রফিক-উল-আলম
প্রসাধনী ব্যবহারেও হতে পারে বন্ধ্যত্ব। আশ্চর্য মনে হচ্ছে? তবে বিষয়টি এমনই। এমনকি নারীর ঠোঁটের লিপস্টিকও পুরুষের জন্য বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।
বেশির ভাগ লিপস্টিকেই ক্যাডমিয়াম, সিসা, প্যারাবেন (Cadmium, Lead, Paraben) জাতীয় বা নানা ধরনের ভারী ধাতব উপাদান (Heavy metal) থাকে। এগুলো নারীকে চুম্বনের মাধ্যমে প্রায়ই পুরুষের পেটে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
অল্প মাত্রায় গেলে সাধারণত তেমন ক্ষতি হয় না। তবে নিয়মিতভাবে গেলে মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন ও নিয়মিত এক্সপোজারে, অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিনই কিছু কিছু করে লিপস্টিক গেলা হলে ক্ষতিকারক ভারী ধাতব উপাদান স্বামী বা পুরুষটির শরীরে জমা হতে থাকে।
ক্যাডমিয়াম, সিসা, প্যারাবেন ধীরে ধীরে জমা হয়ে ‘জৈব সঞ্চয়’ বা বায়োঅ্যাকুমুলেশন (Bioaccumulation)-এর মাধ্যমে পুরুষের প্রজনন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে যেসব সমস্যা হতে পারে, সেগুলো হলো:
- শুক্রাণুর সংখ্যা (sperm count) কমে যাওয়ার আশঙ্কা;
- শুক্রাণুর নড়াচড়ায় (Motility) স্থবিরতা;
- স্পার্মের ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে শুক্রাণুর সার্বিক গুণমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা;
- হরমোনে ভারসাম্যহীনতা, বিশেষ করে টেস্টোসটেরন (Testosterone) হ্রাসের কারণে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED বা লিঙ্গ শক্ত ও উত্থানে সমস্যা), প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন (সময়ের আগেই বীর্যোস্খলন) প্রভৃতি সমস্যা হতে পারে। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে সন্তানপ্রত্যাশী দম্পতিরা কিছু বিষয় খেয়াল করলে সমস্যাটি সহজেই কাটিয়ে তোলা সম্ভব—
- ভারী ধাতব উপাদানের লিপস্টিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। গাঢ় লাল, মেরুন, কমলা রঙের লিপস্টিক এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ, এসব গাঢ় রঙের লিপস্টিকেই সাধারণত ভারী ধাতব উপাদান থাকে। পাশাপাশি কেনার সময় লিপস্টিকের গায়ে/প্যাকেটে লেখা উপাদানের তালিকাগুলো পড়ে নিতে হবে। উপকরণগুলোর মধ্যে ক্যাডমিয়াম, প্যারাবেন ইত্যাদি থাকলে সেগুলো কেনা বাদ দেওয়া জরুরি।
- চুম্বনের আগে লিপস্টিক মুছে না ফেললেও হালকা ওয়াইপ করে নেওয়া বা ভেজা কিংবা শুকনো টিস্যু দিয়ে একটু পরিষ্কার করে নেওয়াও ভারী ধাতব উপাদানের দূষণ এড়াতে সহায়ক হবে।
- আর ভারী লিপস্টিক পরতেই হলে এবং সন্তানপ্রত্যাশী থাকলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট প্রফেশনালদের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার, লাইকোপেন, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ই’, সেলেনিয়াম, আর্জিনিন, ফলিক এসিড, জিংকসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি ডায়েটরি সাপ্লিমেন্টসহ বেশি করে পানি পান করা জরুরি। এতে ভারী ধাতব উপাদানের ক্ষতি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তবে আমি এ বিষয়ে সতর্ক হতেই বলব। কারণ, দীর্ঘ মেয়াদে ও এমন বারবার এক্সপোজারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিই ডেকে আনবে।
আগামী পর্বে দৈনন্দিন রূপচর্চায় লিপস্টিকসহ নানা প্রসাধনী ব্যবহারে নিজের অজান্তেই মেয়েরা যেভাবে নিজেদের অনিষ্ট ডেকে আনছে, সে বিষয়েও লেখার ইচ্ছা রইল।
লেখক:
কনসালট্যান্ট: আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা;
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯


