https://www.fapjunk.com https://pornohit.net london escort london escorts buy instagram followers buy tiktok followers
Thursday, February 22, 2024
spot_img
Homeঅন্যান্যবঙ্গবন্ধু ও ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

বঙ্গবন্ধু ও ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

অধ্যাপক শরিফা রাজিয়া

৭ই মার্চ। জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে লাখো জনতার সামনে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে এই যুগান্তকারী ভাষণ এ দেশের মানুষকে চূড়ান্তভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

আমরা জানি, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে বৈষম্য শুরু হয়। এ দুটি রাষ্ট্রের মানুষের মাঝে ছিল ভাষা ও সংস্কৃতিগত পার্থক্য। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ছিল অমিল। পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি পাকিস্তান সরকারের ঔপনিবেশিক আচরণের ফলে এ অঞ্চলের মানুষ চরমভাবে শোষণ নিপীড়নের শিকার হয়। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদনের উপাদানের অসম বণ্টন হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে পূর্ব বাংলা। পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি পণ্য থেকে অর্জিত আয়, জাতীয় বাজেটের বরাদ্দসহ বৈদেশিক সাহায্যের সিংহভাগ অংশ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো। বেশির ভাগ শিল্প, কলকারখানা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পূর্ব পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ছিল দ্বিগুণ। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরি ও সেনাবাহিনীতে বাঙালিরা ছিল অবহেলিত। প্রায় সব ক্ষেত্রেই উচ্চপদগুলো ছিল পশ্চিমাদের দখলে। শিক্ষাখাতে পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। সে সময় বিনিয়োগের অভাবে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষার বিষয়েও পাকিস্তান সরকার ছিল উদাসীন। পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি সরকারের অবহেলা এতটা প্রকট ছিল যে ১৯৭০ সালে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হলেও পাক সরকার ছিল নিষ্প্রভ। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শাসন ক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর নিপীড়ন ছিল ভয়াবহ। ধর্মীয় সংস্কৃতি ও এলিট শ্রেণির ভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

তরুণ রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সাল থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকচক্রের এই বৈষম্যমূলক আচরণ ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তিনি এ দেশের মানুষের ঘুমন্ত সত্ত্বাকে জাগ্রত করে হৃদয়ে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটান। পূর্ব বাংলার মানুষ স্বাধিকার এবং মুক্তির আকাঙক্ষায় উন্মুখ হয়ে উঠে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে। তাঁরই নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬ সালের বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ‘আমাদের বাঁচার দাবী’ ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুস বিজয় সূচিত হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদে এবং জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। জাতীয় পরিষদে পূর্ব বাংলার জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে। তবে এই অভূতপূর্ব বিজয়ের পরও পাকিস্তানি শাসকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩ মার্চের পূর্ব নির্ধারিত গণপরিষদের সাধারণ সভা স্থগিত করে দেন। তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পূর্ব বাংলার জনগণ। বঙ্গবন্ধু পাক সরকারের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ২ মার্চ থেকে ৫দিনের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে এ দেশের জনগণ একাত্মতা ঘোষণা করে। চারিদিকে মিছিল, সভা। উত্তাল হয়ে উঠে পূর্ব বাংলা। ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারদিক। অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। সমস্ত কিছুকে উপেক্ষা করে জনতা নেমে আসে রাজপথে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়। ৩ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ চূড়ান্ত কর্মসূচি দেবার ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিংবদন্তিতুল্য বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এইচ টি ইমাম লিখেছেন, ‘অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলোতে দেশের সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই তাদের দৈনন্দিন দায়িত্ব (শাসন কার্য) পালন করতে থাকেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর আদেশ নির্দেশই দেশের একমাত্র আইনে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর সকল প্রকার নির্দেশনা তাজউদ্দিন আহমদের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়ে প্রতিদিন সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়তো। কার্যত, এ সময় থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার অনানুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হয়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসে এক প্রামান্য দলিল। সেদিন রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য লাখো লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। সবাই অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলেন বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শোনার জন্য। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ নিপীড়িত জনগণের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু সভামে এসে উপস্থিত হলেন। চোখে মুখে তাঁর সোনালি স্বপ্ন। সে স্বপ্ন স্বাধীনতার স্বপ্ন। চারিদিকে স্বাধীনতাকামী জনতা। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত রেসকোর্স ময়দান। ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। কখনো বা সেই ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের ঐকতান আকাশে বাতাসে ধ্বণিত প্রতিধ্বনিত। মহাসমুদ্রের তরঙ্গ গর্জনের মতো বঙ্গবন্ধু সেই কালজয়ী ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি দিলেন। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠ অগ্নিস্ফূলিঙ্গের মতো উৎক্ষিপ্ত হলো। ছড়িয়ে পড়ল এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তিনি হয়ে উঠলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের কিংবদন্তী মহানায়ক। তাঁর সেই ভাষণে সূর্যের আলোর মতো প্রকাশিত হলো দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে পাকিস্তানি শাসকচক্রের এ দেশের মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে তার স্বরূপ, কেন আজ পূর্ব বাংলার মানুষ অসহযোগ আন্দোলনে নেমেছে তার ব্যাখ্যা, সারা বাংলার ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে প্রতিরোধ সৃষ্টি করাসহ তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করলেন ‘—এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

