সায়মা সাফীজ সুমী
আগামী ১১ মে ‘বিশ্ব মা’ দিবস। মা দিবসকে ঘিরে লিখেছেন মেডিটেশন ও ইয়োগা সেন্টার ‘প্রশান্তি’- এর প্রতিষ্ঠাতা সায়মা সাফীজ সুমী।
তিন সন্তানের জননি হয়েও যার তেমনভাবে গর্ভধারিণী হয়ে উঠা হয়নি, তার হাতেই হোক মা-কে ঘিরে লেখা। বেশ গোলমেলে ঠেকছে তাই তো? আসুন তা হলে জানি, ‘মা’ শব্দটি বা বিষয়টির ব্যপ্তি সম্পর্কে।
‘মা’ বিষয়টি কি কেবলই গর্ভধারণের ভেতরেই সীমাবদ্ধ? বিষয়টি মোটেও তা নয়। যেকোনো নারী ‘মা’ না হয়েও মাতৃত্ববোধে পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারেন। আবার কোনো পুরুষের মাঝেও থাকতে পারে এই গুণ।
তবে এটি ঠিক আমাদের প্রত্যেকের বাইলোজিক্যাল একজন মা তো থাকেন। তা না হলে ধরাতলে আসা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। তারপরও মাকে ঘিরে এই লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, যে কেউ যেকোনো সময় যে কাউকে মা বলে ডাকতে পারেন, যদি মানুষটিকে তার মাতৃত্ববোধে পূর্ণ মনে হয়।
মা হতে হলে কেবলই রক্তের সম্পর্ক বা খুব কাছের পরিচিত জনই হতে হবে বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে নিজের ভিতর থেকে এর জন্য প্রচণ্ড শ্রদ্ধা, ভক্তি বা ভালো লাগা থাকতে হবে। সঙ্গে একটা আত্মীক সংযোগবোধ করাও জরুরি। তাহলে আসলে বিষয়টি সঠিকভাবে প্রস্ফুটিত হয়।
আমাকে যারা ‘মা’ ডাকেন, তারা কেবল আমার চেয়ে বয়সে ছোট নয়। বরং আমার চাইতে অনেক বড় প্রায় ৮২ বছর বয়সের একজন রয়েছেন। এমনকি অনেকে অন্য দেশেরও। তারপরও আমাকে ‘মা’ ডাকেন।
এতো কিছু বলার আসলে একটাই কারণ মা হতে হলে, কেবল পেটে ধরতেই হবে বা নারী বা পুরুষই হতে হবে বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। আসলে মানুষটির ভিতর মাতৃত্ববোধ বিষয়টি থাকতে হবে ভিতর থেকে।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এখন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাবা-মা হওয়া সম্ভব সারোগেসির মাধ্যমে। এ ছাড়া বড় একটা মানবিক বিষয়ও রয়েছে যেমন দত্তক নেওয়া। এর মাধ্যমেও নিজের মাতৃত্বের মানবিক ইচ্ছেকে সার্থক করা সম্ভব।
এবারের মা দিবসকে সামনে রেখে, আমি আসলে প্রথাগতভাবে মা হওয়ার বাহিরেও যে মাতৃত্ব সম্ভব সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। জগতের সকল মা ভালো থাকুক শারীরিক, মানসিক ও আত্মীকভাবে।
আর হ্যাঁ, যেকোনো মাকে সম্মান, শ্রদ্ধা করার ভেতরেই সার্থক হয়ে উঠবে এই বিশেষ দিন জগত জুড়ে।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ‘প্রশান্তি’;
প্রশান্তি একটি মেডিটেশন ও ইয়োগা সেন্টার।


