সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
অক্টোবর জুড়ে চলছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা যায় ছয় হাজারের মতো।
স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ দুইটি। একটি পরিবর্তনযোগ্য; অপরটি অপরিবর্তনযোগ্য। পরিবর্তন যোগ্য বিষয়গুলো হলো- ভারসাম্যহীন জীবনযাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান ইত্যাদি। এগুলো জীবনযাপনের ধরন বদলে ঠিক করা যায়। তাই একে পরিবর্তনযোগ্য কারণ বলা হচ্ছে।
আর অপরিবর্তনযোগ্য বিষয়গুলো হলো-বায়োলজিক্যালভাবে নারী হওয়া, বয়স বাড়া (বাংলাদেশে ৩৫ বছরের পর নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে), বংশগতভাবে কারো স্তন ক্যানসার থাকলে (বিশেষ করে মায়ের দিকের), অল্প বয়সে ঋতুস্রাব হওয়া এবং দেরিতে মেনোপজ হওয়া। এগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই অপরিবর্তনযোগ্য কারণ।
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। আর তাই এর লক্ষণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে জানতে হবে। স্তন ক্যানসারের লক্ষণের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘ক্যানসার হলে স্তনের ভেতর চাকা বা পিণ্ড দেখা দিতে পারে, বগলের নিচে ল্যাম্পের মতো হওয়ার আশঙ্কা থাকে, চামড়া কুঁচকে যায় বা মসৃণতা কমে যায় এবং স্তনের বোটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হতে পারে।’
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, প্রচুর শাক-সবজি ও ফল-মূল খেতে হবে। কায়িক পরিশ্রম, হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করা জরুরি। শিশুকে বুকের দুধ পান করান। যতটা সম্ভব রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকুন। ধূমপান, মদ্যপান ও তামাক জাতীয় দ্রর্ব্য বর্জন করুন।
নারীকে স্তন ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত রাখতে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি স্ক্রিন টেস্টের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে বলে পরামর্শ তাঁর।


