লিনা আকতার
রান্নার সময় অনেকেই বাড়তি লবণ ব্যবহার করেন। আবার খাবারের স্বাদ বাড়াতে বেকিং সোডা, সসও ব্যবহার করেন অনেকে। এগুলো মুখরোচক হলেও এসবের পরিমাণ কম রাখতে হবে।
আবার ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ ছিটিয়ে খাওয়া, টক বা মরিচের আচার, ফল খাওয়ার সময় লবণ-মরিচ ছিটিয়ে নেওয়া — এসব অভ্যাস এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ক্ষতি হয়তো আমরা টেরই পাই না। তবে শরীর ঠিকই হিসাব রাখে। লবণের বাড়তি সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের ওপর চাপ তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই চাপই রূপ নেয় উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে।
শুধু বড়রা নন, শিশু, কিশোর- কিশোরীও এসব খাবারে অভ্যস্ত। বাসায় বা স্কুল শেষে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় চিপস, চকলেট, বিভিন্ন রঙিন প্যাকেটজাত খাবার। দেখে মনে হয়, ছোট্ট একটা নাস্তা। তবে এগুলোতে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি ও ট্রান্সফ্যাট। এভাবে শিশুরা অল্প বয়স থেকেই এমন উপাদান গ্রহণ করে, যা ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যার নাম তেল। ভাজাপোড়া খাবার আজকাল নিত্যদিনের অভ্যাস। ডুবো তেলে সিঙ্গারা-সমুচা, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা বাসায় বারবার ব্যবহার করা তেল — এসবেই বৃদ্ধি পায় ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট। এতে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে ধমনী শক্ত হতে থাকে। দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়া একসময় হৃদরোগের দিকে ঠেলে দেয়।
সম্প্রতি বাসায় টেস্টিং লবণেরও ব্যবহার বেড়েছে। রান্নায় স্বাদ বাড়াবার নামে যে অতিরিক্ত সোডিয়াম যোগ হয়, তা লবণের মতোই রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। আবার ক্ষিধে পেলেই বাইরের ভাজাপোড়া বা ফাস্টফুড খাবার খাওয়া — এই প্রবণতাই বাংলাদেশের মানুষের হৃদরোগের বড় সহায়ক। সামান্য খাবারের স্বাদ বাড়াতে গিয়ে আমরা নিজের অজান্তেই হার্টের ক্ষতি করছি।
স্বাদ কমানো নয়, বরং সচেতনতা বাড়ান। লবণ কমান, তেল কমান, প্যাকেটজাত খাবারের পরিমাণ কমান। খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বড় বিপদ ঠেকাতে পারে।
অর্থাৎ, প্লেটে একটু কম লবণ আর কম তেল মানেই আপনার হার্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা।
লেখক: পুষ্টিবিদ;
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।


