ডা. মিরাজ আহমেদ
হেড নেক ক্যানসার সচেতনতার মাস এপ্রিল। আজ শেষ দিন। কিছু কথা হোক।
আমাদের দেহে যত ক্যানসার হয়, তার আট শতাংশ হতে দেখা যায় মাথা ও ঘাড়ের অংশে। তবে এই হার আমাদের দেশে অনেক। শতকরা ৩০ ভাগ। গলা, নাক, সাইনাস ও মুখের ভিতরে বা আশেপাশে এই ক্যানসারের উদ্ভব হয়।
কারণ
- তামাক
- পান সুপারি
- অ্যালকোহল
- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস
- শিল্প কারখানার কেমিক্যাল
- অতিরিক্ত লবণ দেওয়া মাছ
- রেডিয়েশন
লক্ষণ
- মুখ ও মুখগহ্বরে সাদা বা লাল দাগ অথবা দীর্ঘস্থায়ী ঘা
- খেতে অসুবিধা
- গলার স্বরের স্থায়ী পরিবর্তন
- নাক দিয়ে রক্ত আসা
- শ্বাস নিতে অসুবিধা
- গলার উপরিভাগে গোটা
- গলায় কাঁটা কাঁটা অনুভূতি
রোগ নির্ণয়
- ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা
- এন্ডোস্কোপির সাহায্যে পরীক্ষা
- বায়োপসি
- আলট্রা সনোগ্রাম
- সি.টি স্ক্যান বা এম. আর.আই
- পি.ই.টি – সি.টি
- টিউমার মার্কার
চিকিৎসা
এই ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিমের মাধ্যমে সঠিক ও সর্বোত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
বাংলাদেশেও রয়েছে এই উদ্যোগ। টিমে অংশ নেন :
- হেড নেক সার্জন
- ক্যানসার বিশেষজ্ঞ
- প্লাস্টিক সার্জন
- রেডিওলজিস্ট
- ফিজিওথেরাপিস্ট
- ক্যানসার প্রশিক্ষিত নার্স
- প্যাথলজিস্ট
- স্পিচ -ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট
- অডিওলজিস্ট
- মনোবিজ্ঞানী
- সমাজকর্মী
- পুষ্টিবিদ
চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি
- সার্জারি
- রেডিওথেরাপি
- কেমোথেরাপি
- ইমিউনোথেরাপি
- রেডিও আয়োডিন থেরাপি
- টার্গেটেড থেরাপি
প্রতিরোধের উপায়
- তামাক ও অ্যালকোহল বর্জন করা।
- মুখ ও মুখগহ্বরে দীর্ঘস্থায়ী ঘায়ের গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা নেওয়া।
- মুখ ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।
- চৌদ্দ দিনের বেশি কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।
- ভাইরাস বিরোধী টিকা নেওয়া।
- শিল্প কারখানায় ফেসমাস্ক ব্যবহার করা।
- পরিমাণমতো আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়া।
- সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
এ ছাড়া দেশে বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানতে ও জানাতে হবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে অন্যকেও উৎসাহিত করতে হবে। রেডিওথেরাপি যন্ত্রপাতি আরো সহজলভ্য করার দাবি তোলা জরুরি। আরো বেশি সংখ্যক শতভাগ নিবেদিত চিকিৎসক জনবল গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি)
জাতীয় নাক কান গলা ইন্সটিটিউট


