ডা. শাকিল মাহমুদ
শীতে পরিবেশের তাপমাত্রা উঠানামা করে। মানবদেহের তাপমাত্রাও উঠানামা হয়। এতে মানবদেহের বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
সাধারণত শিশু, সন্তানসম্ভবা নারী, প্রবীণরা শীতে বেশি আক্রান্ত হয়। এই সময়ের প্রচলিত অসুখ হলো— ঠান্ডা-কাশি, গলাব্যথা, অ্যাজমা, অ্যালার্জি, নিউমোনিয়া, সিওপিডি ইত্যাদি। শীতে সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
- ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: মাল্টা, লেবু, কমলা ইত্যাদি।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শীতে ব্যায়াম করতে হবে। বাইরে না যেতে পারলেও ঘরে করা যায় এমন ব্যায়াম করুন।
- এই সময় ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বকের সমস্যা এড়াতে ময়েশ্চারাইজার, জলপাইয়ের তেল ও নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।
- এ ছাড়া ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘কে’ ত্বকের জন্য উপকারী। এই ধরনের ভিটামিন জাতীয় খাবার বেশি করে খান। যেমন: কাঠবাদাম, ব্রকলি, আমলকী, পেয়ারা, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি।
- শীতে জয়েন্টব্যথা বাড়তে পারে। তাই শীতের শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
- শীতে ধুলা-বালি থেকে বাঁচতে মাস্ক পরুন। এ ছাড়া ঘর পরিষ্কারের সময়ও মাস্ক ব্যবহার করুন।
- ঠান্ডা-কাশি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।
- শীতের সবজিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। এগুলো খেতে হবে। যেমন: গাজর, শসা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি।
- বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী। তাই অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
লেখক : চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ (সাভার)


