন্ট টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে। ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
স্তন ক্যানসারের লক্ষণের বিষয় ডা. রাসকিন জানান, এটি হলে বােগলে গোল পিণ্ড বা গোটার মতো হতে দেখা যায়। মার্বেলের গোটার মতো। স্তনের কোনো অংশে ফোলা ফোলা ভাব হতে পারে। বোঁটা বা এর চারপাশের এলাকায় ব্যথা ও লালচেভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্তনের আকারের পরিবর্তন হতে পারে। অনেক সময় স্তনের যেকোনো অংশে ব্যথা নিয়েও রোগী আসতে পারে।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দেন ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য, সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও ভালো থাকাটাই হোক বৈশ্বিক অগ্রাধিকার। ২০২১ সালে করা একটি পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বয়স্কদের মধ্যে ১৬ দশমিক আট শতাংশ ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। অর্থাৎ জনসংখ্যার অনুযায়ী দেশে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সাতকাহন২৪.কমের সঙ্গে কথা হয় সাইকোলজিস্ট ফারজানা ফাতেমা রুমীর সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শাশ্বতী মাথিন। সাক্ষাতকারটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।
সাতকাহন২৪.কম : মানসিক স্বাস্থ্যর প্রতি কেন গুরুত্ব দিতে হবে? ফারজানা ফাতেমা : একজন মানুষের সুস্থ থাকা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ে উপরে। এগুলো হলো- শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক। মানসিক স্বাস্থ্যকে বাদ দিয়ে সুস্থ থাকা কখনোই সম্ভব নয়। চারা গাছ টিকিয়ে রাখতে যেমন খাবার, রোদ, বেড়া বা মাচা দরকার, তেমনি একজন ব্যক্তিকে সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। এটি ভালো না থাকলে কখনোই ভালোভাবে জীবনযাপন সম্ভব নয়। একজন মানুষ জন্ম নেয় কিছু ক্ষমতা নিয়ে। পৃথিবীতে আসার পর পরিশ্রম ও মেধার চর্চার মাধ্যমে সেই ক্ষমতা দক্ষতায় পরিণত হয়। একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে ব্যক্তি জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে সুখি ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে না। মানুষ তার যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে পারে না। আর এই জন্য মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি।
মনকে ভালো রাখার বিষয়টিতে অনেকেই অবহেলা করে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি মানুষ আগে থেকে বোঝে না। শুরুর দিকে হয়তো কারো কোনো বিষয় নিয়ে বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ হচ্ছে। তখন সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলো না। ধীরে ধীরে সমস্যাটি বেড়ে আত্মহত্যার মতো প্রবণতাও তৈরি হয়। তাহলে প্রথমেই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলে হয়তো এই অবস্থায় আসতে হতো না।
সাধারণত বয়োঃসন্ধির সময়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, নতুন বিয়ে, মেনোপোজ, নতুন চাকরি, চাকরি হারানো, ডিভোর্স, আর্থিক টানা-পোড়েন ইত্যাদি ট্রানজিট সময়ে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ি। এমন সময়ের মুখোমুখি হলে কীভাবে এসবের ব্যবস্থাপনা করবো, তা আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। এতে মানসিক স্বাস্থ্য অনেকটাই ভালো থাকে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সঠিক ফোকাস করা যায়। আসলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে কখনোই কাজ করার ক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়বে না।
সাক্ষাতকার দিয়েছেন সাইকোলজিস্ট ফারজানা ফাতেমা রুমী। ছবি : সংগৃহীত
সাতকাহন২৪.কম : মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে ভালো রাখা যায়? ফারজানা ফাতেমা : প্রথমত, নিজেকে ভালোবাসতে হবে এবং মনের সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন, আমরা মানুষকে হাসার কথা বলি। কেন? এতে মন ভালো করার হরমোন ডোপামিন বের হয়। এতে ধীরে ধীরে মন ভালো হবে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খুব জরুরি একটি বিষয় হলো একটি দৈনিক রুটিন তৈরি করা এবং সেই দিকে ফোকাস করা। সময়টাকে যেন ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। খাওয়া, গোসল, কাজ ইত্যাদি এই রুটিনের ভেতর নিয়ে আসতে হবে। মন ভালো রাখতে, নিজেকে শিথিল রাখতে শ্বাস- প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে। আর অবশ্যই কিছুটা হলেও নিজেকে সময় দিতে হবে এবং নিজের পছন্দের কাজগুলো করতে হবে। ভালো মুভি দেখতে পারি। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে পারি। ধর্মীয় চর্চা করতে পারে। গল্পের বই পরতে পারি। মূলত, যেটা আমার ভালো লাগবে, বাড়তি শক্তি দেবে- এমন কাজ করা।
এ ছাড়া অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, ফ্যাট ফুড এড়িয়ে যেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম মনের চাপ কমায়। তাই এই কাজটিও অবশ্যই করুন।
টক্সিক বা বিষাক্ত পরিবেশ ও ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করুন বা এড়িয়ে চলুন। একদমই সম্ভব না হলে যতটুকু যোগাযোগ না করলেই নয়, ততটুকুই করুন। পাশাপাশি নিজেও যেন আমরা অন্যের জন্য বিষাক্ত না হয়ে যাই, সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক: মানসিক স্বাস্থ্যে বিষয়ে কথা বলা নিয়ে বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া নিয়ে কিছু স্যোসাল স্টিগমা বা সামাজিক বাধা কাজ করে। এই সমস্যা কীভাবে কাটানো যায়? ফারজানা ফাতেমা : মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আসলে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। এর বিকল্প নেই। যত এই বিষয়ে পজিটিভ কথা বলা হবে, তত সামাজিক বাধাগুলো কমবে। যেমন ধরুন, ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন একবার ভীষণ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াতে কথা বলেছেন। অনেকেই নিজের সঙ্গে তাকে মেলাতে পেরেছে। এভাবে কথা বলতে হবে। আমরা তো রয়েছেই, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত, জনপ্রিয় মানুষেরও এসব বিষয়ে কথা বলতে হবে।
তখন সাধারণ মানুষও একে সহজভাবে নিতে শিখবে। শরীরের কোনো অসুখ হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারি, তাহলে মনের অসুখে কেন যেতে পারবো না? মানসিক রোগী মানেই পাগল নয়। আমরা দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিনিয়ত অনেক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাই। এসব সামাজিক বাধাগুলো আমাদেরই অতিক্রম করতে হবে।
সাতকাহন২৪.কম : সাতকাহন২৪ এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ । ফারজানা ফাতেমা : আপনাদেরও ধন্যবাদ।
১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় আহনা ইসলাম নিলার। এরপর সংসার-সন্তানের চাপের কারণে লেখাপড়াটা আর হয়ে উঠেনি। সন্তান হওয়ার সাত বছর পর স্বামী বিদেশে কাজের জন্য চলে যায়। সে সময় খুব একা লাগতো তার। কী করা যায় ভাবছিলেন? ছোটবেলা থেকে সাজগোজের প্রতি যেহেতু একটু আগ্রহ ছিল, তাই এর ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করলেন।
উজ্জ্বলা থেকে বিউটিফিকেশনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে নিজেই একটি স্যালন খুলেছেন। ঢাকার কামরাঙ্গীচরে অবস্থিত এই স্যালন থেকে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। তাঁর চলার পথের বাধা-বিপত্তি এবং সহযোগী হিসেবে উজ্জ্বলার ভূমিকার কথা জানবো আজ।
অনেক জায়গায় কাজ শিখতে যাই, তবে উজ্জ্বলাকেই ভালো লাগে
স্বামী বিদেশে চলে যাওয়ার পর সময়টাকে কাজে লাগাতে চাচ্ছিলাম। খুব নিঃসঙ্গ লাগতো তখন। লেখাপড়াটা তো পুরোপুরি শিখতে পারিনি! অনেকেই কাজ করতে নিষেধ করেছে। বলেছে, ‘কী দরকার বাচ্চা রেখে প্রশিক্ষণ নেওয়ার? তোমার তো কাজ করার প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু আমি সীদ্ধান্তে অটল ছিলাম।
আমার ছোট বোনের একটি পার্লার ছিল। সেখানে কিছুদিন কাজ শিখি। কিন্তু তখন ভালোমতো শিখতে পারিনি। এরপর খুঁজছিলাম কোথায় একটু ভালোভাবে শেখা যায়। অনেক জায়গা ঘুরেছি। কোনো জায়গা ঠিক মনমতো হচ্ছিলো না। সম্পূর্ণ কোর্স শেখাতে এক থেকে দেড় লাখ টাকা চাইতো তারা। এটা আমার জন্য বহর করা সম্ভব ছিল না। এরপর একদিন মোহাম্মদ পুরে রেড বিউটি স্যালনে যাই। তারা আমাকে উজ্জ্বলার খোঁজ দেয়। এরপর উজ্জ্বলায় এসে কথা বলে খুব ভালো লাগে। এখানেই প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি। যদিও আমার সন্তান রেখে বাসা থেকে আসা-যাওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো। তবে উজ্জ্বলার প্রতি ভীষণ টান ছিল আমার। সবসময় ভেবেছি কাজটা আমি শিখবোই।
উজ্জ্বলা সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে
আমি অন্য জায়গায় তিন বছর কাজ শিখি। কিন্তু নিজে স্যালন চালাতে পারবো, সেই আত্মবিশ্বাস পাইনি। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ শেষে সেই আত্মবিশ্বাস ও সাহস পাই। এখানে খুব সূক্ষ্মভাবে, ধরে ধরে কাজ শেখায়। না বুঝলে প্রশিক্ষকরা কখনো বিরক্ত হন না। তারা সবসময় বুঝিয়ে দিতেন। এখান থেকে কাজটা খুব ভালোভাবে শিখতে পেরেছি। এখানের সব শিক্ষকরাই খুব ভালো ছিলেন। আমাদের সঙ্গে খুব আপন হয়ে, বন্ধুর মত মিশতেন। সুখ-দুঃখের সব কথাই তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যেতো। তাদের কারণে আজ আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। উদ্যোক্তা হতে পেরেছি।
অনেকেই ঈর্ষা করে
যারা আমাকে কাজ করতে নিষেধ করতো, তারা আমি সফল হওয়ার পরও ঈর্ষা করে। আমি আয় করছি, এটা তাদের ভালো লাগে না। আসলে সমাজের অনেকেই থাকে যারা সব কিছুতেই নেতিবাচক বিষয়টি আগে খুঁজে বের করে। শুরুতে কষ্ট পেতাম এসব ভেবে। তবে এখন আর পাই না। এই মানসিক শক্তিটাও উজ্জ্বলার কাছ থেকে পেয়েছি। তারা শিখিয়েছি কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশেও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। উজ্জ্বলা থেকে আমি সেরা-১০ বিউটি আর্টিস্ট হওয়ার সম্মাননা পেয়েছি। এটা আমার চলার পথে শক্তি জুগিয়েছে। সেরাটন হোটেলে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে মন্ত্রী ও অভিনয় শিল্পীরা ছিলেন। তাঁদের হাত থেকে পুরষ্কার পাই। পুরষ্কার নিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। এই দিনটি আমার কাছে ভীষণ স্মরণীয়।
প্রশিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে
উজ্জ্বলার শিক্ষকদের দেখে আমার খুব ভালো লাগতো। কত সুন্দর করে তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিতেন। আমিও তাঁদের মতো প্রশিক্ষক হতে চাই এবং নিজের কাজ দিয়ে আরো এগিয়ে যেতে চাই। নিজের কাজ দিয়ে যেন উজ্জ্বলার মান ধরে রাখতে পারি, এটাই চাওয়া।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩১তম।
ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য খুব ভালো কোনো উপাদান খুঁজছেন? তাহলে এক কথায় এর উত্তর হতে পারে সিরাম। ত্বককে কোমল, মসৃণ করতে, তারুণ্য ধরে রাখতে, শুষ্কতা কমাতে সিরামের জুড়ি নেই। বিশ্বব্যাপী বিউটি প্রোডাক্ট হিসেবে এখন এর কদর বেশ।
সিরাম কী?
শিওরসেল মেডিকেল বিডি-এর প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন বলেন, ‘সিরাম হলো এক ধরনের অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট হাইলি কনসানট্রেটেড ফর্মুলা। এটি ত্বকের খুব গভীরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে কোমল ও নরম করে। সিরাম অত্যন্ত হালকা হয়। এটি লাগালে ত্বকের ওপর কোনো তেল চিটচিটে ভাবও থাকে না। ত্বক একে খুব দ্রুত শুষে নেয়।’
সিরামের উপকারিতা
যেসব সিরামে হায়ালুরনিক অ্যাসিড রয়েছে সেগুলো ত্বকের পানির মাত্রা অর্থাৎ হাইড্রেশনের মাত্রাকে ঠিকঠাক রাখে জানিয়ে ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন বলেন, ‘হায়ালুরনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সিরামে বার্ধক্যরোধী উপাদান থাকে। এতে বলিরেখা প্রতিরোধ হয়। এই ধরনের সিরামকে ত্বক খুব সহজে শুষে নেয়। এতে ত্বক গভীর থেকে কোমল হয় এবং ত্বকের লাবণ্য বজায় থাকে। সিরাম ত্বকের টোন ও টেক্সচারকে সুন্দর করে। এটি সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে উপকারী। এ ছাড়া ত্বকের দাগ কমাতেও সিরাম কার্যকর। এ ছাড়া অন্যান্য উপাদান সমৃদ্ধ সিরামও ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সহায়ক।’
কীভাবে সিরাম ব্যবহার করবেন?
# সিরাম সাধারণত পাম্পড বা ড্রপার বোতলে পাওয়া যায়। এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলোর ঘনত্ব বেশি। তাই এটি ব্যবহার করতে হয় খুব অল্প পরিমাণে। সম্পূর্ণ মুখের জন্য মটরদানার সম পরিমাণের সিরামই যথেষ্ট।
# কিছু সিরাম দিন ও রাত মিলিয়ে দুই বার ব্যবহার করা যায়। আবার কিছু সিরাম কেবল রাতে ব্যবহার করতে হয়।
# ব্যবহারের আগে বোতলের গায়ে নির্দেশনা দেখে নেবেন। এক বার বোতলের মুখ খুলে ফেললে ছয় মাসের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
# সেরাম শুষ্ক, ঠান্ডা ও নিরাপদ স্থানে রাখুন।
# সাধারণত বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রথমে সবচেয়ে হালকাটি ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজার বা সানস্ক্রিন লাগানোর আগে সিরাম ব্যবহার করতে হবে।
বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সিরাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিউটি প্রোডাক্ট প্রতিষ্ঠান রিজুভা নিয়ে এসেছে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ হাইড্রা গ্লো সিরাম। ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এ ধরনের সিরামও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
রক্তে গ্লুকোজের বা সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়া হলো ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসের প্রধান দুটো ধরন রয়েছে। টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু। এ ছাড়া আরো অপ্রচলিত ধরন পাওয়া যায়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। ডায়াবেটিসের লক্ষণের বিষয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ডায়াবেটিস ইউকে। এগুলো দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘন ঘন প্রস্রাব ও পিপাসা
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। যেহেতু ডায়াবেটিস হলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, তাই শরীর একে কমিয়ে আনতে সক্রিয় হয়ে উঠে। তখন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর এই সুগারকে বের করে। ফলাফল স্বরূপ, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ ছাড়া বার বার পিপাসা পাওয়াও এই রোগের লক্ষণ।
চুলকানি
রক্তে অতিরিক্ত সুগার থাকার কারণে ত্বকে ফাঙাস সংক্রমণের মতো সমস্যা হয়। এতে চুলকানির সমস্যা বাড়ে। এ ছাড়া ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে।
ক্লান্ত লাগা
