নিশাত শারমিন নিশি
জরায়ুর ভেতরের একটি স্তর হলো এন্ডোমেট্রিয়াম। অ্যাডিনোমায়োসিস হলে এই এন্ডোমেট্রিয়ামের কোষগুলো জরায়ুর পেশিতে— যাকে বলা হয় মায়োমেট্রিয়াম— সেখানে অস্বাভাবিকভাবে ঢুকে পড়ে।
এই সমস্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে ভারী বা বড় জরায়ু, দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা, পিরিয়ডের সময় বেশি রক্তপাত হওয়া, পিরিয়ড বেশিদিন চলা, যৌনমিলনে ব্যথা অনুভব হওয়া ইত্যাদি অ্যাডিনোমায়োসিসের লক্ষণ।
সাধারণত এ ধরনের গাইনিগত সমস্যায় কিছু খাবার কম খাওয়া বা একেবারে এড়িয়ে যাওয়া ভালো। পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেক ধরনের অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যেসব খাবার এড়িয়ে যাবেন
- প্রক্রিয়াজাত খাবার;
- ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার;
- চা-কফি;
- ফ্রিজে রাখা অনেক দিনের বাসি খাবার;
- ভাজা-পোড়া।
যেসব খাবার খেতে পারেন
- জিরা পানি, তুলসী পানি ইত্যাদি ডিটক্স ওয়াটার;
- ওটসের খিচুড়ি বা রুটি খেতে পারেন;
- চিড়ার পোহা খাওয়া যেতে পারে;
- স্ন্যাক্স হিসেবে সালাদ রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মৌসুমি ফলের সালাদ উপকারী। এগুলো বরাবারই স্বাস্থ্যকর;
- গরমের সময় ডাবের পানি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে;
- মুগডালের স্প্রাউট খেতে পারেন, তবে সেদ্ধ করে খাওয়া ভালো;
- অনেকের প্রশ্ন থাকে দুধ খাবেন কিনা? আসলে দুধ খাওয়াতে সরাসরি কোনো নিষেধ নেই। তবে কম খাওয়া ভালো। মাঝেমধ্যে বাদামের দুধ, নারকেল দুধও খেতে পারেন। তবে রোস্টেড বাদাম, ক্যানে থাকা বাদাম এড়িয়ে যেতে হবে।
লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ; পপুলার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল


