লিনা আকতার
রসালো ও নরম মিষ্টি স্বাদের লিচু বেশিরভাগ শিশুই পছন্দ করে। লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। গড়ে একটি ফলে প্রায় ১ দশমিক ৫ গ্রাম চিনি রয়েছে। ১০০ গ্রাম লিচুতে প্রায় ১৫ গ্রাম চিনি থাকে এবং ৬৬ ক্যালরি থাকে।
প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো ফলের চিনি শরীরে একই রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
লিচু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে পটাশিয়াম ভালো থাকে। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এটি খনিজ পদার্থের একটি পাওয়ারহাউস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। এক কাপ তাজা লিচু দৈনিক ভিটামিন ‘সি’- এর চাহিদার ১০০ ভাগ পূরণ করে। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে উপকারী।
গরমের দিনে লিচু একটি আদর্শ ফল। কারণ, এতে ৯০ শতাংশ জলীয় উপাদান থাকে। তাই এটি ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুন কার্যকর। লিচুতে ভিটামিন ‘বি’ ও ভিটামিন ‘বি৯’ রয়েছে। এটি হজমশক্তি ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
লিচুর শাঁসে পলিস্যাকারাইড রয়েছে। এটি ক্যানসার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। আপনার সন্তান সুস্থ থাকলে এবং ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করলে লিচু খেতে কোনো বাধা নেই।
একটি শিশু দিনে কয়টি লিচু খেতে পারবে?
শিশুরা লিচু খেতে পারে, তবে শ্বাসরোধ এবং সম্ভাব্য অ্যালার্জির ঝুঁকি কমাতে তাদের বয়স কমপক্ষে এক বছর হলে এটি খেতে দেওয়া ভালো। লিচু খাওয়ার সময় অবশ্যই ফলের খোসা ও বীজ ফেলে দেওয়া প্রয়োজন। লিচুর বীজে স্যাপোনিনের মতো রাসায়নিক যৌগ থাকে। এটি পেটে গেলে ক্ষতিকর।
একটি শিশু দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ টি লিচু নিরাপদে খেতে পারবে। তবে যেন শিশুটি নিয়মিত সুষম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে লিচু খায়।
লিচু খাওয়া নিয়ে সতর্কতা
- শিশুকে খালি পেটে লিচু দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এতে থাকা বিষাক্ত পর্দাথ দেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাকা ও কাঁচা উভয় লিচুতেই এই বিষাক্ত পদার্থ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
- লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে। অতিরিক্ত খেলে হজমের সমস্যা ও পেটে ফাঁপা হতে পারে।
- যেকোনো খাবার খাওয়ার পর আধা ঘণ্টা পর লিচু খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
- লিচুতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি অনেকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এই জন্য লিচু খেয়ে দেখতে হবে শিশুর কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।
লেখক: পুষ্টিবিদ;
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর