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভূত হয়। অতিরিক্ত সুগার কোষের ভেতর ঢুকে শক্তি তৈরি করতে পারে না এবং শর্করার ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারে না। এতে ক্লান্ত লাগে। অনেক সময় বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে লাগার মতো সমস্যা হয়।
ক্ষত দেরিতে সারে
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষত দেরিতে সারে। রক্তের সুগারের মাত্রা বাড়ার কারণেই এমনটা ঘটে। এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
অসাড়ভাব
রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ার কারণে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে দেহে অসাড়ভাব অনুভূত হয়।
ঝাপসা দেখা
অনেক সময় রোগী ঝাপসা দেখতে থাকেন। রক্তে অতিরিক্ত সুগার চোখের মণির আকার পরিবর্তন করে দিতে পারে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে।
সাতকাহন২৪.কম
টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য অনেকের কাছেই আনারস বেশ পছন্দের খাবার। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ ও সি। আবার দুধ হলো সুষম খাবার। এর মধ্যে প্রায় সব পুষ্টিগুণ একত্রে থাকে। তবে আনারস- দুধ একসঙ্গে খেলে মানুষ মারা যায়- এমন একটি ধারণা খুব প্রচলিত। বিষয়টি কি আসলে সঠিক? স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এভরিডে হেলথ-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এর উত্তর।
আনারস ও দুধ একসঙ্গে খাওয়াতে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। একটি গবেষণায় বলা হয়, আনারস ও দুধ একত্রে খেলে অনেক সময় পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে এই খাবারগুলো একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া হয়ে মানুষ মারা যাবে বিষয়টি একটি মিথ। এ ধরনের ধারণা সঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারস এসিডিক ফল। দুধের মধ্যে যেকোনো টক জাতীয় খাবার মেশালে এটি ছানা হয়ে যায়। ফেটে যাওয়া দুধ খেলে বদ হজম, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে এ থেকে বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আনারস ও দুধ একসঙ্গে খাওয়ার পর বদ হজম, পেটে ব্যথা ইত্যাদি শারীরিক সমস্যা হলে একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো। একটি খাবারের পর দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে অপর খাবারটি খাওয়া যেতে পারে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ছোটবেলা থেকেই সাজগোজের প্রতি সখ ছিল শাম্মী আখতারের। বড় হবার পর অন্যকে সাজিয়ে দেওয়ারও টুকটাক কাজ করতেন। এক পর্যায়ে স্বামী চাইলেন তিনি কাজটিকে আরো ভালোভাবে শিখুন এবং স্যালন দিক।
এরপর স্বামীর সহযোগিতায় পূর্ণদমে কাজটি করা। উজ্জ্বলায় এলেন প্রশিক্ষণ নিতে। বর্তমানে নিজেই একটি পার্লার খুলেছেন। ভালো আয়ও হচ্ছে। বলেন, ‘উজ্জ্বলার প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। ঘরে স্বামী, আর বাইরে উজ্জ্বলা ছিল বলে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। এখন আমি নিজেই স্বাবলম্বী, নিজেই একজন উদ্যোক্তা। এটা অনেক শান্তি ও শক্তির বিষয়।’
কাজটি ভালোভাবে করার জন্য যখন মনস্থির করলাম, তখন ভালো কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এরপর উজ্জ্বলার খোঁজ পাই। উজ্জ্বলায় গিয়ে, তাদের সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগে। এরপর এখান থেকেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার চিন্তা করি। এখানে শেখার খরচটাও কম। আর কিস্তিতেও সেই টাকা পরিশোধ করা যায়। এখানে নিম্নমধ্য বিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত সবাই শিখতে পারে। এটা খুব ভালো বিষয়- জানান তিনি।
