ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন
সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সকেই আমরা বয়ঃসন্ধি বলি। ত্বক ও চুলের যত্নে বয়ঃসন্ধিকাল বেশ ভালো সময়। শৈশবে শিশুর ত্বক ও চুলের যত্ন সাধারণত মা বা পরিবারের অন্য় সদস্যরা নেন। তবে একজন মানুষ কৈশোরে পা দিলে সে নিজেকে বুঝতে ও জানতে শুরু করে।
এই সময় থেকেই ত্বক ও চুলের যত্ন সঠিকভাবে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সেগুলো সুস্থ, সুন্দর ও রোগমুক্ত থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয়, প্রিম্যাচিউর অ্যাজিং— অর্থাৎ বয়সের আগেই ত্বক ও চুল বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েরা ত্বক ও চুলের যত্নে সাধারণত দুই ধরনের ভুল করে। একটি হলো, যত্নে অনীহা; অন্যটি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া।
যত্নে অনীহা
বয়ঃসন্ধিকালে অনেকে মনে করে, এই সময় ত্বক ও চুলের যত্নের প্রয়োজন নেই। এক ধরনের উদাসীনতা দেখা যায় তাদের ভেতর। সেই সঙ্গে তাদের জীবনযাপনও থাকে অনিয়ন্ত্রিত। সঠিক পুষ্টিকর খাবার না খেয়ে সাধারণত জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড বা ভাজাপোড়া-জাতীয় খাবারে তারা অভ্যস্ত থাকে। তার ওপর রয়েছে ঠিকমতো না খাওয়া, ঘুমের ত্রুটি ইত্যাদি। এখন শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি। এসবের প্রভাব তাদের শরীরের সঙ্গে ত্বক ও চুলেও পড়ে।
অনেকে আবার এতো উদাসীন, নিয়ম করে চুলের যত্নটাও নেয় না। আঁচড়ানো, পরিষ্কার করা, সুন্দর করে মুছে বাতাসে শুকানো— সেটিও তারা করে না বা জানে না। এতে চুল পড়া থেকে শুরু করে মাথার ত্বকে সমস্যা বা উকুন ইত্য়াদি হতে দেখা যায়।
অনেকে এই বয়সে চিরুনি ও তোয়ালেও একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে চুলের সমস্যা থেকেই যায়।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা ত্বকের যত্নে একটু বেশি উৎসাহী। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিত্য়নতুন পণ্য, চলতি মেকআপ ট্রেন্ড সম্পর্কে জানা যায় খুব সহজে। এতে বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয় তারা এবং কিছু না বুঝেই সেগুলো কিনে ব্যবহার করতে শুরু করে। ত্বক ও চুলের ধরন না বুঝে এগুলো ব্যবহারের কারণে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আবার দেখা যায়, সঠিক বয়সের আগেই এমন কিছু পণ্য মাখছে, যেগুলো ত্বকের জন্য় ক্ষতিকর।
অনেকের আবার এই বয়সে মেকআপের প্রতিও ঝোঁক থাকে। তারা মেকআপ বেশি করে। এতে ত্বকের সমস্যা হয়। চিন্তার বিষয় হলো, মেকআপ করার পর তারা ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করে না।
হেয়ার স্টাইলিংয়ে অনেকেই ব্লো ড্রাইসহ নানাভাবে চুল হিট করতে চায়। তবে বুঝতে হবে, অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অতিরিক্ত গরম–দুটোই চুলের টেক্সারের জন্য ক্ষতির। অনেকে রং করে ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে। এসবও চুলের জন্য সমস্যার।
লেখক: প্রধান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ; রিজুভা ওয়েলনেস।


