Monday, September 28, 2026
spot_img
Home Blog Page 111

খাবার-দাবার : বাঁধাকপি আলুর ঘণ্ট

কবিতা বিশ্বাস

শীতে হরেক রকম সবজির দেখা মেলে বাজারে। এর মধ্যে বাঁধাকপি অন্যতম। তবে বছরের অন্য সময়েও এটি দেখতে পাওয়া যায়। এই সবজিটি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়, কোষের প্রদাহ দূর করে ত্বককে সজীব করে। এ ছাড়াও এর রয়েছে অনেক গুণ। আজ সাতকাহন২৪.কমের পাঠকদের জন্য রইল বাঁধাকপি দিয়ে চমৎকার একটি রেসিপি। আর সেটি হলো বাঁধাকপি আলুর ঘণ্ট। চলুন পাঠক, জেনে নিই।

উপকরণ
বাঁধাকপি মাঝারি সাইজের ১ টি (কুচি করে কেটে হালকা ভাপ দিয়ে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে)
আলু আধা কেজি (চৌকো করে হলুদ-লবণ দিয়ে মেখে তেলে ভেজে নিতে হবে)
আস্ত শুকনো মরিচ ৩ টি
তেচপাতা ২ টি
ফোড়নের জন্য (দেড় চা চামচ জিরা, আধা চা চামচ ধনিয়া, ৩ থেকে ৪ টি এলাচ, বড় এক টুকরো দারুচিনি নিয়ে অল্প তেলে ভেজে পিষে রাখতে হবে)
আদা বাটা দেড় চা চামচ
নারকেল বাটা ২ টেবিল চামচ
কিসমিস ১০ থেকে ১২ টি
তরল দুধ আধা কাপ
লবণ ও চিনি পরিমাণ মতাে
কাঁচামরিচ ৪ টি

যেভাবে তৈরি করবেন
কড়াইতে আধা কাপ তেল দিন। তেল গরম হয়ে এলে জিরা, শুকনো মরিচ তেচপাতা ফোড়ন দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে নিন। তেল একটু ঠান্ডা হলে আদা বাটা, নারকেল বাটা, কিসমিস, দুধ, কাঁচা মরিচ, সামান্য হলুদ দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর এর মধ্যে বাঁধাকপি আর ভেজে রাখা আলু ঢেলে দিন। পরিমাণ মতো লবণ ও চিনি দিয়ে নেড়ে ঢেকে রাখুন তিন থেকে চার মিনিট। ঢাকনা খুলে লবণ-চিনি চেখে দেখে ভাজা পেষা মসলা ও দুই টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নেড়ে আবার ঢেকে দিন। দুই মিনিট পর একটু মাখমাখা হবে । প্রয়োজনে একটু পানি ছিটিয়ে দিতে পারেন। এরপর ঢাকনা খুলে নেড়ে পরিবেশন করুন।

উজ্জ্বলা পাশে আছে বলেই নতুনভাবে দাঁড়াতে পেরেছি

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
সাজগোজের বিষয়টি ছোটবেলা থেকেই পছন্দ ছিলো বরিশালের মেয়ে পলি আক্তারের। বিভিন্ন জায়গা থেকে টুকটাক কাজ শিখে একটি স্যালনও খুলেন। তবে প্রতিনিয়তই মনে হচ্ছিলো নিজেকে আরো দক্ষ করা দরকার। না হলে ব্যবসাটা ঠিক ভালোমতো করতে পারছেন না। ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। অনেক জায়গায় কথা বলার পর শেষ পর্যন্ত পছন্দ হয় উজ্জ্বলার পরিবেশ। বর্তমানে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসাটিকে দাঁড় করিয়েছেন। নতুন করে স্যালন দিয়েছেন। ব্যবসা ভালোই চলছে। দক্ষ বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে গড়তে এবং নতুন করে কাজ শুরু করতে উজ্জ্বলা কীভাবে তাকে সাহায্য করেছে, সেই গল্পই শুনবো তাঁর মুখে।

উজ্জ্বলাতে শিখবো বলেই ঢাকায় আসা
আমি ঢাকা শহর চিনতাম না। এখানকার রাস্তা, অলিগলি সবই ছিলো অপরিচিত। কেবল উজ্জ্বলায় শিখবো বলেই ঢাকায় আসা। উজ্জ্বলায় একটা/ দুটো কোর্স করার পর এতো ভালো লেগেছে যে মনস্থির করি এখান থেকেই সবটা শিখবো।

উজ্জ্বলার সবাই বেশ আন্তরিক
আমার দুই ছেলে। স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকি। দুই ছেলের খরচ নিজেরই চালাতে হয়। এ রকম একটা অবস্থায় অনেক টাকা দিয়ে কোর্স করা আমার পক্ষে একদমই সম্ভব ছিলো না। কখনো গাছ বেচে, কখনো কানের দুল বেচে টাকা জমিয়ে ক্লাসের টাকা জোগাড় করতাম। এ সময় উজ্জ্বলা আমার পাশে দাঁড়ায়। আমাকে অর্থনৈতিক বিষয়টিতে খুব সাহায্য করে। তারা কোর্স ফি অনেক কমিয়ে রাখতো আমার কাছ থেকে। আর সেই টাকা ধীরে ধীরেও পরিশোধ করতে পারতাম। উজ্জ্বলার সবাই বেশ আন্তরিক। আমি চেনা নই, জানা নই, অপরিচিত একটা মানুষ হওয়ার পরও তারা অনেক ছাড় দিয়েছে টাকার বিষয়ে।

উজ্জ্বলা পাশে না থাকলে নতুনভাবে দাঁড়াতে সাহস পেতাম না
উজ্জ্বলা পাশে ছিলো বলেই নতুনভাবে নিজেকে দাঁড় করতে সাহস পেয়েছি। আমার সার্বিক শেখার জন্য উজ্জ্বলা খুবই সাহায্য করেছে। সব ম্যাডামরা হাতে কলমে ধরে ধরে শিখিয়েছে। ম্যাডামদের আন্তরিকতা দেখে মনে হয়েছে এখান থেকে সব কোর্স শিখতে পারলে নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারবো। নতুন স্বপ্ন দেখতে পারবো।

আমি যে নতুন করে পার্লার দিয়েছে তার সবটার সাহস জুগিয়েছে উজ্জ্বলা। বর্তমানে আমার পার্লারে দুটো মেয়ে কাজ করে। এতটুকু পথও যে পারি দিতে পারবো ভাবিনি। উজ্জ্বলাই স্বপ্নটা দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে আমি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাই, উজ্জ্বলার নক্ষত্র হতে চাই। নিজের কাজ দিয়ে উজ্জ্বলার সম্মান যেন বাড়াতে পারি, এমনটাই আশা করি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩৪তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

‘উজ্জ্বলার শিক্ষার্থীদের বিউটি ইন্ডাসট্রিতে আলাদা কদর রয়েছে’

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
রাজশাহীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান রিপন একজন নৃত্য শিল্পী। নাচ করতে গিয়ে মেকআপ নিতে হতো তাকে। নিজের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পীদেরও মেকআপ করে দিতেন। একটা সময় মনে হলো, আরেকটু ভালোভাবে বিষয়টি শিখলে কেমন হয়! সে সময় আরেকজন নৃত্য শিল্পী সায়কা খাতুনের পরামর্শে দুজন মিলে উজ্জ্বলার মেকআপ কোর্সে ভর্তি হন। আর এখানেই জীবনের মোড়টা ঘুরে গেলো তাঁর। উজ্জ্বলার মাধ্যমে মেকআপের বিষয়টিতে আরো আগ্রহী হয়ে উঠলেন।

বর্তমানে নাচের পাশাপাশি বিউটিফিকেশনের বিষয়টিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বাড়িতেই তৈরি করেছেন স্যালন। ব্রাইডাল ও পার্টি মেকআপ করেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্রাইডাল মেকআপ করেন তিনি। মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। বিউটি আর্টিস্ট হয়ে বর্তমানে নিজেই হয়ে উঠেছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বলছিলেন, ‘কখনো ভাবিনি বিউটি আর্টিস্ট হবো। তবে উজ্জ্বলা আমাকে নতুন পথ দেখিয়েছে। বিউটি আর্টিস্ট বিষয়টিকেও যে পেশা হিসেবে সম্পূর্ণ গ্রহণ করতে পারি, সেটির সাহস জুগিয়েছে উজ্জ্বলা।’

একবার রাজশাহীতে উজ্জ্বলার একটি কোর্স হয়। উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীন আপা ক্লাস নেয়। সেই কোর্স আমি অংশ নিই। অনেক নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে রুমে ঢুকে প্রথমে খুব অস্বস্তি লাগছিলো। ওখানে সবার মাঝে আমি একমাত্র ছেলে। সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। ভয় ও লজ্জা হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পর আফরোজা পারভীন আপা যখন ক্লাস নেওয়া শুরু করলেন, সব সংকোচ কেটে গেলো। সেদিনই মনে হয়েছে ঢাকায় গিয়ে উজ্জ্বলা থেকে অবশ্যই বিউটিফিকেশনের ওপর কোর্স করবো। উজ্জ্বলাতে প্রশিক্ষকরা খুব কঠিন বিষয়ও সহজ করে শেখায়। দ্রুতই সেটা আয়ত্ত্ব করা যায়- জানান তিনি।

২০২২ সালে উজ্জ্বলার পক্ষ থেকে পুরুষ বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে ‘অদম্য উজ্জ্বলা’ সম্মাননা পান তিনি। সেই অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এটা আমার জীবনের এক অনন্য পাওয়া। কখনো ভাবতেও পারিনি এমন একটি সম্মান পাবো। উজ্জ্বলার প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

উজ্জ্বলার শেখানোর মান বেশ ভালো। এখানকার শিক্ষার্থীদের বিউটি ইন্ডাসট্রিতে একটি আলাদা কদর রয়েছে জানিয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি আগেও মেকআপ করেছি। তবে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝতাম না। আইব্রো ঠিকমতো আঁকতে পারতাম না। চোখের সঙ্গে কেমন শেপ দিলে ভালো লাগবে, বুঝতাম না। কন্টোরিং কী, টি জোন কী- বুঝতাম না। এখন বুঝি। কোন চোখে কোন আইশ্যাডো মানাবে, চোখ অনুযায়ী আইলাইনার কতটা টেনে দিবো, কিছুই বুঝতাম না। সবই শিখেছি উজ্জ্বলার কাছ থেকে। উজ্জ্বলার কাছ থেকে শেখার পর আরো পরিপূর্ণ হয়েছি।’

সাধারণত আমাদের দেশে একজন পুরুষ বিউটি আর্টিস্টকে সামাজিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়। পুরুষ বিউটি আর্টিস্ট হবে , বিষয়টি যেন কোনোভাবেই মানুষ মেনে নিতে চায় না। এসব প্রসঙ্গে কথা উঠতেই তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় যখন বউ সাজাতে যাই, অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হয়। বউয়ের পরিবার হয়তো বলে না। বরং সাজ দেখে হয়তো প্রশংসাই করে। আশেপাশের মানুষ বলে। তবে এসব ক্ষেত্রে সবসময় উজ্জ্বলার কথা মনে করি। এখানকার প্রশিক্ষকরা বলতেন, সারাবিশ্বে অনেক ছেলে মেকআপ আর্টিস্ট রয়েছে। তবে আমাদের দেশে এখনো সামাজিকতার কারণে সংখ্যাটি কম। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এ দেশেও ছেলে মেকআপ আর্টিস্টের সংখ্যা বাড়া জরুরি। উজ্জ্বলা আমাদের শিখিয়েছে, মানুষ এগিয়ে যাওয়ার সময় ছয় জন ইতিবাচক কথা বলে। আর চার জন নেতিবাচক কথা বলে পিছনে টেনে ধরার চেষ্টা করে। সেটা মাথায় নিলে চলবে না। এগিয়ে যেতে হবে।’

আগামী দিনে উজ্জ্বলার সঙ্গে থাকতে চাই। আশা করি, উজ্জ্বলাও এভাবে আমাদের পাশে থাকবে। নিজেকে আরো ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যেন উজ্জ্বলার শিক্ষার্থী হিসেবে একটি বিশেষ পরিচিতি পেতে পারি- জানান তিনি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩৩তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

বিকেল বা সন্ধ্যা, নাশতায় হয়ে যাক কাঁচা কলার চপ

কবিতা বিশ্বাস
অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছেন। পেটে একটু ক্ষুধা ক্ষুধাভাব। মনটা চনমন করছে ভাজাভুজি কিছু খেতে। এমন সময় ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন কাঁচা কলার চপ। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, আঁশ ও ভিটামিন সি। এসব পুষ্টি উপাদানগুলো পেয়ে যাবেন কাঁচা কলার চপে। চলুন জেনে নিই, চপ তৈরির উপায়।

উপকরণ
কাঁচা কলা ৪টি (সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন)
বুটের ডাল ১০০ গ্রাম (সিদ্ধ করে বেটে নিন)
ডিম ২টি
ভাজা শুকনো মরিচ ৩/৪ টি
পেঁয়াজ কুচি এক কাপের ৩ ভাগের ২ ভাগ
ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ
ব্রেডকাম পরিমাণমতো
লবণ পরিমাণমতো

যেভাবে তৈরি করবেন
সিদ্ধ কাঁচাকলা ভালো করে থেঁতলে নিতে হবে। দানা দানা থাকা যাবে না। কলার সঙ্গে ডাল বাটা, একটা ডিম, ভাজা শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ , ভাজা জিরার গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে মাখুন। চপের আকারে গড়ে নিন। একটা ডিম ফেটে তার মধ্যে চপ ডুবিয়ে তুলে ব্রেডকামে গড়িয়ে একটা পাত্রে সাজিয়ে
রাখুন। কড়াই বা ফ্রইপ্যানে ডুবো তেলের আন্দাজে তেল দিয়ে গরম করুন। এবার ধীরে ধীরে চপ তেলে ছাড়ুন । গাঢ় বাদামি রং হলে এলে তুলে পরিবেশন করুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন ৩ উপায়ে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ধীরে ধীরে দেহের সব অঙ্গগুলোই অকেজো হতে থাকে।জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটাই উপকার করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায়ের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মায়ো ক্লিনিক।

ওজন নিয়ন্ত্রণ
ওজন বেড়ে যাওয়া ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত (রক্তের সুগার টেস্ট করার পর ডায়াবেটিস হবে হবে ভাব) তারা কেবল সাত থেকে ১০ ভাগ ওজন কমানোর মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে কেবল ডায়াবেটিস নয়, অনেক রোগেরই ঝুঁকি কমবে।

কায়িক পরিশ্রম বাড়ান
ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের অনেক গুণ রয়েছে। ব্যায়াম ওজন কমাবে, রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা উপকারী। এ ছাড়া, দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদিও কাজে দেবে। সর্বোপরি শুয়ে-বসে থাকলে চলবে না। হাত-পায়ের অসাড়তা কাটাতে হবে; কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেড ও মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। আঁশ সমৃদ্ধ খাবার ওজন কমাতে সাহায্য এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। আঁশযুক্ত খাবার হিসেবে টমেটো, ব্রকলি, ফুলকপি, ফল ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন। যেমন : সূর্যমূখির তেল, বাদাম, তৈলাক্ত মাছ ইত্যাদি।

ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে ৬ উপায়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
এডিস মশাবাহিত ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এর দুটি ধরন রয়েছে। সাধারণ ও রক্তপাতসহ জ্বর। হঠাৎ তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব এর লক্ষণ। এ ছাড়া জ্বর সেরে যাওয়ার পর গায়ে র্যাশ বা লালচে দানা দেখা দেয়।

ডেঙ্গু মশা সাধারণত জমানো পানি, অপরিষ্কার জায়গা, ফুলের টব ইত্যাদিতে বেশি বিস্তার করে। যেহেতু এই রোগটি কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঘাতী, তাই এর প্রতিরোধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ফার্মাইজি।

১. ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখা পানি থেকে জন্মায়। তাই খেয়াল রাখুন বালতি, টব গাড়ির টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসাতে পানি জমে রয়েছে কি না। থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। যেই পাত্রের পানি ফেলে দেওয়া যায় না, সেখানে লবণ ও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এতে মশা কমবে।

২. বাসা-বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির চারদিকের ঝোপ, জলাশয়, জঙ্গল পরিষ্কার করুন।

৩. নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের গর্ত, ড্রাম, ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা ইত্যাদি জায়গায় পানি জমে রয়েছে কি না খেয়াল করুন। এসব জায়গায় ডেঙ্গু মশা দ্রুত বিস্তার ঘটায়।

৪. জমে থাকা বৃষ্টির পানি থেকে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তি হয়। তাই মশা তাড়াতে বৃষ্টির পানি দ্রুত পরিষ্কার করুন।

৫. মশা প্রতিরোধে অবশ্যই নিয়মিত মশারি ঝুলানোর অভ্যাস করতে হবে। জানালায় নেট লাগাতে পারেন।

৬. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা প্রতিরোধী ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে মশার বিস্তার রোধ করা জরুরি। এ জন্য পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং ছোট ছোট কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। তাহলে আপনি নিজেও সুস্থ থাকবেন, পরিবারের অন্যান্যদেরও সুস্থ রাখতে পারবেন।

পার্লারের কাজ করি, তাই নেতিবাচক কথা শুনতে হয়

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

২০১৮ সালে শিমলা ইয়াসমিন বিউটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলায় আসেন হেয়ার কাট শিখতে। তবে উজ্জ্বলার সঙ্গে কথা বলে, তাদের কাজ দেখে ধীরে ধীরে সবগুলো কোর্স শেষ করেন। বর্তমানে ঢাকার বাড্ডায় একটি স্যালন রয়েছে তার। স্যালনের সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে লাভ থাকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

বর্তমানে উজ্জ্বলা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ‘শ্রেষ্ঠ উজ্জ্বলা’ হওয়ার পুরষ্কারও পান। জানান, উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগেও অনেক জায়গায় কাজ শিখেছি। তবে এখানে আসার পর মনে হয়েছিলো এতো বছর যা শিখেছি, সেটাতে ঘাটতি রয়েছে। একজন ক্লাইন্টের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ব্যবসা বাড়াতে হয় উজ্জ্বলা শিখিয়েছে।

উজ্জ্বলার পরও অনেক জায়গায় কাজ শিখেছি। তবে মূল কেন্দ্র উজ্জ্বলা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে উজ্জ্বলা পরামর্শ দেয়। যেটা অন্য কোথাও পাই না। আমার বাসা উজ্জ্বলার কাছে। মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে এমনিই তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাই, কথা বলতে যাই। এতো বছর পরও তারা ভীষণ আন্তরিক। আমি গেলে নিজেদের কাজ থামিয়েও কুশল জিজ্ঞেস করেন। সেখানে গেলে, কথা বললেই মনটা ভালো হয়ে যায়। হৈ চৈ করে চলে আসি। কেউ ১০ লাখ টাকা না দিয়ে, ১০ টা বাক্য দিয়েও যদি সাহায্য করে সেটাও অনেক মনে হয়। আর এই বিষয়টা উজ্জ্বলার কাছ থেকে পাই। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি খুব আন্তরিক’, বলেন তিনি।

কুমিল্লার মেয়ে শিমলা ইয়াসমিনের ছোটবেলা থেকেই সখ ছিল বিউটি আর্টিস্ট হওয়া। পরে একে ফুলটাইম পেশা হিসেবে নেন। তবে পরিবারের কেউ এই পেশাটিকে ভালো চোখে দেখেনি। প্রতি মুহূর্তে বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জানালেন, আমি ইন্টারমিডিয়েট পাস। স্যালনের ব্যবসা করে মোটামুটি নিজের খরচ চলে যায়। সংসারেও ব্যয় করতে পারি। তবে আমাদের সমাজ এখনো বিষয়টিকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। এটা খুব কষ্টদায়ক। কাছের মানুষের কাছ থেকেও নেতিবাচক কথা শুনতে হয়। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে এমনও শুনতে হয়েছে যে আমার পরিচয় দিতে তাদের লজ্জা লাগে। এই কাজের জন্যই কিন্তু আমি আজ স্বাবলম্বী, একজন উদ্যোক্তা। এটা কাউকে বোঝাতে পারি না।

ভবিষ্যতে নিজের স্যালনকে বড় করার ইচ্ছা রয়েছে তার। জানালেন, স্বাবলম্বী তো হয়েছি। তবে আরো বড় একজন উদ্যোক্তা হবো, এমনটাই আশা করি।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩৬তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবসের ১০ বছর পূর্তি

সাতকাহন২৪কম ডেস্ক

১০ম বারের মতো বাংলাদেশে পালিত হলো স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। আজ ১০ অক্টোবর, সোমবার ক্যানসারবিরোধী ও নারী সংগঠনসহ ৩৫টি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম দিবসটি পালন করে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে একটি গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় রাস্তায় সাধারণ মানুষের কাছে স্তন ক্যানসারের প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ একটি বাংলা লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এরপর সকাল ১১টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী উদযাপন বক্তব্য রাখেন। এরপর স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোজাহেরুল হক, ড. হালিদা হানুম আখতার, ডা. আবু জামিল ফয়সল, ডা. আব্দুস সবু্‌র, ও্যাইডাব্লিওসিএ-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার ও কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোছার্ত সৌরব।

দশজন সাংবাদিককে স্তন ক্যানসার সচেতনতায় অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তারা হলেন- সেলিনা শিউলী, আঙ্গুর নাহার মন্টি, শাহনাজ সিদ্দিকি সোমা, জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, নাসরিন সুলতানা, ফেরদৌস মোবারক, নুরুল ইসলাম হাসিব ও হামিমুল কবির।

বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরীকে স্তন ক্যানসার সচেতনতার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সম্বর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ক্যানসার বিজয়ী বিশিষ্ট কবি ও কাজী রোজীর জন্য শোক ও দোয়া পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নাছিমা বেগম এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ছয়েফ উদ্দিন, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিনিয়র সাংবাদিক, ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

উজ্জ্বলা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখে

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

বিউটি আর্টিস্ট তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উজ্জ্বলা থেকে কোর্স করে একটি স্যালন খুলেছেন নিপা আক্তার। মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। মাস শেষে হাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো থাকে। তবে স্যালন শুরু করা ও বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। সমাজ, আত্মীয়-স্বজনের অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হয়েছে। অনেক সময় মনে হয়েছে, তাকে দিয়ে আর বোধ হয় কিছু হবে না। ভেঙে পড়েছেন, বিষণ্ণতায় ভুগেছেন। তবে উঠে দাঁড়িয়েছেন শক্ত হয়ে। বিউটি আর্টিস্ট হিসেবে সফল এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার গল্প শুনবো আজ। জানবো তার চলার পথে উজ্জ্বলার ভূমিকার কথা।

উজ্জ্বলা হাত ধরেছে, পথ দেখিয়ে দিয়েছে

আমি শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করি। লেখাপড়া শেষের পরপরই বিয়ে হয়ে যায়। সন্তান হয়ে যাওয়ায় কোথাও চাকরিও করতে পারছিলাম না। সংসার-সন্তান সামলানো খুব হিমশিম লাগতো। মন খারাপ হয়ে যেতো। ভীষণ বিষণ্ণতার মধ্যে ছিলাম। মনে হতো, বন্ধুরা সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, আমি কিছুই করতে পারছি না। ভীষণভাবে চাচ্ছিলাম কিছু করি। চাচ্ছিলাম, নিজে আয় হোক। অন্যের ওপর নির্ভরতা ভালো লাগছিলো না। তখন ফেসবুকে উজ্জ্বলার সহ প্রতিষ্ঠাতা ও রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন আপার ভিডিও দেখতাম। সীদ্ধান্ত নিলাম স্যালনের কাজ শিখবো।

শেখার সীদ্ধান্ত নেওয়ার পর আরেক বাধার সম্মুখীন হলাম। আত্মীয়-স্বজন বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়া শুরু করলো। পার্লারে কাজ ভালো নয়। এটা নিচু পেশা। এমন মানসিকতা পোষণ করতো। নেতিবাচক কথা বলে মন ভেঙে দিতো। তবে আমি শেখার শুরু করলাম। প্রথমদিকে ফোকাস করতে পারতাম না কাজে। দুশ্চিন্তা হতো, পারবো কি না! বিশ্বাসের জায়গাটায় খুব টালমাটাল ছিলাম। এ সময় আত্মবিশ্বাস জোগায় উজ্জ্বলা। আমার দ্বন্দ্বময় মানসিকতায় তারাই হাতটা ধরে পথ দেখিয়ে দেয়, সাহায্য করে। আসলে উজ্জ্বলা একটি পরিবার। এখানে একজন শিক্ষার্থীকে কেবল শেখানোই হয় না। পাশাপাশি তাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাজে যেখানে এখনো পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যর বিষয়টি উপেক্ষিত, সেখানে উজ্জ্বলা তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুমিং ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্লাস করায়। স্বনামধন্য মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষকরা আসেন শেখাতে।

কাজটা শিখতেই হবে

আত্মীয়-স্বজনরা বার বার বলতো পার্লারের কাজে কোনো মর্যাদা নেই। আমি বলেছি এটা সেবা। বােঝানোর পরও বুঝতো না। তবে আমার স্বামী ও মা সহযোগিতা করেছে। তাঁরা বলেছে, বাইরের মানুষ কী বলে এতে কান দিও না। নিজের কাজ করে যাও। এরপর এক রকম জেদ ধরি। কাজটিই শিখতে হবে। নিজেকে চাপ দেওয়া যাবে না, উৎসাহিত করতে হবে। মায়ের কাছে সন্তান রেখে যেতাম। ক্লাস শেষ হওয়ার পর মনে হলো একটা পার্লার দিবো। আবার সেই আত্মীয়-স্বজন বাধা হয়ে দাঁড়ালো। তবে স্বামীর সহযোগিতায় কাজ শুরু করতে পারি। পার্লার খোলার জন্য সে-ই মূলধন দেয়। ছোট করে একটি স্যালন খুলি।

উজ্জ্বলায় না গেলে, বুঝতে পারতাম না আমার ভেতরে এমন প্রতিভা রয়েছে। মেয়েদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। আগাতে হবে। ধৈর্য নিয়ে কাজ করার বিষয়টা উজ্জ্বলা থেকে পেয়েছি। কাস্টামার কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়, নিজেকে কীভাবে সব চাপের ভেতর শক্তভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়, উজ্জ্বলার কাছ থেকে শিখেছি।

মেকআপের সময়ে কীভাবে ব্রাশ ধরতে হবে, সেটাও শেখায় উজ্জ্বলা। বুঝিনি বা পারছি না- এসব বিষয়ও বলতে হয় না। বলার আগেই অনেক সময় প্রশিক্ষকরা বুঝে যায় এবং সেই অনুযায়ী শেখায়। ভয় কাটিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করা এবং নিজের বিষয়টি আদায় করে নেওয়াটাও উজ্জ্বলার কাছ থেকেই শিখেছি।

ধৈর্য ধরে কাজের পেছনে লেগে থাকা উজ্জ্বলা শিখিয়েছে

পার্লার শুরু করার প্রথম কিছু সময় ক্লাইন্ট আসতো না। খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কীভাবে ব্যবসা দাঁড় করাবো! মনে হচ্ছিলো, তবে কি হেরে গেলাম! কিন্তু ধীরে ধীরে ক্লাইন্ট আসা শুরু করলো। ধৈর্য ধরে কীভাবে কাজের পেছনে লেগে থাকতে হয়, সেটাও উজ্জ্বাই শিখেয়েছিলো।

ভবিষ্যতে, নিজের পার্লারটিকে বড় করার এবং দ্বিতীয় আউটলেট করার ইচ্ছে রয়েছে। কিছু মেয়েকে কাজ দিয়ে যেন স্বাবলম্বী করে তুলতে পারি, সেটাই চাই।

বি : দ্র : বাংলাদেশের বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিং ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উজ্জ্বলা লিমিটেড। উজ্জ্বলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন কয়েকজন নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে সাতকাহনের ধারাবাহিক পর্ব চলছে। এই পর্বটি ছিলো ৩২তম। উজ্জ্বলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :

https://www.facebook.com/UjjwalaBD

https://www.instagram.com/UjjwalaBD/

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন

সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক

আজ, ১০ অক্টোবর, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে কলা ভবনে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও ভালো থাকাটাই হোক বৈশ্বিক অঙ্গীকার’। বাংলাদেশে ১৮ দমশিক ৭ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পেশাজীবী খুবই অপ্রতুল। এই শূন্যতা পূরণ এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি ১৯৯৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগে দিনব্যাপী ফ্রি সেমিনার, সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের ক্লাস প্রতিনিধিগণ এবং ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়।

সেমিনারগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিভাগীয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, ড. মো. শাহানূর হোসেন এবং বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি-এর সিনিয়র সদস্য হোসনে আরা বেগম, জোহরা পারভীন ও উম্মে সায়মা সিদ্দীকা।

- Advertisement -
সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.