Monday, May 18, 2026
spot_img
Homeজীবনের খুঁটিনাটিসম্পর্কের যত্ন নিচ্ছেন তো ?

সম্পর্কের যত্ন নিচ্ছেন তো ?

শাশ্বতী মাথিন

ভালোবাসা নিয়ে কত কবিতা, কত গান। মানুষের জীবনে একটি বড় অংশ কেবল একেই কেন্দ্র করে। প্রিয় মানুষকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ, পেয়েও হারিয়ে ফেলার কষ্ট। মায়া, আবেগ- কত কি !

কারো কাছে ভালোবাসা শুধুমাত্র মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত হরমোন, যার স্থায়িত্ব বড় জোর তিন বছর। আবার কারো কাছে ভালোবাসা কেবল কামেরই বহিঃপ্রকাশ। সে যাই হোক, প্রেমের সংজ্ঞা ব্যক্তি ভেদে যতই ভিন্ন হোক না কেন, সম্পর্ক কিন্তু টিকে থাকে কেবল যত্নে। আর সেই যত্ন হতে হয়, সততা থেকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের চাইল্ড এডোলোসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কই দীর্ঘদিন টিকে থাকে যত্নের ভিত্তিতে। আর সেই যত্নের তিনটি মূল অংশ রয়েছে। বিশ্বাস, প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও পারস্পারিক আন্তরিকতা। গেইম (খেলা) করে বা প্রতারণা করে, আর যাই হোক সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

তবে একজন ব্যক্তি বড় হলে সম্পর্ককে কীভাবে নিতে শিখবে, সেটি কিন্তু শৈশব থেকেই অনেকটা তৈরি হয়ে যায়। শৈশবে বিকাশের সময়টা অত্যন্ত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে হলে বড় হয়ে সাধারণত মানুষটি সম্পর্ককে ঠিকঠাক ব্যবস্থাপনা করতে পারে না বা সম্পর্ক তৈরিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনটাই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

সম্পর্কে মোহ, প্রতারণা ও গেইম করার ইচ্ছা থেকে হলে, এখানে যত্ন আসে না। ব্যক্তির নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে যত্নটা স্বতস্ফূর্তভাবেই চলে আসে জানিয়ে ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে, সম্পর্কে প্রতিজ্ঞা বা দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে কি না। এরপর খেয়াল করতে হবে এতে পারস্পারিক সম্মানবোধটা কতটুকু রয়েছে। সবসময় আমি কী পেলাম, চিন্তা না করে- আমি কী দিচ্ছি, কতটুকু দিচ্ছি সেটাও ভেবে দেখতে হবে। এগুলো যত্নের মধ্যই পড়ে।’

এ ছাড়া সম্পর্ক আরো যত্নশীল করার কিছু উপায় বাতলেছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ওইকিহাউ। জানি সেগুলো –

অন্যকে শোনা ও বোঝার ক্ষমতা
অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও তাকে আবেগীয়ভাবে বুঝতে পারা, বড় গুণ। আপনার সঙ্গীর কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, বা সে আপনাকে কী বলতে চাইছে সেটি ভালোভাবে শুনতে ও বুঝতে চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

আশার জায়গায় পরিষ্কার হোন
প্রত্যেক সম্পর্কেই কিছু না কিছু আশা বা এক্সপেকটেশন থাকে।তবে সেই ক্ষেত্রে নিজে পরিচ্ছন্ন হোন এবং সঙ্গীকেও পরিষ্কার রাখুন। আপনি কতটুকু পারবেন, কতটুকু পারবেন না- পরিষ্কার করুন। সেই বোঝাপোড়া অনুযায়ীই সম্পর্ক আগান। না এগোতে পারলে থেমে যান। অযথা খেলতে যাবেন না। নিজে কোনো কাজ করছেন না, তবে চাইছেন আপনার সঙ্গী সেটি করবে- এটি কিন্তু অবান্তর ভাবনা। স্বাধীনতা নিজে চাইলে, অন্যকেও সমানভাবে দিতে হবে।

গুণগত সময় দিন
প্রত্যেকটি সম্পর্ক সময় চায়। প্রতিদিন অন্তত নির্দিষ্ট একটি সময় রাখুন সঙ্গীকে দেওয়ার জন্য। আর সেটি যেন হয়, কেবল আপনাদের দুজনেরই।

ছবি : কে ক্র্যাফট
ছবি : কে ক্র্যাফট

যোগাযোগের দক্ষতা
সম্পর্ক সুস্থ-স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগে দক্ষতা জরুরি। নিজে কী ভাবছেন, সেটি পরিষ্কারভাবে বলার চর্চা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন অন্যের মতামত গ্রহণ করা। পারিস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও বোঝাপড়াটা না থাকলে সম্পর্ককে কেবল টেনেই নিয়ে যাবেন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারবেন না।

ক্ষমা করুন এবং ক্ষমা চান
মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই ক্ষমা করুন ও চান। তবে একই ভুল বার বার করে ক্ষমা চাওয়া কিন্তু মোটেই কাজের কথা নয়। তাই কখন, কাকে ছাড় দিচ্ছেন, সেই বিষয়েও বিচক্ষণতা জরুরি।

নিজেকে ভালোবাসুন
নিজেকে ভালোবাসা মানে স্বার্থপরতা নয়। নিজের প্রতি যত্নশীল হলে, সম্পর্কগুলোর প্রতিও যত্নবান হওয়া যায়। আপনি সুখি থাকলে, অন্যকেও আনন্দে রাখতে পারবেন। তাই, সবার আগে নিজেকে ভালোবাসুন।

‘সম্পর্ক যেমন তৈরি হয়, তেমনি ভেঙেও যেতে পারে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। মিলনের মতো, বিচ্ছেদেও জীবনেরই অংশ। সম্পর্ক কাজ না করলে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়। কোনো টক্সিক সম্পর্কে থাকার চেয়ে একা চলার মানসিক শক্তিটা জরুরি,’ বলছিলেন ডা. হেলাল উদ্দিন। তবে সম্পর্ক না ভাঙ্গুক, পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও যত্নে তৈরি হোক শক্তিশালী বন্ধন। ভালোবাসা কেবল একটি দিনে সিমাবদ্ধ না থেকে, ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিদিনই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.