সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
কাজ আদায়ের জন্য কখনো কখনো রাগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আপনি কথায় কথায় রাগ করতে থাকলে এবং এটি অভ্যাসে পরিণত হলে, সেটি কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
এই আচরণের কারণে সমস্যাতো বাড়বেই, পাশাপাশি আপনার শরীর খারাপ করবে; মন বিক্ষিপ্ত হবে। অতিরিক্ত রাগ অনেক সময় এমন ক্ষতি ডেকে আনে, যা হয়তো আর কোনোভাবেই ঠিক করা সম্ভব হয় না। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। রাগ নিয়ন্ত্রণের কিছু উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মায়োক্লিনিক।
জায়গা থেকে সরে আসুন
যেই অবস্থা, মানুষ বা জায়গা আপনাকে রাগান্বিত করছে, সেখান থেকে বা মানুষটির কাছ থেকে সরে আসুন; নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন। শুধ বলুন, ‘আমার এই মুহূর্তে খুব রাগ হচ্ছে। আমি একটু ঠান্ডা হয়ে নিই। এরপর এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো।’ এরপর নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন এবং পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন।
গভীরভাবে শ্বাস নিন
রাগের সময় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত বা ছোট হয়ে যায়। নিজেকে শান্ত করতে গভীরভাবে শ্বাস নিন। গভীরভাবে নাক দিয়ে দম নিয়ে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। অন্তত পাঁচ থেকে সাত বার কাজটি করুন। এটি আপনাকে কিছুটা হলেও শান্ত করবে।
উল্টোদিকে গণনা
খুব উত্তেজিত হয়ে গেছেন মনে হলে উল্টোদিকে গণনা শুরু করুন। যেমন: ১শ, ৯৯, ৯৮, ৯৭….ইত্যাদি। মস্তিষ্ক এই কাজে লেগে থাকলে, এটি আপনার আবেগকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। পাশাপাশি রেগে গিয়ে হুটহাট কিছু বলার ক্ষেত্রেও বাধা পাবেন।
পরিশ্রম হবে এমন কাজ করুন
রাগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে পরিশ্রম হবে এমন কোনো কাজ করা শুরু করে দিন। যেমন: হাঁটা, ঘর পরিষ্কার, স্ট্রেচিং ইত্যাদি।
মনকে বর্তমানে স্থিতিশীল করুন
তর্ক করা থামিয়ে, আপনার আশেপাশে চলছে এমন পাঁচটি জিনিস শোনার চেষ্টা করুন। দেয়াল বা পর্দার রং দেখতে থাকুন। আশেপাশে রয়েছে এমন চারটি জিনিস স্পর্শ করুন। এসব কাজ আপনার নেতিবাচক আবেগের কিছুটা হলেও লাগাম টানবে।
গভীরে গিয়ে আবেগকে বুঝুন
রাগের সময়ের প্রাথমিক অবস্থা কাটিয়ে নেওয়ার পর গভীরে গিয়ে বিষয়টি চিন্তা করুন। আপনি কেন রেগে যাচ্ছেন? এর কারণ কি আপনার জীবনের পুরোনো কোনো ট্রমা নিরাময় না হওয়া, না কি অন্য কিছু? প্রয়োজনে খাতায় লিখে ফেলুন চিন্তাগুলো। নিজে নিজে সব সমস্যার সমাধান করতে না পারলে কাছের ও বিশ্বস্ত কারো সাহায্য নিন। প্রয়োজনে কাউন্সেলরের কাছে যান। যেই জিনিস আপনার জন্য ক্ষতির, সেটি কেন করবেন বলুন তো?


