Thursday, February 12, 2026
spot_img
Homeমন জানালামিথ্যা বলার অভ্যাস কমাবেন কীভাবে?

মিথ্যা বলার অভ্যাস কমাবেন কীভাবে?

অধ্যাপক সানজিদা শাহরিয়া

মানুষ কখন মিথ্যা বলে? এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখবো, সাধারণত আত্মসম্মান হুমকির মুখে পড়লে, নিজের ইমেজ রক্ষা করতে মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মোটা দাগে তিনটি বিশেষ কারণে মিথ্যা বলে একজন ব্যক্তি।

প্রথমটি হলো, পারস্পারিক আদান-প্রদান। সামনের জন মিথ্যা বলছে, আমিও চট করে মিথ্যার মাধ্যমে একটা উত্তর দিয়ে দিলাম। এভাবে মিথ্যা বলার অভ্যস্ততা তৈরি হয়। দ্বিতীয়টি হলো, শাস্তি এড়াতে। আমি সত্যি কথা বললে অপর ব্যক্তিটি হয়তো কোনোভাবে আমাকে শাস্তি দেবে। আমি সেই শাস্তিটা নেবো না। এর জন্য আমি মিথ্যা বলছি। তৃতীয়টি হলো, ঘনিষ্টতার চাহিদা। হতে পারে, আমার কাছে ঘনিষ্ঠতা মানে বিকেলবেলা দুজনে মিলে বসে এক কাপ চা খাওয়া। তবে অপর মানুষটির কাছে ঘনিষ্ঠতা মানে, বন্ধুদের সঙ্গে ভরভরন্ত আড্ডা দেওয়া। এখন সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যাবে, আমার কাছে থাকবে না। তখন সে একটা মিথ্যা কথা বললো। এতে আমার সঙ্গে নকল ঘনিষ্ঠতাও বজায় রাখলো। আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় প্রয়োজনও পূরণ হলো।

মানুষ কত বছর বয়স থেকে মিথ্যা বলা শুরু করে? গবেষণা বলছে, একটা ছয় মাসের শিশুও নকল কান্না করে মা-বাবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। আর চার বছর বয়সে সে পারদর্শিতা লাভ করে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে। মজার ব্যাপার হলো, মানুষ যত মিথ্যা বলে, তার অপরাধবোধ তত কমতে থাকে। আস্তে আস্তে বেশি মিথ্যাবাদী হয়ে উঠে সে। এই জায়গাটাকে বলা হচ্ছে, প্যাথোলজিক্যাল লায়ার। ইদানিং নিউরোসাইন্স বলছে, যারা প্যাথোলজিক্যাল লায়ার, তাদের মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারের গঠনে কিছু তারতম্য রয়েছে। এর মানে মিথ্যাকে যত চর্চা করা হবে, এটি তত আমাদের ঘিরে ধরবে। আর এটি কিন্তু নৈতিক উপদেশ দিয়ে কমানোর কোনো উপায় নেই। কারণ,ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ জানে না, সে কোথায় মিথ্যা বলছে।

প্রকৃতিতে শুধু কি মানুষই মিথ্যা বলে? দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির পাখি, মাছ, কাঠবিড়ালীও আচরণগতভাবে কিছু মিথ্যা কাজ করে দেখায়।

মিথ্যা কমাতে সচেতনতার উপায় কী? এর একমাত্র উপায় হলো, নিজের চোখে আয়না ধরা। লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন, ‘সত্যি বলার অভ্যাস থাকলে, তোমাকে কিছু মনে রাখতে হবে না।’ আমি যেই মিথ্যাটি বলছি, সেটি কেউ না জানলেও আমি তো জানি। নিজের দায়ভার নিজেকেই নিতে হবে। আজ দায়ভার না নিলে আগামীকাল কোনো কোনো জায়গায় আটকে তো যাবোই, বড় ধরনের বিপদে পড়ারও আশঙ্কা থাকবে।

লেখক
চিকিৎসক, কাউন্সেলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার,
ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

সাতকাহন
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.