সাতকাহন২৪.কম ডেস্ক
চুলের জন্য বিভিন্ন তেলের গুণের কথা তো অনেকেরই জানা। তবে লোশন ও ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও কিছু ভালো তেল রয়েছে, সেটি কি সবাই জানেন?
হ্যাঁ, ঠিক তাই। ত্বকের যত্নেও এমন কিছু তেল রয়েছে, যা বেশ কার্যকর। আর যুগের পর যুগ ধরে ব্যবহৃতও হয়ে আসছে। ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, এমন কিছু তেলের কথা চলুন জানি—
টি ট্রি অয়েল বা টি ট্রির তেল
- টি ট্রি অয়েলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। এগুলো ব্রণ তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে।
- এই তেল ত্বকের দাগ কমাতে উপকারী।
- টি ট্রি অয়েলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়।
- এটি ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিকেরও কাজ করে। এতে ক্ষত সারতে সুবিধা হয়।
বি: দ্র:– তবে এই তেল সরাসরি ত্বকে ব্যবহারের বেলায় বিধিনিষেধ রয়েছে। সাধারণত অন্য কোনো উপাদান বা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা হয়।
ইউক্যালিপটাস অয়েল বা ইউক্যালিপটাসের তেল
- ত্বকের অস্বস্তি, লালচে ভাব (রেডনেস) বা স্পর্শকাতরতা (সেনসিটিভিটি) প্রতিরোধে ইউক্যালিপটাসের তেল কার্যকর।
- এর মধ্যে থাকা উপাদান ত্বককে আর্দ্র করতে ও প্রদাহ কমাতে উপকার করে।
- ইউক্যালিপটাস তেলের মধ্যে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যানালজেসিক উপাদান রয়েছে। এগুলো ক্ষত সারাতে এবং ব্রণ প্রতিরোধে কার্যকর।
- এই তেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিবেশগত ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
বি: দ্র:– এটির ক্ষেত্রেও সরাসরি ত্বকে ব্যবহারে নিষেধ রয়েছে। এটিও অন্য কোনো উপাদান বা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আমন্ড অয়েল বা কাঠবাদামের তেল
- কাঠবাদামের তেল খুব দ্রুত ত্বকে মিশে যায়। এটি শুষ্কতা ও খসখসে ভাব কমায়; আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই তেল ত্বককে সার্বিকভাবে ভালো রাখতে উপকারী।
- এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ক্ষতের দাগ সারাতে কার্যকর।
- এই তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অ্যাজিং উপাদান, অর্থাৎ এটি ত্বকের দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া বা অকালবার্ধক্য প্রতিরোধ করে।
- তেলটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে ব্রণ প্রতিরোধ হয়।
অ্যালোভেরা অয়েল বা অ্যালোভেরার তেল
- এই তেল ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্র করে; শুষ্কতা ও ফাটা ভাব কমায়।
- অ্যালোভেরা ত্বকের কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে বলিরেখা ও দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ হয়।
- রোদে পোড়া ত্বককে অনেকটা সারাতে এই তেল উপকারী।
- অ্যালোভেরার তেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘ই’ সার্বিকভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
কােকোনাট অয়েল বা নারকেল তেল
- এই তেল ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্র রাখে; শুষ্কতা কমিয়ে নরম করে।
- ত্বকের কালো দাগ, লালচে ভাব, অসম রং (অর্থাৎ কোথাও উজ্জ্বল বা কোথাও গাঢ় রং) কমাতে কার্যকর।
- নারকেল তেলের মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি এসিড। এটি ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- এই তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ফ্রি র্যাডিক্যালের সঙ্গে লড়াই করে ত্বককে সুরক্ষা দেয়।
অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল
- জলপাইয়ের তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ফ্রি র্যাডিক্যালের সঙ্গে লড়াই করে; ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়।
- এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘ডি’, ভিটামিন ‘ই’ ও ভিটামিন ‘কে’। এসব ভিটামিন ত্বকের জন্য উপকারী।
- জলপাইয়ের তেলে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর।
- জলপাইয়ের তেল গভীরভাবে আর্দ্র করে ত্বককে নরম রাখে; শুষ্কতা, লালচে ভাব ও খসখসে ভাব কমায়।
এখানে বর্ণনা করা প্রতিটি তেল ত্বকের জন্য উপকারী এবং নিজস্ব গুণে ভরপুর। তবে এই ছয়টি তেলের গুণাগুণ একত্রে পেয়ে যাবেন ‘উজ্জ্বলা কেয়ার স্কিন লাইটেনিং বডি অয়েল’-এ। উপরে উল্লিখিত ছয়টি তেল একসঙ্গে মিশিয়ে বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জ্বলা কেয়ার’ তৈরি করেছে এই বডি অয়েল।
এই তেল ব্যবহারে ত্বক চিটচিটে হবে না, আর্দ্র থাকবে দীর্ঘক্ষণ। প্রতিদিন ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল। পাশাপাশি দাগ ও রোদে পোড়া ভাব কমবে। এ ছাড়া শুষ্কতা কমে ত্বক নরম হবে। তাই অনেক গুণ একসঙ্গে একটি তেলের মধ্যে পেতে এবং ত্বক ভালো রাখতে বেছে নিতে পারেন ‘উজ্জ্বলা কেয়ার স্কিন লাইটেনিং বডি অয়েল’।


