https://www.fapjunk.com https://pornohit.net london escort london escorts buy instagram followers buy tiktok followers
Thursday, February 22, 2024
spot_img
Homeঅন্যান্য‘কারাগারের রোজনামচা’র আলোকে বঙ্গবন্ধু

‘কারাগারের রোজনামচা’র আলোকে বঙ্গবন্ধু

অধ্যাপক শরিফা রাজিয়া

মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের এই আলোকিত ক্ষণে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি জাতির পিতা এবং বাঙালি জাতির অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁরই নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত রূপ নিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। তিনি হাজার বছরের প্রাচীন একটি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন স্বদেশভূমি উপহার দিয়ে গেছেন। বাঙালিকে স্বাধীন জাতিরূপে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এ দেশের মানুষের মু্ক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বহু বছর পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েছেন। জেল, জুলুম, নির্যাতন কোনো কিছু তাঁকে পিছু হটাতে পারেনি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে স্বাধীনতা প্রাপ্তির সোনালি স্বপ্ন বাস্তবায়নে কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে গেছেন। নিজ আদর্শে থেকেছেন অবিচল। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। বাঙালির অধিকারের কথা বলেছেন নির্ভয়ে, নির্দ্বিধায়। ঘোর অমানিশার পথ অতিক্রম করে ছিনিয়ে এনেছেন কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধুর কারাগারে বসে লেখা দিনলিপি নিয়ে প্রকাশিত বাঙালির জীবনে অমূল্য সম্পদ ‘কারাগারের রোজনামচা’। এটি সময়ের ঐতিহাসিক দলিল। বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা আন্দোলন ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর কারাগারে অন্তরীণ থাকাকালীন দিনলিপির বিবরণ নিয়ে ‘কারাগারের রোজনামচা’ লেখা হয়েছে।

আমরা জানি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থানের ইতিহাসে ৬ দফার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমগ্র পূর্ববাংলায় প্রচারাভিযান চালান। তিনি একে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। এই ৬ দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আপাময় জনসাধারণকে পাকিস্তান সরকারের পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নীলনকশা বুঝাতে সক্ষম হন। বাংলার মানুষ ব্যাপকভাবে ৬ দফার প্রতি সমর্থন জানান। তাই এই দফা হয়ে উঠে দেশের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ। ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রতি জনসমর্থনে উত্তাল হয়ে উঠে পূর্ববাংলা। স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয় এবং ১৯৬৬ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। এই ৬ দফার ভিত্তিতেই স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন পরিচালিত হতে থাকে। এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ’৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৬ দফার প্রতি বাঙালির অকুণ্ঠ সমর্থনে রচিত হয় স্বাধীনতার রূপরেখা।’

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে; ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে তাঁর রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেয়। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে জেলজীবনের বিচিত্র ঘটনা ও অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তিনি ‘থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল’ এই রোজনামচার একটি শিরোনামও দিয়েছেন।

পুরো গ্রন্থটিতে তৎকালীন শোষণলিপ্সু পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, ৬ দফা আন্দোলনের ব্যাপকতা, উত্তাল আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের নির্যাতন, গ্রেফতার, হত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, কারাবাস জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাপ্রসূত উপলব্ধি, দুঃখী মানুষের প্রতি প্রবল মমত্ববোধ, পরিবারের সদস্যদের অপরিসীম আত্মত্যাগ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, প্রকৃতির অনুষঙ্গসহ অন্যান্য বিষয়ও উঠে এসেছে।

এই রোজনামচায় একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ, সূক্ষ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, মানবদরদী সাহসী বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি তাঁর সৌন্দর্যবোধসম্পন্ন কাব্যিক মানসিকতার পরিচয়ও ফুটে উঠেছে।

বইটির কারাগারের রোজনামচা নামকরণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। এ গ্রন্থ থেকে জাতি জানবে বঙ্গবন্ধুর কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রকৃত ইতিহাস। গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সাথে জীবনসম্পর্কিত দার্শনিক উপলদ্ধির অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা অর্জনের সোপানগুলো যে কত বন্ধুর পথ অতিক্রম করে এগুতে হয়েছে তার কিছুটা এই কারাগারের রোজনামচা বই থেকে পাওয়া যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশ ও স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা বাঙালি পেয়েছে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, সেই সংগ্রামে অনেক ব্যথা-বেদনা, অশ্রু ও রক্তের ইতিহাস রয়েছে। মহান ত্যাগের মধ্য দিয়ে মহৎ অর্জন করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন; ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন। বাংলার শোষিত বঞ্চিত মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছেন।

বাংলার মানুষ যে স্বাধীন হবে এ আত্মবিশ্বাস বারবার তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে। এত আত্মপ্রত্যয় নিয়ে পৃথিবীর আর কোনো নেতা ভবিষ্যদ্বাণী করতে পেরেছেন কি না আমি জানি না।’

‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থের ‘থালাবাটি কম্বল জেলখানার সম্বল’ শিরোনামের অংশটি বঙ্গবন্ধুর কারাবাস জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার ফসল। তিনি বদ্ধ কারাপ্রকোষ্ঠে বসে জেলখানার অবস্থা, কয়েদিদের জীবনের বিচিত্র ইতিহাস সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কারাগারে অনেক ধরনের অপরাধী থাকে তাদের কথা, কেমন করে তারা অপরাধ জগতে এসেছে, কয়েদিদের নিদারুণ কষ্ট উঠে এসেছে এসব লেখায়। এ যেনো সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন একজন সাহিত্যিকের জীবনদর্শনের প্রতিফলন।

কারাগারের অবস্থা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘জেলের ভিতর অনেক ছোট ছোট জেল আছে। জেলের কাজ কয়েদিরাই বেশি করে; অফিসারদের সাহায্য করে, আলাদা আলাদা এরিয়া আছে। হাজতিরা এক জায়গায় থাকে। সেখান থেকে তারা বের হতে পারে না। রাজবন্দিরা আলাদা আলাদা জায়গায় থাকে। সেখান থেকে তারা বের হতে পারে না। কয়েদিদের জন্য আলাদা জায়গা আছে, ছোট ছোট দেয়াল দিয়ে ঘেরা। তার মধ্যেই থাকতে হয়। আর একটা এরিয়া আছে যাকে বলা হয় সেল এরিয়া। যেখানে জেলের মধ্যে অন্যায় করলে সাজা দিয়ে সেলে বন্ধ করে রাখা হয়।’(পৃষ্ঠা-২৭, কারাগারের রোজনামচা)

জেলের কয়েদীদের নিয়মিত গুণতে হয়। তাদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, হাসপাতাল সবই আছে। সন্ধ্যায় সবাইকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু কারাগারের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত বিচিত্র সব শব্দের কথা বলেছেন। প্রতি শব্দেরই আলাদা অর্থ রয়েছে। যাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয় তার ওপর ভিত্তি করেই এসব শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন রাইটার দফা, চৌকি দফা, জলভরি দফা, ঝাড়ু দফা, বন্দুক দফা, পাগল দফা, শয়তানের কল, দর্জি দফা খাতা, মুচি খাতা, আইন দফা, ডালচাকি দফা, হাজতি দফা ইত্যাদি।

মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর প্রবল মমতা ছিল। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানুষ কখনো পাপী হয়ে জন্ম নেয় না, তবে অভাবের তাড়নায় অথবা পরিবেশের শিকার হয়ে পাপের পথে পা বাড়ায়, প্রবেশ করে অন্ধকার জগতে। অশ্রুসিক্ত চোর, পকেটমার লুদুর জীবনের কাহিনী উঠে এসেছে তাঁর দিনলিপিতে। তার জীবনের করুণ কাহিনী তিনি আগ্রহ ভরে শুনেছেন ও লিখেছেন। লুদু দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে একসময় এই পাপের পথে পা বাড়ায়। চোর গোপাল তাকে এ পথে যেতে প্ররোচিত করে। লুদুর নষ্ট হয়ে যাওয়ার পিছনে সমাজের অবস্থাই দায়ী।

বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘মনুষ্যচরিত্র সম্বন্ধে, যারা গভীরভাবে দেখতে চেষ্টা করবেন, তারা বুঝতে পারবেন আমাদের সমাজের দুরবস্থা এবং অব্যবস্থায় পড়েই মানুষ চোর ডাকাত পকেটমার হয়। আল্লাহ কোনো মানুষকে চোর ডাকাত করে সৃষ্টি করে না।’ (পৃষ্ঠা-৪৮, কারাগারের রোজনামচা)

জেলে বন্দি পাগলদের জীবনের অসহনীয় নিদারুণ কষ্টের কথাও তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে। পাগল হলেও ওরা বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করতো। পাগল কফিলউদ্দিন যখনই বঙ্গবন্ধুর সামনে দিয়ে যেতো আদাব দিয়ে যেতো। তিনি খবর নিয়ে পরে জেনেছিলেন কফিলউদ্দিন একজন স্কুল মাস্টার ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সংবেদনশীল হৃদয় ওদের জন্য কেঁদে উঠতো।

জেলখানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই অসৎ; যাদের কয়েদিদের প্রতি কোনো মমতা নেই। এই বিষয়টিও বঙ্গবন্ধুকে পীড়িত করেছে। বঙ্গবন্ধুর লেখনীতে উঠে এসেছে তাদের কথা।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘অনেক ডাক্তার দেখেছি যারা কয়েদিদের কয়েদিই ভাবে, মানুষ ভাবে না, রোগ হলে ঔষধ দিতে চায় না। পকেটে করে ঔষধ বাইরে নিয়ে বিক্রি করে। ঘুষ খায়, চিকিৎসা করার নামে।’(পৃষ্ঠা-৩৭, কারাগারের রোজনামচা)

একজন সাহিত্যিক যেমন অন্তর্দৃষ্টি মেলে জীবনকে বিশ্লেষণ করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করে, বঙ্গবন্ধুও জেলের ভেতরের কয়েদিদের সুখ-দুঃখময় জীবনের অনুভূতিগুলোকে সংবেদনশীল হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন অবলীলায়।

এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ বঙ্গবন্ধুর দিনলিপিগুলো সে সময়ের ঐতিহাসিক দলিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হলো।’

চলবে..

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, কুমুদিনী সরকারি কলেজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments