সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
আবহাওয়ার উঠা-নামা, আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া, ঘর ও বাহিরে একটি স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা ইত্যাদি কারণে বর্ষায় সাধারণত কমন কোল্ড বা সাধারণ ঠান্ডা-কাশির সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু উপায় বাতলেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট কন্টিনেন্টাল হসপিটাল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান
বর্ষায় এসব ঠান্ডা-কাশি-জ্বর প্রতিরোধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবার বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার। যেমন: আমড়া, আমলকী, লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ইত্যাদি।
শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ যেন ভালোভাবে দূর হয়ে যেতে পারে তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। দিনে অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান জরুরি। সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমান। এতে শরীরের কোষগুলো পুণর্গঠন হতে সাহায্য হবে।
মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত ধ্যান ও যোগ ব্যায়ামের অভ্যাস করতে পারেন। কারণ, মানসিক চাপ শারীরিক সমস্যার বড় কারণ।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
বাহির থেকে ঘরে এসে অবশ্যই হাত ও পা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। নোংরা বা ময়লা হাতে নাক-মুখ- চোখ ধরবেন না। জীবাণু দূর করার জন্য কেবল হাতের তালু নয়, কনুই পর্যন্ত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
কাপড় নির্বাচনে সতর্ক হোন
বর্ষায় যেহেতু পোশাক দ্রুত ভিজে যায়, তাই এমন কাপড় পরুন, যা ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যাবে। পাশাপাশি বাহিরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন রেইনকোট। আর এমন প্রয়োজনে প্লাটিকের জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। এতে জুতা ভিজলেও পানি দ্রুত সরে যাবে।
ভেষজ পানীয় পান
এই সময়টায় সুস্থ থাকতে নিয়মিত পান করতে পারেন ভেষজ পানীয়। যেমন: লেবু-মধু-পানি। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে কয়েক টুকরো লেবুর রস মিশিয়ে এতে যোগ করতে পারেন এক চামচ মধু।
পাশাপাশি খেতে পারেন হলদু-দুধ। এক গ্লাস হালকা গরম দুধে কয়েক চিমটি হলদু মিশিয়ে খেতে পারেন। হলুদে থাকা প্রধাহরোধী উপদান ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধ করবে।
এ ছাড়া খেতে পারেন মসলা চা। লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা সব একত্রে ফুটিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন।
ব্যায়াম
ব্যায়াম যে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে তা তো সবারই জানা। তবে বর্ষায় যেহেতু বাহিরে ব্যায়াম করাটা কঠিন, তাই ঘরেই করতে পারবেন এমন কিছু বিষয় শিখে নিন। এই ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম, পেশি স্ট্র্যাচেনিং ইত্যাদি করুন। ভালো লাগলে গান ছেড়ে একটু নেচেও নিতে পারেন। এতে ব্যায়ামের কাজ হবে।
সর্বপোরি, বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় মেনে চলে নিজের যত্ন নিলে ফিট থাকতে পারবেন এই সময়টায়।