উজ্জ্বলা থেকে সেরা ১০ -এর অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। উজ্জ্বলার সহযোগিতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘শেখার সময় প্রথম দিকে আমি গুটিয়ে থাকতাম। কাজ করতে গেলে ভয় পেতাম। এই বিষয়টা প্রশিক্ষকরা বুঝতে পেরেছিলেন। তখন ধরে ধরে শেখান আমাকে। পরে তো উজ্জ্বলার অ্যাসিসটেন্ট হিসেবেও ক্লাস করেছি।’
আমাদের সমাজে মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়াটা খুব জরুরি। যতই স্বামীর অর্থ থাকুক। মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ নিজের পায়ে না দাঁড়ালে মেয়েরা মূল্যহীন হয়ে পড়বে। ‘ স্বামীর সহযোগিতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়, কখনো কখনো আমার স্বামী রান্নাও করতেন। আমাকে কাজ করার ক্ষেত্রে ভীষণ সহযোগিতা করেন তিনি। প্রত্যেকটি ছেলের এমন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’
ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে বড় পরিসরে সাজাতে চান শাম্মী। জানালেন, প্রতিষ্ঠানটিকে বড় করার ইচ্ছা রয়েছে। উজ্জ্বলা যেই শিক্ষা দিয়েছে, তা পূর্ণদমে কাজে লাগাতে চাই।
বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩০তম।
সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত ত্বক সবারই পছন্দ। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে অনেকেই সার্জারির দিকে ঝুঁকেন বা বিভিন্ন পন্য ব্যবহার করেন।
বয়সকে তো আর ধরে রাখা যায় না। এটা বাড়বেই। আর এর প্রভাব আমাদের দেহেও পড়বে। তবে প্রাকৃতিকভাবে, কোনো সার্জারি ছাড়াই এই প্রক্রিয়াকে একটু ধীর গতির করা যায়। ত্বক তারুণ্যদীপ্ত রাখার কিছু কৌশল জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েলনেসবিন।
পর্যাপ্ত ঘুম
ঘুমের ব্যাঘাত বা ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়; অবসন্নতা ও মানসিক চাপ বাড়ে। আর এর প্রভাব পড়ে ত্বকে। ত্বককে সতেজ ও তরুণ রাখতে চাইলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম জরুরি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মানুষকে দৈনিক আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সানক্রিন ব্যবহার করুন
শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা যাই হোক, রোদ থেকে বাঁচতে সারা বছরই সানক্রিন ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বককে সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। এসপিএফ ৩০ রয়েছে এমন সানস্ক্রিন ত্বকের জন্য ভালো।
স্বাস্থ্যকর খাবার
ত্বক সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের তুলনা নেই। উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার, প্রিজারভেটিভ খাবার, জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত চিনি ও তেলের খাবার এড়িয়ে চলুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর শাক-সবজি ও ফল।
নিয়মিত ব্যায়াম
ব্যায়াম সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি- এ তো সবার জানা। তবে জানেন কি ব্যায়াম ত্বককেও ভালো রাখতে উপকারী? তাই কেবল শরীরকে ফিট রাখতে নয়, চেহারার তারুণ্য ধরে রাখতেও একে দৈনিক রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন। গবেষণায় বলা হয়, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের চামড়া ঝুলে পড়ে না এবং ত্বকের টোনও ভালো থাকে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল কামরাঙা। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে জানেন কি কিডনি রোগীদের জন্য কামরাঙা ক্ষতিকর? হ্যাঁ, এমনটাই মতামত বিশেষজ্ঞদের।
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি জানান, কিডনি হলো দেহের ছাঁকনি বা ফিল্টার। এটি দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রেখে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। যেসব খাবার খেলে কিডনির এই কাজটি করতে অসুবিধা হয়, সেসব খেতে নিষেধ করি আমরা। অর্থাৎ কিডনির ওপর চাপ পড়ে, এমন খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কামরাঙার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অক্সালিক এসিড। রোগীরা এই খাবারটি খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। এতে কিডনি ফেইলিউর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কামরাঙা বেশি খেলে অতিরিক্ত অক্সালিক এসিড কিডনিতে জমা হয়। একে বলে অক্সালেট নেফ্রোপ্যাথি জানিয়ে পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন বলেন, ‘এটি বাড়লে কিডনিতে পাথর হতে পারে। এমনকি শুধু কিডনি রোগী নয়, একজন সুস্থ ব্যক্তিও প্রচুর পরিমাণ অক্সালিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।’
অনেকে কামরাঙা লবণ-মশলা মিশিয়ে খায়। এতে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। উচ্চ রক্তচাপ রক্তের ক্রিয়েটিনিন বাড়িয়ে দেয়। এটি কিডনির জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া কামরাঙার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। এটি হার্ট অ্যাটাক স্ট্রোক, এসিডিটি ইত্যাদির প্রবণতা বাড়ায়।
তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কামরাঙা খেতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর একজন সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো খেতে হবে। কোনো খাবারই বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এমনটাই পরামর্শ দিলেন এই পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন।
ডেঙ্গু জ্বর হলে যেমন প্রচুর পরিমাণ তরল বা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে, তেমনি কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। না হলে রোগীর অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। অনেক সময় পানিশূন্যতা ও রক্তশূন্যতা হয়ে অবস্থা জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
ডেঙ্গু হলে এড়িয়ে যেতে হবে, এমন কিছু খাবারের বিষয়ে জানিয়েছে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি।
কোল্ড ড্রিংকস
জ্বরের সময় অনেকে মুখে রুচি ফিরিয়ে আনতে কার্বোনেটেড বেভারেজ বা কোমল পানীয় পান করেন। এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের পানীয় দেহের পানির চাহিদা পূরণ তো করবেই না, উল্টো পানিশূন্যতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দুধ চা- কফি
দুধযুক্ত চা-কফি ইত্যাদিও পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক নয়। বরং এ ধরনের খাবার পানিশূন্যতা বাড়ায়। এগুলো দেহের ভিটামিন ও মিনারেলকে ভালোভাবে কাজ করতে দেয় না। এতে রক্তশূন্যতা বাড়তে পারে। এসবের পরিবর্তে ভেষজ চা পান করতে পারেন। খুব ভালো হয়, আদা চা, মশলাযুক্ত চা পান করলে।
ভাজাপোড়া খাবার
ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্টফুড, জাঙ্ক ফুড অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে। এ ধরনের খাবার দেহের ক্ষতি করবে এবং হজমের সমস্যা বাড়াবে।
রাস্তার শরবত
অনেকে একটু সুস্থ হয়ে উঠতে না উঠতেই রাস্তার খাবার, শরবত, ভারী খাবার খাওয়া শুরু করে দেয়। এগুলো হজমের সমস্যা, জন্ডিস, বমিসহ দেহের অন্যান্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে ডেঙ্গু রোগী দ্রুত সুস্থ তো হবেনই না, উল্টো অবস্থার অবনতি ঘটবে।
থাই স্যুপ
থাই স্যুপে প্রচুর মশলা দেওয়া থাকে। এটি রোগীর জন্য উপকারী নয়। এ থেকে হজমের সমস্যা, এসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই এসব স্যুপ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মূলত বাইরের স্যুপের পরিবর্তে ঘরে ছোট মুরগি দিয়ে স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এতে বেশি উপকার হবে।