লিনা আকতার
আমাদের বিপাকসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে থাইরয়েড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে উপকারী।
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এসব খাবার কম খাওয়া ভালো। কারণ, এতে ক্যালরি বেড়ে ওজন বাড়তে পারে। এতে থাইরয়েড ফাংশন বাধাগ্রস্ত হয়।
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে আলু, কচু, চিপস, চানাচুর, সিংগারা, পুরি ইত্যাদি।
গ্লুটেনযুক্ত খাবার
থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্যহীন হলে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া গ্লুটেনযুক্ত খাবার ইমিউন সিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গ্লুটেনযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে গমের তৈরি খাবার বাদ দিয়ে চিড়া, খই, চালের তৈরি খাবার, কাওনের চালের খাবার, চিয়াসিড খান। আর বাইরের খাবার খেতে চাইলে প্যাকেটের গায়ে গ্লুটেন ফ্রি দেখে নিতে হবে।
সয়া ও সয়াপ্রোডাক্ট
সয়া, সয়াসস, সয়ামিল্ক, টফু,সয়াবিন খাদ্য তালিকায় বর্জন করতে হবে।
ক্যাফেইন
চা, কফি না খাওয়াই ভালো। তবে পরিমিত পরিমাণে ভেষজ চা যেমন- তুলসি, দারুচিনি চা, গ্রিন টি খেতে পারেন। কারণ ক্যাফেইনের কারণে দেহে পানিশূন্যতা হতে পারে।
প্রসেস খাবার
কেক, বিস্কুট, নুডুলস ইত্যাদি বর্জন করুন। কারণ, এগুলোতে চিনি ও লবণ দুটোই বেশি যার জন্য ওজন বাড়তে পারে এবং হরমোন ভারসাম্যহীন হতে পারে।
রিফাইন কার্বোহাইড্রেট
সাদা চিনি, সাদা ভাত, সাদা ময়দা, সাদা পাউরুটি ইত্যাদি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, এগুলো দ্রুত সুগার বাড়ায়। এতে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে। এতে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ে; হরমোন পরিবর্তন হয়।
মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চকলেট, ক্যান্ডি, কেক, আইসক্রিম, এগুলো খাবার শরীরে ইনসুলিন লেভেল বাড়িয়ে শরীরে ফ্যাটস্টোর হতে সাহায্য করে।
ট্রান্সফ্যাট
ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, শিঙ্গারা, পুরি বর্জন করতে হবে। মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে এবং যে কোনো বোতলজাত পানীয় এবং সফট ড্রিংকস গ্রহণ করা যাবে না।
লেখক: পুষ্টিবিদ; রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর


