রফিক- উল- আলম
ওজনের সঙ্গে আবার সন্তান হওয়া-না হওয়ার সম্পর্ক কী? প্রায়শই আমার চেম্বারে বন্ধ্যত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসা একশ্রেণির রোগীদের কাছ থেকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হই।
অনেকেই তাদের সন্তান হতে সমস্যা হওয়ার ক্ষেত্রে ওজনের বিষয়টি কেনো যেনো মেনে নিতে পারে না। মূলত, এই বিষয়ে অজ্ঞতা ও অসচেতনা থেকেই এমন ধারণার উৎপত্তি। অথচ বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটির সঙ্গে ওজনের এক নিবিড় ও নীরব সম্পর্ক রয়েছে। যদিও প্রায়শই এটি উপেক্ষিত হয়।
কম ওজন (Under Weight) যেমন সন্তান না হওয়া বিলম্বিত করে, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা (Over Weight – Obesity) একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। আর তা শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়ের বেলাতেই।
কোনো বৈজ্ঞানিক বিদ্যা জাহির না করে সকলের বোঝার জন্য খুব সহজ ভাষায় ছোট্ট করেই বলবো, ফার্টিলিটি বা গর্ভধারণের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় হরমোনগুলো রয়েছে, সেগুলো কম ওজন বা অতিরিক্ত ওজনের মেয়েদের বেলায় অনেক সময় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এতে সন্তান ধারণের অতি পূর্বশর্ত ওভুলেশন বা ডিম্বোস্ফুটনে বাধার সৃষ্টি হয়। ডেকে আনে বন্ধ্যত্ব।
অতিরিক্ত ওজন ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়, ডিম্ব প্রতিস্থাপিত ঘটাতে (Implantation) ব্যর্থ হয়, এমনকি ক্রুটিপূর্ণ গর্ভধারণ ডেকে আনাসহ গর্ভপাতের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যাদের পিসিওএস ও পিসিওডি রয়েছে, তাদের জন্য তো অতিরিক্ত ওজন সন্তান না হবার পেছনের এক ভয়ঙ্কর খলনায়ক। আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবির সফলতার ক্ষেত্রেও এটি একটি প্রতিবন্ধকতা।
অন্যদিকে স্থূলতা পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের মাত্রা কমায় এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমিয়ে দেয়। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের কারণে যৌন মিলনের আগ্রহ বা ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়ে মেল ইনফার্টিলিটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সামান্য বেশি ওজনও যে কারো (বিশেষ করে মেয়েদের) গর্ভধারণ হওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আর এর নজির তো প্রতিনিয়তই আমরা অনেক পাই। সুতরাং সন্তান প্রত্যাশীদের বলবো, নির্ঝঞ্জাটে গর্ভধারণ করতে চাইলে সকলকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা দরকার। আর এই জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যভ্যাস। প্রয়োজন ফাস্ট ফুড, চিনি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করা।
নিয়মিত শরীরচর্চা, দৈনিক হাঁটা, যোগ বা হালকা ব্যায়াম নারী-পুরুষের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে, বন্ধ্যত্ব একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। কোনো অভিশাপ নয়। ওজন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দিলে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যায়।
লেখক:
কন্সালট্যান্ট; আইভিএফ অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি কাউন্সেলর;
ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা
ফোন: ০১৬৮৪৩৪২৪৪৯