স্বনামধন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কৃতী গবেষক ড. হারুন-অর-রশিদ তাঁর ‘৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে লিখেছেন, ‘৭ই মার্চ নির্ধারিত সময়ে বঙ্গবন্ধু বিক্ষোভে উত্তাল রেসকোর্সের লাখো মানুষের সভায় এসে উপস্থিত হন। হৃদয়ে তাঁর বাঙালির হাজার বছরের মুক্তির আন্দোলন, সংগ্রাম ও স্বপ্ন। মাথার ওপর আকাশে ঘুরছিল পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান। এমনি এক সন্ধিক্ষণে তিনি তাঁর ১৮ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ জগৎবিখ্যাত ভাষণ দেন। অসাধারণ এক বক্তব্য। যেমনি সারগর্ভ, ওজস্বী ও যুক্তিপূর্ণ, তেমনি তির্যক, তীক্ষ্ম ও দিক-নির্দেশনাপূর্ণ। অপূর্ব শব্দশৈলী, বাক্যবিন্যাস ও বাচনভঙ্গি। একান্তই আপন, নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাঙালিদের অবস্থা ব্যাখ্যা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে বাঙালিদের দ্বন্দ্বের স্বরূপ তুলে ধরা, শান্তিপূর্ণভাবে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা, অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা, সারা বাংলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ, প্রতিরোধ সংগ্রাম শেষাবধি মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত, শত্রুর মোকাবিলায় গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন, যে-কোনো উস্কানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ ইত্যাদি বক্তব্যের পর ঘোষণা করেন : ‘…ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শক্রর মোকাবেলা করতে হবে …এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
সেদিন সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ঝড়ের বেগে এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি পৌঁছে গিয়েছিল। সমুদ্রের গর্জনের মতো সেই বজ্রকণ্ঠ সারা বিশ্বের মানুষ অবাক বিস্ময়ে শুনেছিল। এই ভাষণ ছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশের মুক্তিকামী সংগ্রামী জনতার কাছে মূলমন্ত্র এবং অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস।
এই কালজয়ী ৭ই মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ভাষণের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এবং বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত ও গৃহীত। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর ‘বিশ্ব-ঐতিহ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তা সংস্থাটির ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ -এ অন্তর্ভূক্ত করেছে।

এই কালজয়ী ভাষণ পূর্ব-বাংলার জনগণের ভেতরে প্রবলবেগে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে জনগণকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। এ যেনো ক্ষুরধার শব্দের বুননে, যুক্তিতে, তেজস্বিতায়, ভাবগাম্ভীর্যে, সুরের অনুরণনে এক শিল্পোত্তীর্ণ, কালোত্তীর্ণ দেশাত্মবোধের মহাকাব্য।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, কুমুদিনী সরকারি কলেজ

তথ্যসূত্র:
১.স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু প্রাসঙ্গিক ভাবনা: এইচ টি ইমাম
২.৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ: হারুন-অর-রশিদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments